মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে কঠোর গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার কারণে গর্ভপাতের (মিসক্যারেজ) জটিলতায় আক্রান্ত এক নারী সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণসংকটে পড়েছিলেন। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এমিলি ওয়ালডর্ফ গুরুতর জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও ভ্রূণের হৃদস্পন্দন চলমান থাকায় চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে গর্ভাশয় খালি করতে পারেননি। আরকানসাসের গর্ভপাত আইন ভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁকে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা তাঁর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা এমিলি ও তাঁর পরিবারকে জানান, জরায়ুর মুখ খুলে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী দ্রুত গর্ভাশয় খালি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফৌজদারি শাস্তির আশঙ্কায় হাসপাতাল সেই চিকিৎসা দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা গভর্নরের দপ্তরেও যোগাযোগ করেন, তবে সেখান থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর এমিলিকে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে কানসাসে নেওয়া হয়, যেখানে গর্ভপাত বৈধ। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি চিকিৎসা দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা বেড়ে যায়।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ডবস রায়ের পর আরকানসাসে প্রায় সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ হয়। কেবল মায়ের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হলেও, চিকিৎসকেরা বলছেন আইনের ভাষা স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক হাসপাতাল ঝুঁকি এড়াতে জরুরি পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা দিতে দ্বিধায় পড়ে। প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে আরকানসাসের একাধিক চিকিৎসক একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
এমিলি ওয়ালডর্ফ বর্তমানে আরকানসাসের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বাদীদের একজন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বর্তমান আইন জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের কার্যালয় জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্য আদালতে বিদ্যমান গর্ভপাত আইনকে সমর্থন ও রক্ষায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে কঠোর গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার কারণে গর্ভপাতের (মিসক্যারেজ) জটিলতায় আক্রান্ত এক নারী সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণসংকটে পড়েছিলেন। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এমিলি ওয়ালডর্ফ গুরুতর জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও ভ্রূণের হৃদস্পন্দন চলমান থাকায় চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে গর্ভাশয় খালি করতে পারেননি। আরকানসাসের গর্ভপাত আইন ভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁকে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা তাঁর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা এমিলি ও তাঁর পরিবারকে জানান, জরায়ুর মুখ খুলে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী দ্রুত গর্ভাশয় খালি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফৌজদারি শাস্তির আশঙ্কায় হাসপাতাল সেই চিকিৎসা দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা গভর্নরের দপ্তরেও যোগাযোগ করেন, তবে সেখান থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর এমিলিকে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে কানসাসে নেওয়া হয়, যেখানে গর্ভপাত বৈধ। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি চিকিৎসা দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা বেড়ে যায়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ডবস রায়ের পর আরকানসাসে প্রায় সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ হয়। কেবল মায়ের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হলেও, চিকিৎসকেরা বলছেন আইনের ভাষা স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক হাসপাতাল ঝুঁকি এড়াতে জরুরি পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা দিতে দ্বিধায় পড়ে। প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে আরকানসাসের একাধিক চিকিৎসক একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এমিলি ওয়ালডর্ফ বর্তমানে আরকানসাসের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বাদীদের একজন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বর্তমান আইন জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের কার্যালয় জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্য আদালতে বিদ্যমান গর্ভপাত আইনকে সমর্থন ও রক্ষায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
লিভার বিকল হয়ে উজ্জ্বল হলুদ রঙ ধারণ করল তরুণের শরীর, চেহারা নিয়ে বিড়ম্বনায় তরুণ
স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে আরও সহজ, বাজারে এল সেন্সরযুক্ত স্মার্ট টয়লেট সিট
চিরযৌবনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা ব্রায়ান জনসন বললেন, 'আমার পাকস্থলী নিজেই নিজেকে খাচ্ছে'
ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে। একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে। কীভাবে কাজ করে ভেপ ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক। কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে। প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে? গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতার বিকল্প নেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
মস্তিষ্কে একাধিক টিউমার ভেবেছিলেন চিকিৎসকরা, পরীক্ষায় ধরা পড়ল ফিতাকৃমির
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ ও বাঁচার উপায়
পারিবারিক খাবারের টেবিলেও স্মার্টফোনে ব্যস্ত ৭৫ শতাংশ অভিভাবক
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নে একটি আলোচনা সভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠান শেষে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বাইরে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তির বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি ধারণ করা হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন অঙ্গভঙ্গি প্রত্যাশিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক আচরণের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ! সময়মতো সচেতন না হলে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
কুরবানির গোশত সংরক্ষণে অসচেতনতা বাড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি