- প্রচ্ছদ
- Topic
মামলা
অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা। ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দেশের দীর্ঘদিনের সিভিল মামলার জট কমাতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বাবা-মা জীবদ্দশায় নিজেদের ভোগদখলের অধিকার (জীবনস্বত্ব) অক্ষুণ্ণ রেখেই সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সরকারের প্রত্যাশা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়, ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) ও ব্র্যাকের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সিভিল আদালতগুলোর অধিকাংশ মামলাই সম্পত্তির বণ্টন, মালিকানা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে মুসলিম আইনে ‘হেবা’ করার পর সম্পত্তির মালিকানা সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর হয়ে যায়। ফলে অনেক বাবা-মা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরোপুরি সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সন্তানরা দায়িত্ব পালন না করলে তাদের অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ‘গিফট’ বা দান সংক্রান্ত আইনি বিধান আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পত্তি সন্তানের নামে হস্তান্তর করা হলেও বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখলের পূর্ণ অধিকার রাখবেন। তাদের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। আবার বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন চিকিৎসার খরচ মেটাতে সম্পত্তি বিক্রির দরকার হলে জেলা জজের অনুমতির মাধ্যমে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও বিস্তৃত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং ভবিষ্যতে নতুন সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বা মধ্যস্থতা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষায়, আদালতে বিচারাধীন ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপযোগী, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিচারকরা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কমিটির কাছে পাঠালে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে আইনজীবী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও আইনি সংস্কারের প্রস্তাবও আহ্বান করেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার উদ্যোগ নেবে। অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ সম্পর্কেও কথা বলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযোগটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা কমানো এবং জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টায় ১৪২ মাইল বেগে টেসলা গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে এক চালককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সান হোসে এলাকার ৮৭ নম্বর হাইওয়েতে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইভানা বালিসট্রেরি (৩০) নামের এক নারী এবং তাঁর দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তান লিলিয়ানার মৃত্যু হয়। ৩১ বছর বয়সি অভিযুক্ত টেসলা চালকের নাম জাচারি চেরনিকি। প্রসিকিউটর ও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রল (সিএইচপি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই মারাত্মক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যস্ত ওই মহাসড়কে চার গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ১৫ সেকেন্ড আগে চেরনিকির টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, ৫ সেকেন্ড আগে ১২৬ মাইল এবং লেক্সাস গাড়িটিকে ধাক্কা দেওয়ার মুহূর্তেও গতি ছিল ১০২ মাইল। সে সময় মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটের কারণে ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটি থেমে ছিল। প্রচণ্ড গতির এই সংঘর্ষের জেরে দুটি টেসলা এবং ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, মা ও শিশু দুজনেই গাড়ির ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যান। এই ঘটনায় লেক্সাসের চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও, অভিযুক্ত চেরনিকি কেবল সামান্য আঘাত পান। দুর্ঘটনার মূল কারণ ও দোষীকে চিহ্নিত করতে সিএইচপি কয়েক মাস ধরে নিবিড় তদন্ত চালায়। অবশেষে চেরনিকিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং চলতি বছরের ১৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন এই চরম বেপরোয়া আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আইন অনুযায়ী কেউ যদি জনতার দিকে গুলি ছোঁড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে হত্যা। একইভাবে কেউ যখন ঘণ্টায় ১৪০ মাইল বেগে গাড়ি চালায়, তখন সেই চালক হয়ে ওঠেন বন্দুকধারী এবং তাঁর গাড়িটি বুলেটে পরিণত হয়।" উল্লেখ্য, ওই হাইওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। নিহত ইভানা ও তাঁর শিশুসন্তানের স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাদের পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইভানাকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও পরোপকারী মনের মানুষ এবং ছোট্ট লিলিয়ানাকে তাদের জীবনের অমূল্য আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। এদিকে, অভিযুক্ত চেরনিকির বিরুদ্ধে হত্যার দুটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে দীর্ঘদিনের জন্য কারাবাস করতে হতে পারে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৫ আগস্ট তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা যৌন হেনস্তা ও মানহানির মামলায় লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। বুধবার বিচারক লুইস এ. কাপলান এই আদেশ জারি করেন। ২০২৩ সালে একটি সিভিল বা দেওয়ানি মামলায় জুরি বোর্ড রায় দিয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ১৯৯৬ সালে ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করলে ট্রাম্প তার মানহানি করেন। