বাংলাদেশ

বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:২৫
যানজট ও ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত
যানজট ও ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ৮ জুলাই: বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে রাজধানী।

 

গত ৭ জুলাই প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে শুধু লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে দামেস্ক।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এসব সূচকের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ইআইইউর মূল্যায়নে ঢাকার নিম্ন অবস্থানের পেছনে দুর্বল অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপও রাজধানীর জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচির অবস্থান ১৭০তম, যা ঢাকার এক ধাপ ওপরে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স আন্তর্জাতিকভাবে নগর জীবনের মান মূল্যায়নের অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে পরিচিত। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বিদেশে কর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এই সূচকের তথ্য ব্যবহার করে থাকে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থানের উন্নতি সম্ভব হতে পারে।

 

যদিও জনমনে এ সূচকটি প্রায়ই ‘বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা’ হিসেবে পরিচিত, ইআইইউর এই মূল্যায়ন মূলত বিভিন্ন শহরের তুলনামূলক বাসযোগ্যতার মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এটি কোনো শহরকে সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
যানজট ও ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা

ঢাকা, ৮ জুলাই: বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে রাজধানী।   গত ৭ জুলাই প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে শুধু লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে দামেস্ক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এসব সূচকের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে।   ইআইইউর মূল্যায়নে ঢাকার নিম্ন অবস্থানের পেছনে দুর্বল অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপও রাজধানীর জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচির অবস্থান ১৭০তম, যা ঢাকার এক ধাপ ওপরে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স আন্তর্জাতিকভাবে নগর জীবনের মান মূল্যায়নের অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে পরিচিত। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বিদেশে কর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এই সূচকের তথ্য ব্যবহার করে থাকে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থানের উন্নতি সম্ভব হতে পারে।   যদিও জনমনে এ সূচকটি প্রায়ই ‘বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা’ হিসেবে পরিচিত, ইআইইউর এই মূল্যায়ন মূলত বিভিন্ন শহরের তুলনামূলক বাসযোগ্যতার মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এটি কোনো শহরকে সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:২৫
মানবপাচার দমনে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ–ভিয়েতনাম

মানবপাচার দমনে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ–ভিয়েতনাম

হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডে এশিয়া পর্বে প্রথম হওয়া সামিনা নূর তাজ। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ইংলিশ অলিম্পিয়াডে এশিয়ায় প্রথম গাজীপুরের সামিনা নূর তাজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

ভেজালকারীদের দুঃস্বপ্ন জব্বার মণ্ডল, এবার পেলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, মাঠে সময় কাটালেন সেনাসদস্যদের সঙ্গে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত ৮ বীর ইউনিটের গ্রীষ্মকালীন এই মহড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা তিনি পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন।   পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’ এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কৌশলগত প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।   মহড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি অভিযানের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল প্রয়োগ, সমরাস্ত্র ব্যবহারের কৌশলসহ বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন।   প্রধানমন্ত্রী নিজে সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশ নেওয়া অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান। এমনকি ছদ্মবেশে অবস্থান নেওয়া সদস্যদের কাছেও গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ জোগান।   একপর্যায়ে তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। সরকারপ্রধানকে কাছে পেয়ে সেনাসদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।   পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতি সেনাসদস্যদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৩:২৩
বাজেট পাসের পর আবার শুরু হচ্ছে সংসদের অধিবেশন আজ

বাজেট পাসের পর আবার শুরু হচ্ছে সংসদের অধিবেশন আজ

শাকিরা শাওন রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির কলেজ পরীক্ষায় ১০০তে ১০০ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশি তরুণীর রেকর্ড

ছবি: নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান (সংগৃহীত)

একই সময়ে নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান, প্রবাসী মহলে চলছে নানা আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনশক্তি খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।   সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় পক্ষ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৪:১৪
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ১, টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকি বাড়ছে

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ১, টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকি বাড়ছে

মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ I ছবি: সংগৃহীত

মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ, প্রতিশোধে যুবককে গলা কে’টে হ’ত্যা করলো ৪ ভাই

জুলাইয়ে আসছে না নতুন পে-স্কেলের গেজেট

জুলাইয়ে আসছে না নতুন পে-স্কেলের গেজেট

0 Comments