অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক
অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬-২৭ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা চালু রেখেছে। এই ভিসার আওতায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী তরুণরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভ্রমণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কাজ করতে পারবেন। তবে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের জন্য আবেদন করার আগে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা সাবক্লাস ৪৬২ মূলত তরুণদের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় এবং সেই সময় ভ্রমণের খরচ চালাতে স্বল্পমেয়াদি কাজ করা যায়। এটি মূলত কাজের জন্য আলাদা শ্রমিক ভিসা নয়, বরং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কাজের সুযোগ দেওয়া একটি কর্মসূচি।
বর্তমানে সাবক্লাস ৪৬২-এর আওতায় যেসব দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, পেরু, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।
তবে সব দেশের নাগরিকের জন্য আবেদনের নিয়ম এক নয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের প্রথমে নির্ধারিত লটারি বা ব্যালট প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে হয়। সেখান থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে তবেই তারা ভিসার মূল আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া এই ব্যবস্থা চালু করেছে কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসার নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর চাহিদা অনেক বেশি।
২০২৬-২৭ কর্মবর্ষের জন্য চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের ব্যালট নিবন্ধন ২৫ জুন ২০২৬ বন্ধ হয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। অর্থাৎ এসব দেশের নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পরবর্তী ব্যালটের সময়সূচির জন্য সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশভেদে প্রথম সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার বার্ষিক সংখ্যাতেও সীমা রয়েছে। যেমন চীনের জন্য ৫ হাজার, ভারতের জন্য ১ হাজার এবং ভিয়েতনামের জন্য ১ হাজার ৫০০টি পর্যন্ত প্রথম ভিসা দেওয়ার সীমা রয়েছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বার্ষিক সীমা রয়েছে। কোনো দেশের নির্ধারিত সীমা পূরণের কাছাকাছি গেলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
ভিসাটির ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। সাবক্লাস ৪৬২ ভিসায় বয়সসীমা সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য ভিসা শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই শুধু তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিক হলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
ভিসা পেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় কাজ করা গেলেও একই নিয়োগকর্তার অধীনে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ছয় মাস কাজ করার সীমা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার ব্যতিক্রম বা বাড়তি অনুমতির সুযোগ থাকতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মূলত দীর্ঘ ছুটির সময় ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। অস্ট্রেলিয়ার Working Holiday Maker কর্মসূচি ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করছে। বর্তমানে দুটি ভিসা শ্রেণির মাধ্যমে ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে বিমান টিকিট বা ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা না করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে এবং ভিসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না।
তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নির্দিষ্ট সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ৩০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ফলে বাংলাদেশি তরুণদের অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ও কাজের জন্য অন্য উপযুক্ত ভিসা শ্রেণির যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর, Working Holiday Maker Program; Legit.ng।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরানের বহুল আলোচিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আদলে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে লুকাস নামের একটি চালকবিহীন আকাশযান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি অনুসরণ করেই যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। শনিবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খোররামাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশের ড্রোন সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মুসাভি। এ সময় তিনি দাবি করেন, শাহেদ শ্রেণির ড্রোনগুলো ইরানের তরুণ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ফল। এসব ড্রোনের কিছু যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এবং কিছু নজরদারি ও গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। মুসাভির দাবি অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন বহর এখন দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, শাহেদ-১৩৬-এর সক্ষমতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের একটি ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং সেটির নাম দেওয়া হয় লুকাস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইরানের কর্মকর্তার বক্তব্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়নি। মার্কিন সামরিক তথ্য অনুযায়ী, লুকাসের পূর্ণ নাম ‘লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’ বা এলইউসিএএস। অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রওয়ার্কস এটি তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহেদ-১৩৬ থেকে পাওয়া প্রযুক্তি ও নকশা বিশ্লেষণ করে লুকাস তৈরি করা হয়েছে। লুকাস মূলত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন। অর্থাৎ এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পাঠানো হয় এবং প্রচলিত অর্থে ফিরে এসে পুনরায় ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। কম খরচে দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ চালানোই এর অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, লুকাসের কার্যকর পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রতি ইউনিটের খরচও প্রচলিত অনেক দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিভিন্ন মার্কিন সূত্রে এর খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতোই লুকাসের নকশায় রয়েছে দীর্ঘপাল্লার উড়ান এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের ওপর জোর। এই ধরনের ড্রোনের বড় সুবিধা হলো, অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার না করেও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানো সম্ভব। ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে ড্রোনটির সক্ষমতা ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। রাশিয়া পরে শাহেদ-১৩৬-ভিত্তিক জেরান-২ নামে নিজস্ব সংস্করণও তৈরি করে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমূল্যের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন তৈরিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন বিমানবাহিনী শাহেদ-১৩৬-এর মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি চালকবিহীন আকাশযান তৈরির জন্য শিল্পখাতের কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে। পরে স্পেকট্রওয়ার্কসের তৈরি এ ধরনের ড্রোনকে সামরিক ব্যবহারের জন্য লুকাস কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে লুকাস ড্রোনের একটি ইউনিট মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে জানায়। ‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে একটি মার্কিন ইউনিটের অধীনে এগুলো পরিচালনার কথা জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে লুকাস প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। লুকাসের ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধে কম খরচের ড্রোনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করা এখন সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। ইরানের আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান মুসাভি তার বক্তব্যে ইরানের ড্রোন সক্ষমতাকে দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-১’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওই অভিযানে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরি ইরানের শাহেদ-১৩৬-এর সরাসরি ‘হুবহু কপি’ কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, লুকাস শাহেদ-১৩৬-এর নকশা ও প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার করা হলেও এর আকার, ওজন, পেলোড এবং কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য আলাদা। ফলে ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নকল করতে বাধ্য’ হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিকে তার রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত। তবে লুকাস যে শাহেদ-১৩৬-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, সেটি মার্কিন সামরিক তথ্য এবং একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, ফ্লাইটগ্লোবাল ও ইউরোনিউজ।
জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ সেই ফেরির সন্ধান মিলল, উদ্ধার ১০২
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা
অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অফিস ও বিভাগে কাজের সুযোগ পান যোগ্য শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকেরা। ইন্টার্নশিপ সাধারণত ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহের হয়ে থাকে। পদভেদে পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন, দূরবর্তী বা সরাসরি কর্মস্থলে কাজের সুযোগ থাকতে পারে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার্নরা গবেষণা, তথ্যভান্ডার ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। দায়িত্ব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রয়োজন, পদটির ধরন, আবেদনকারীর যোগ্যতা ও আগ্রহের ওপর। প্রতিটি ইন্টার্নশিপের দায়িত্ব ও শর্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। আবেদনকারীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান এবং নির্দিষ্ট পদের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। সব ইন্টার্নশিপের যোগ্যতা এক নয়। কিছু পদ আবার নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। এই কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো আর্থিক সহায়তা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার্নদের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য ইউনিসেফ বা অংশীদার কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হতে পারে। অর্থের প্রাপ্যতা এবং পদের শর্ত অনুযায়ী ভ্রমণ ও ভিসা খরচের জন্য এককালীন সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে ইউনিসেফের নিয়োগ তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে তদন্তবিষয়ক ইন্টার্নশিপের দুটি খণ্ডকালীন পদ রয়েছে। পদ দুটিই বেতনভুক্ত এবং সরাসরি কর্মস্থলে কাজ করতে হবে। এসব পদের আবেদনের শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৫ মিনিট। নিউইয়র্কে নেতৃত্ব ও বিষয়বস্তু কৌশলবিষয়ক আরেকটি ইন্টার্নশিপের সুযোগও রয়েছে। চার মাসের এই পদে সরাসরি কর্মস্থলে অথবা দূর থেকে কাজের সুযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৫ মিনিট। একই সময়ে নিউইয়র্ক ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আইনবিষয়ক ছয় মাসের দুটি ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এসব পদেরও আবেদনের শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তবে ইউনিসেফের সব ইন্টার্নশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বর্তমান নিয়োগ তালিকায় কিছু পদ নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত রয়েছে। তাই ইন্টার্নশিপের নাম দেখে আবেদন করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্বের শর্ত ও যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বার্ষিক আবেদন সময় নেই। বিভিন্ন অফিস ও বিভাগ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সারা বছর নতুন ইন্টার্নশিপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ফলে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের নিয়মিত ইউনিসেফের নিয়োগ তালিকা দেখতে হবে এবং ইন্টার্নশিপ হিসেবে চিহ্নিত পদগুলো যাচাই করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান এমন শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য ইউনিসেফের এই কর্মসূচি পেশাগত দক্ষতা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে পদভেদে যোগ্যতা, কাজের ধরন, সময়কাল, কর্মস্থল, নাগরিকত্ব এবং আর্থিক সুবিধার শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন করা উচিত।
‘ভারত দরিদ্র ছিল না’, ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল
বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নয়, আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার চলে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজ ভবনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। ঘটনাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত কম উপস্থিতি নিয়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, তাদের সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ক্লাসের সময় পরিবর্তনের কারণে তাদের উপস্থিতি কমেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষ ঘেরাও করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, কম উপস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপস্থিতির নিয়ম মানা প্রয়োজন। এ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শুক্রবার উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কলেজ থেকে বের হন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল এবং আলো, ফ্যানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পানি ও খাবারের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি সময়মতো সহায়তা পাননি। পদত্যাগপত্রে পরিবার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজ থেকে বের হওয়ার পর তারান্নুম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনের চাপের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করেছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচীও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এদিকে উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধূপ জ্বালিয়ে ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে কলেজ ভবনের কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। এই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে কলেজে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখালেও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে উপাধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার সকালে উপাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ, কলেজে ক্লাসের পরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর প্রশাসনিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!
জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই