কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই সাথে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ রোববার (২১ জুন) সকালের দিকে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ও রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিশিয়াল বিবৃতির বরাতে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এই বাংলাদেশি প্রবাসীরা সবাই কাতারের স্থানীয় একটি বড় দুগ্ধজাত বকরি খামারে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। আজ সকালে কাজ করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথেই মূলত তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ও আন্তরিক তৎপরতায় প্রাথমিকভাবে নিহত পাঁচজন ভাগ্যহত বাংলাদেশির সম্পূর্ণ পরিচয় এবং দেশের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার সবার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে। তারা হলেন—সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বিখ্যাত গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। একই এলাকার এবং একই গ্রামের পাঁচজন টগবগে যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আজ দুপুরে সিলেটে পৌঁছানোর পর পুরো কানাইঘাট উপজেলা জুড়ে এক শোকার্ত ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে গাছবাড়ি গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
কাতার থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহের জন্য কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। একই সাথে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কাতার পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার শিকার দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহগুলো যত দ্রুত সম্ভব সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া আইনিভাবে শেষ করে বিমানযোগে বাংলাদেশে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের কফিল বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আইনানুযায়ী বকেয়া বেতন এবং যথোপযুক্ত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বা ইন্সুরেন্সের টাকা আদায় করার বিষয়েও দূতাবাস কাতার সরকারের সাথে আলোচনা করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে সেই খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন ও আয় ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। বিশেষ করে আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা শ্রমিকেরা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শ্রমিকদের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার আয়েও প্রভাব পড়ে। গবেষকদের হিসাবে, ওই আটটি কারখানায় অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে গরমের সমস্যা শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয় নয়, এটি পোশাক প্রস্তুতকারক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তাপ কমাতে ছাদে প্রতিফলনশীল রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং কারখানায় বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে গবেষণায়। গবেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং প্রায় চার বছরের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, নতুন গবেষণা পোশাকের ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিচ্ছে। তাঁর মতে, শীতলীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ডও কারখানায় তাপ মোকাবিলার বিনিয়োগ কত দিনে উঠে আসতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গবেষকেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এমন সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। এর আগে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও অংশীদারদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা না হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এসব দেশ বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিকে, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন বা এএএফএ গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় নতুন Heat Stress Toolkit প্রকাশ করেছে। এতে পোশাক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোর জন্য তাপ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, কর্মপদ্ধতি এবং সরবরাহকারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তাপ মোকাবিলার কিছু বিনিয়োগ যদি কোনো কারখানার জন্য এককভাবে আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক না হয়, তাহলে ব্র্যান্ডগুলোকেও সেই খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, কারখানা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা শুধু শ্রমিক সুরক্ষার খরচ নয়; সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এটি উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি কমানোর একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি
একাত্তরের জন্য ক্ষমা, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ জামায়াতকে রাজ্জাকের ৫ পরামর্শ
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট স্থান পাবে। পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট এবারও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবে বলে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের কিছু সূচি পরিবর্তন হতে পারে। এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চলার কথা, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা আন্তর্জাতিক সংকট ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে সাধারণ পরিষদের বাংলায় ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
সরকারের সংকটের কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা, বললেন ‘দোষ দিতে চাই না’
অপ্রতিম হ ত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ক্যান্সার রোগী রেডিওথেরাপির অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তাদের অনেকের চিকিৎসার সিরিয়াল গিয়ে ঠেকেছে ২০২৮ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্র ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রেডিওথেরাপির জন্য থাকা একাধিক মেশিনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সচল রয়েছে। এই দুটি মেশিনে তিন শিফটে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর তুলনায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রতিদিনই অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির পর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। আবার কিছু রোগীর জন্য এটি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রোগীর চিকিৎসায় একাধিক সেশন প্রয়োজন হওয়ায় একই মেশিনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সীমিত সংখ্যক মেশিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহাখালীর এই সরকারি হাসপাতালে আসেন। সরকারি ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে সেখানে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সরকারি হাসপাতালটির ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নতুন রেডিওথেরাপি রোগীদের সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, অপেক্ষমাণ তারিখ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলে যাওয়ায় রোগীদের এত দীর্ঘ সময়ের সিরিয়াল দেওয়া অর্থবহ নয়। নতুন রোগীদের বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এর আগে জুলাই মাসের এক প্রতিবেদনে একই হাসপাতালে রেডিওথেরাপির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে আসে। তখনও কিছু রোগীকে এক বছরের বেশি সময় পরের তারিখ দেওয়া হচ্ছিল। চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি যন্ত্রের সংকট এবং বিপুল রোগীর চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালেও হাসপাতালের একাধিক রেডিওথেরাপি মেশিন অচল হয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংকট কাটাতে নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন সংগ্রহ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক জানান, সরকারের অর্থায়নে নতুন একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছে এবং সেটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আট বিভাগীয় শহরে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকামুখী রোগীর চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপির দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মাত্র দুটি সচল মেশিন দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সূত্র: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস
ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা
সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন, দগ্ধ ৫