বাংলাদেশ

সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৩:৩৫
সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ  করতে পারবেন বাবা-মা
সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

দেশের দীর্ঘদিনের সিভিল মামলার জট কমাতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বাবা-মা জীবদ্দশায় নিজেদের ভোগদখলের অধিকার (জীবনস্বত্ব) অক্ষুণ্ণ রেখেই সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়, ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) ও ব্র্যাকের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সিভিল আদালতগুলোর অধিকাংশ মামলাই সম্পত্তির বণ্টন, মালিকানা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, বর্তমানে মুসলিম আইনে ‘হেবা’ করার পর সম্পত্তির মালিকানা সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর হয়ে যায়। ফলে অনেক বাবা-মা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরোপুরি সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সন্তানরা দায়িত্ব পালন না করলে তাদের অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়।

 

এই সমস্যা সমাধানে সরকার ‘গিফট’ বা দান সংক্রান্ত আইনি বিধান আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পত্তি সন্তানের নামে হস্তান্তর করা হলেও বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখলের পূর্ণ অধিকার রাখবেন। তাদের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। আবার বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন চিকিৎসার খরচ মেটাতে সম্পত্তি বিক্রির দরকার হলে জেলা জজের অনুমতির মাধ্যমে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

 

আইন উপদেষ্টা বলেন, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও বিস্তৃত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং ভবিষ্যতে নতুন সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বা মধ্যস্থতা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষায়, আদালতে বিচারাধীন ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপযোগী, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিচারকরা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কমিটির কাছে পাঠালে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

এ ছাড়া বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে আইনজীবী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও আইনি সংস্কারের প্রস্তাবও আহ্বান করেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার উদ্যোগ নেবে।

 

অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ সম্পর্কেও কথা বলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযোগটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

 

আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা কমানো এবং জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ
এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একটি দেশকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় না; বরং জাতীয় স্বার্থই বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করে না।   বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে তো শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা স্ত্রী এবং সতীনের মধ্যে মারামারি নয়। এটি স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ থাকবে, আমরা সেখানেই এগিয়ে যাব।”   চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কূটনীতিতে বাংলাদেশ কোনো অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বার্থই দেশের পররাষ্ট্রনীতির চালিকাশক্তি।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এক দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য দেশের জন্য ক্ষতির কারণ—এমন ‘জিরো-সাম গেম’ দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”   তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে সরকার আশাবাদী।   খলিলুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় চলছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ এগিয়ে নেওয়াই সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রধান লক্ষ্য।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৪:৫৪
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে ৮৪৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে ৮৪৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি

সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ  করতে পারবেন বাবা-মা

সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা : আইনমন্ত্রী

সিলেটে থমথমে অবস্থা

সিলেটে থমথমে অবস্থা , ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ
সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবসে (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক চিত্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ । শুধু ইতালি নয়, গ্রিসে সাগরপথে অভিবাসনেও নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে দেশটি। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মানবঢাল এবং নারী পাচারের মতো ঘটনা মানবপাচার সংকটকে ভয়াবহ আকার দিয়েছে। এ বছরের মার্চে লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানীয় ছাড়াই ভেসে থাকে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসানের তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হন, যাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন । পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয় । এরপরও থামেনি মৃত্যুযাত্রা।     ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, ইউরোপমুখী এসব অভিবাসীর বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। তারা মূলত মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা । ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে তারা লিবিয়া পৌঁছান। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো কাজের প্রলোভন দেখানো হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। ৯৩ শতাংশ লিবিয়ায় ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন, ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৬৯ শতাংশ স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার হারিয়েছেন । জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনাও রয়েছে । গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে । পাচারকারীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। ফেসবুকের শতাধিক গ্রুপে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামেও এমন গ্রুপ চালু রয়েছে । নতুন মানবপাচার আইন প্রণয়নের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে ।     ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় । জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি । কম্বোডিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের জুনেই ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরেছেন । ব্র্যাকের গবেষণায় ফিরে আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফিরে আসা ৯৮ শতাংশ মানুষ চাকরির প্রতিশ্রুতি পেলেও কিছুই পাননি। ৯০ শতাংশকে জোর করে জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ৮৮ শতাংশের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২৭ শতাংশ ভয়াবহ শারীরিক এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । একজন ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরে আলাদা নির্যাতন কক্ষ ছিল । শুধু সাগরপথে ইউরোপ বা সাইবার স্ক্যাম নয়—কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে । ব্র্যাকের সঙ্গে রাশিয়ায় আহত কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করেছেন। স্বজনদের মরদেহ ফেরত আনার আবেদনও এসেছে । ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে । কাজের আশ্বাসে নারী পাচারের ঘটনাও বাড়ছে। বিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভনে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে । বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণা নিয়মিত ঘটছে । বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে রোহিঙ্গা পাচারের ধারাও অব্যাহত রয়েছে । জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্টেটলেসনেস ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি মানবপাচারের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে । ২০২৫ সালে ৬,৫০০ এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে প্রায় ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অ্যান্ডামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা মৃতের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি । গত আট বছরে কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার হয়েছে। শতাধিক মামলা হলেও পাচার থামেনি । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে । পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫০০টি নতুন মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি । গত দেড় বছরে দৃষ্টান্তমূলক সাজার কোনো নজির পাওয়া যায়নি; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন ।     সরকার নতুন 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে । এতে অভিবাসী চোরাচালানকে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সংঘবদ্ধ পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে । আইনটি তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করেছে । তবে ব্র্যাকের শরিফুল ইসলাম হাসান মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে । মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা জরুরি ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২৩:১২
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর

চীন-আমেরিকা টানাপোড়েনের মাঝে, ঢাকায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সার্জিও গোর

শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৫ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

বগুড়ার এরুলিয়া এয়ারফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে হচ্ছে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
‘নিশি রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে ডাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাকে এই কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগেও অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তার ভাষ্যমতে, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দলেরই একটি প্রতিপক্ষ ওই নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন; তাই মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে যাওয়ার অভিযোগটি একেবারেই অবান্তর। এছাড়া গত ঈদে ওই নারীকে জাকাতের কাপড় ও চালের স্লিপ দিতে না পারার ক্ষোভ থেকে এই মিথ্যা নাটক সাজানো হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।   পুরো ঘটনাটি নিয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিনও যোগাযোগ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে দল থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি এটি যদি নিছক চক্রান্ত প্রমাণিত হয়, তবে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৮
মিরপুরে টিসিবির চাল কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে দেয়ালধসে নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের খাবার না খেয়ে সাশ্রয়ী দামে চাল কিনতে গিয়েছিলেন নাসিমা, প্রাণ গেল দেয়ালধসে

রাশেদ খান

‘গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি’ করায় ছাত্র উপদেষ্টা হননি হাসনাত-সারজিস : রাশেদ খান

কাউন্সিলর একরামুল হত্যা মামলায়, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

কাউন্সিলর একরামুল হত্যা মামলায়, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

0 Comments