সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২৩:১২
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবসে (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক চিত্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ । শুধু ইতালি নয়, গ্রিসে সাগরপথে অভিবাসনেও নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে দেশটি। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মানবঢাল এবং নারী পাচারের মতো ঘটনা মানবপাচার সংকটকে ভয়াবহ আকার দিয়েছে।

এ বছরের মার্চে লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানীয় ছাড়াই ভেসে থাকে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসানের তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হন, যাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন । পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয় । এরপরও থামেনি মৃত্যুযাত্রা।

 

 

ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, ইউরোপমুখী এসব অভিবাসীর বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। তারা মূলত মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা । ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে তারা লিবিয়া পৌঁছান। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো কাজের প্রলোভন দেখানো হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। ৯৩ শতাংশ লিবিয়ায় ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন, ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৬৯ শতাংশ স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার হারিয়েছেন । জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনাও রয়েছে । গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ।

পাচারকারীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। ফেসবুকের শতাধিক গ্রুপে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামেও এমন গ্রুপ চালু রয়েছে । নতুন মানবপাচার আইন প্রণয়নের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে ।

 

 

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় । জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি । কম্বোডিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের জুনেই ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরেছেন ।

ব্র্যাকের গবেষণায় ফিরে আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফিরে আসা ৯৮ শতাংশ মানুষ চাকরির প্রতিশ্রুতি পেলেও কিছুই পাননি। ৯০ শতাংশকে জোর করে জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ৮৮ শতাংশের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২৭ শতাংশ ভয়াবহ শারীরিক এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । একজন ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরে আলাদা নির্যাতন কক্ষ ছিল ।

শুধু সাগরপথে ইউরোপ বা সাইবার স্ক্যাম নয়—কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে । ব্র্যাকের সঙ্গে রাশিয়ায় আহত কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করেছেন। স্বজনদের মরদেহ ফেরত আনার আবেদনও এসেছে । ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে ।

কাজের আশ্বাসে নারী পাচারের ঘটনাও বাড়ছে। বিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভনে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে । বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণা নিয়মিত ঘটছে ।

বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে রোহিঙ্গা পাচারের ধারাও অব্যাহত রয়েছে । জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্টেটলেসনেস ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি মানবপাচারের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে । ২০২৫ সালে ৬,৫০০ এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে প্রায় ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অ্যান্ডামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা মৃতের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি । গত আট বছরে কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার হয়েছে। শতাধিক মামলা হলেও পাচার থামেনি ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে । পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫০০টি নতুন মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি । গত দেড় বছরে দৃষ্টান্তমূলক সাজার কোনো নজির পাওয়া যায়নি; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন ।

 

 

সরকার নতুন 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে । এতে অভিবাসী চোরাচালানকে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সংঘবদ্ধ পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে । আইনটি তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করেছে । তবে ব্র্যাকের শরিফুল ইসলাম হাসান মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে । মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা জরুরি ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
এমপির লাগে না, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানেরও লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনো একটিতেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।   তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।   তবে প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও আইন নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয় নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। ফলে কোনো পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় থাকা অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   ব্রিফিংয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে।   তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাতেও বিধান রয়েছে। ওই নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।   তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটি এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনগত মতামতের জন্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যেতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।   শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন ব্যক্তি স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন সমাজসেবকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।   এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না এবং এতে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক থাকবে না। সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মীর শাহে আলম বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।   সূত্র: ইত্তেফাক, স্থানীয় সরকার বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:১৫
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু

ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু: হামিম

মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল

মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্পিনার বা সুতাকল মালিকদের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়সীমা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে আগামী নভেম্বরে চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম। ‘অ্যামেরিবংলা ইউএস কটন ওয়্যারহাউস’ নামের এই গুদামটি ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইজারা নেওয়া একটি জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।   প্রাথমিকভাবে এখানে ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা মজুত থাকবে এবং পরবর্তীতে এটি আনোয়ারা ফ্রি ট্রেড জোনের স্থায়ী স্থাপনায় স্থানান্তরিত হবে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে প্রায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগে। গুদামটি চালু হলে দেশে বসেই কাঁচামাল পাওয়ার কারণে এই দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।   তবে তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য তুলার দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল জানান, স্পিনাররা দ্রুত তুলা পাওয়ার পাশাপাশি এই মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেতে পারে, যা দেশের পুরো পোশাক খাতের জন্যই ইতিবাচক।   অ্যামেরিবংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসওয়ার রহমান জানিয়েছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই দেশের বর্তমান ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।   এই লক্ষ্যে মার্কিন কাঁচা তুলা নিলামের জন্য তারা ‘কটনপোর্ট’ নামের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসও চালু করেছেন। আগামী ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে তাদের ‘অল আমেরিকান কটন সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রত্যয়িত তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২০:৫০
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল,

৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল, "মা আমাকে নিয়ে যাও"

চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা

চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকার বাজেট, ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নান্দাইলের আল মামুন
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলের আল মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ৮ সেপ্টেম্বর সকালে রাশিয়ায় থাকা এক সহকর্মীর ফোনে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। পরিবারের দাবি, চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর বলা হয়েছে। তিনি দেশে ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী এক মেয়েকে রেখে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।  পরিবারের ভাষ্য, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য মামুন রাশিয়ায় যান। এ জন্য তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এই টাকা জোগাড় করতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি চড়া সুদে ধার করতে হয়েছিল পরিবারকে।  পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে কাজ না দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের সামরিক পোশাক পরিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুনদের কাছ থেকে রুশ ভাষায় একটি চুক্তিতে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনেরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানো হবে না। পরে পরিবারটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে।  সহকর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় মামুনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী আহত হয়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর এসেছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁর ছবি বা ভিডিও এখনো পরিবারের হাতে আসেনি।  মামুনের মৃত্যুর খবরে স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া আক্তার ভেঙে পড়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। স্বজনদের প্রধান দাবি, মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:১৭
ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিল্লির আমন্ত্রণেও সাড়া দিচ্ছে না বাংলাদেশ

দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, হাইকোর্টের রায়

0 Comments