চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে পবিত্র তারাবির নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর থেকে এক ছাত্রশিবির নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যুবকের নাম জিহাদ (২০), যিনি বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জিহাদ মসজিদের ভেতরে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। এ সময় জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায়। মসজিদের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে তাদের হুমকি দেয়, ফলে প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হন।
আহত জিহাদের সহকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতগাহের ভেতরে ঢুকে এমন হামলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে পবিত্র তারাবির নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর থেকে এক ছাত্রশিবির নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যুবকের নাম জিহাদ (২০), যিনি বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জিহাদ মসজিদের ভেতরে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। এ সময় জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায়। মসজিদের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে তাদের হুমকি দেয়, ফলে প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হন। আহত জিহাদের সহকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতগাহের ভেতরে ঢুকে এমন হামলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)-কে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে তিনি তাঁকে দেওয়া অসংখ্য হুমকিমূলক কলের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। শেহরীন আমিন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই তিনি অনবরত প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই পর্যায়ে তিনি নবনির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি মেনশন করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রিয় তারেক রহমান। এটি কি আপনাদের সেই প্রতিশ্রুত নারীবান্ধব এবং নিরাপদ বাংলাদেশ?" হুমকির মুখে দমে না গিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সব মুসলমানকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। আর আমি সেই ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।" তাঁর এই সাহসী কিন্তু শঙ্কিত বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, এর আগেও শেহরীন আমিন মোনামি তাঁর ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে একজন নারী শিক্ষকের ওপর এমন মানসিক ও মৌখিক আক্রমণ নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে এই ঘটনার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আবু সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের অনুসারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জয়ী রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনী ক্ষেত্রসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করবেন। ভিন্নমতের সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।" হামলা বন্ধে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করে ভিপি সাদিক আরও বলেন, "একের পর এক হামলা চলতে থাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরানোর ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসন কেন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি অরাজকতা চলতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব।" বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, "জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনের পর উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সাহস সঞ্চার করেছে।