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন ট্রাম্পের পরিশোধ করা এই অর্থ একটি আলাদা তহবিলে জমা রাখা হয়েছিল, যা এখন জমে থাকা সুদসহ ক্যারলকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানালে ক্যারলের আইনজীবীরা অর্থ ছাড়ের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্পের আইনজীবীরা যখন চিন্তাভাবনা করছিলেন, তখনো ট্রাম্প ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানিকর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিলেন। ২০২৩ সালের ওই বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজে উপস্থিত ছিলেন না। সেই সময় আদালতে ক্যারল সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, ম্যানহাটনের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প তাকে যৌন হেনস্তা করেন। বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ক্যারল ২০১৯ সালে ট্রাম্পের শাসনামলে একটি স্মৃতিকথামূলক বইয়ে প্রথমবারের মতো ওই হামলার কথা প্রকাশ্যে আনেন। তবে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনি ক্যারলকে কখনোই চিনতেন না। উল্টো তিনি ক্যারলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নিজের বই বিক্রির জন্য এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পালটা অভিযোগ করেছিলেন। এই ৫৮ লাখ ডলার ছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আরেকটি মানহানির মামলায় ক্যারলকে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছিলেন ম্যানহাটনের একটি জুরি বোর্ড, যার বিরুদ্ধেও বর্তমানে আইনি লড়াই বা আপিল চালিয়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৩ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারসহ একটি ৩শ ফুট গভীর খাদে গাড়ি ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা হত্যাচেষ্টার মামলা বাতিল করা হয়েছে। আদালত নিযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য নিরাময় কর্মসূচিতে ওই চিকিৎসকের অভাবনীয় উন্নতি হওয়ায় বিচারক এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী প্যাসাদেনার রেডিওলজিস্ট ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মার্কারি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির প্যাসিফিকায় 'ডেভিলস স্লাইড' নামক পাহাড় থেকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার টেসলা গাড়িটি খাদে ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সান মাতেও কাউন্টির একজন বিচারক প্যাটেলের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এই অভিযোগগুলো খারিজ করে দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে যে মানসিক স্বাস্থ্য নিরাময় বা ডাইভারশন প্রোগ্রামে রাখা হয়েছিল, সেখানে তার আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি যখন প্রায় ৩শ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে আছড়ে পড়ে, তখন ভেতরে প্যাটেলের ৪১ বছর বয়সী স্ত্রী এবং তাদের ৭ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান উপস্থিত ছিল। তবে অলৌকিকভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে পরিবারের চার সদস্যই প্রাণে বেঁচে যান। ২০২৪ সালের একটি শুনানিতে প্যাটেলের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি চরম হতাশাজনিত মানসিক সমস্যা বা 'মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার'-এ ভুগছিলেন। মনোবিজ্ঞানীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ওই সময় প্যাটেল মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন হ্যালুসিনেশন বা দৃষ্টিবিভ্রমের শিকার হচ্ছিলেন। তিনি পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে তার সন্তানদের পাচার করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দেশজুড়ে ফেন্টানাইল নামক মাদকের ভয়াবহতা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সন্তানদের অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অমূলক ভয় থেকে তার মধ্যে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, যা জেফরি এপস্টাইনের মতো যৌন পাচারকারীদের নিয়ে তার চরম উদ্বেগের কারণে ঘনীভূত হয়। মার্কারি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সান মাতেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক শ্যারন কে. চো যখন হত্যাচেষ্টার তিনটি অভিযোগ বাতিল করছিলেন, তখন প্যাটেল নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তিনি আদালতের গ্যালারিতে থাকা তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এবং এরপর দুজনে একসঙ্গে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন। অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাওয়ায় প্যাটেলকে আর কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না এবং কর্তৃপক্ষের জব্দ করা তার পাসপোর্টটিও ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন প্যাটেলের স্ত্রী তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে নিরাময় কর্মসূচিতে পাঠানোর আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, "তাকে ছাড়া আমাদের কোনো পরিবার নেই।" স্ত্রী নেহা প্যাটেল আদালতকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, মানসিক অস্থিতিশীলতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের তা রিপোর্ট করার যে শর্ত চিকিৎসায় যুক্ত করা হয়েছে, প্রয়োজনে তিনি সেই অনুযায়ী সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। বিচারক চো রায়ে উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্যাটেল এখন "খুব ভালো আছেন" এবং তিনি তার চলমান চিকিৎসা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে খেলার সময় ওপরে ছুড়ে দিয়ে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা-মায়ের করা এক মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে আঘাত লাগে এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্দো শহরের দ্য বে ক্লাব ক্লাবহাউস-এ ঘটে। মামলায় শিশুটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে "সি.কে." নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথিতে থাকা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ডে-কেয়ার কেন্দ্রের এক কর্মী শিশুটিকে দুই হাত ধরে খেলাচ্ছলে ওপরে ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে ধরতে ব্যর্থ হন। এতে শিশুটি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ওই কর্মীও শিশুটির ওপর পড়ে যান। মামলায় বলা হয়েছে, পড়ে যাওয়ার সময় শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে। এরপর সে জোরে কান্না শুরু করে। কক্ষে উপস্থিত অন্য প্রাপ্তবয়স্করাও ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। শিশুটির বাবা-মা ম্যাট ও এলেনা কিটলের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনায় তাদের সন্তানের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত) হয় এবং তার শ্রবণশক্তিরও ক্ষতি হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এখনো সে ওই আঘাতের প্রভাব বহন করছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ম্যাট কিটল শিশুটিকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, শিশুটি পড়ে গিয়েছিল, তবে এখন শান্ত রয়েছে এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রায় ১৫ মিনিট পর আবার ফোন করে জানানো হয়, শিশুটিকে আর শান্ত করা যাচ্ছে না, তাই তাকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তখনও কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে বিষয়টিকে একটি সামান্য দুর্ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করেছিল। শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার ডান পাশের মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, ডান চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মুখে ফোলাভাব দেখা যায়। এছাড়া সে অস্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ে এবং বিরক্তিকর আচরণ করতে থাকে। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে টরেন্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা মাথায় গুরুতর আঘাত শনাক্ত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ডে-কেয়ারের এক কর্মী দাবি করেছিলেন, শিশুটি মাত্র দেড় ফুট উচ্চতা থেকে পড়েছিল। কিন্তু পরে সিসিটিভি ভিডিও দেখে বাবা-মায়ের দাবি, শিশুটি অন্তত ছয় ফুট ওপরে উঠেছিল, সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যায়। এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দ্য বে ক্লাব ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার কেন্দ্র নয়। তবুও তারা নিজেদের আইনের আওতার বাইরে বলে দাবি করে শিশুদের তত্ত্বাবধান করছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির বাবা-মা মামলায় অবহেলা, শারীরিক ক্ষতি, প্রতারণা এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। তারা আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যার পরিমাণ জুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে উল্টো ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করেছে। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী লরেন ভিটালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পিএস ৮৪ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তিনি। মামলায় ভিটালে অভিযোগ করেছেন, সহিংস আচরণের নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা এক শিক্ষার্থীকে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারে। আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভিটালের রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে যান এবং চিকিৎসা নেন। তবে হামলার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিটালে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আঘাতের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বেতন কেটে নেন এবং কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ভিটালের ভাষ্য, "তারা বলেছিল আমি নাকি পেটে লাথি খাওয়া এড়াতে পারতাম। আমি তো সিনেমার নায়ক নই যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে যেতে পারব।" তিনি আরও বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, হয়তো আমার সন্তানকে হারাব।" মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। ভিটালের দাবি, প্রশ্নটি তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও চাকরির প্রয়োজন থাকায় তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আরেক সহিংস শিক্ষার্থীকে তার শ্রেণিকক্ষে রাখার বিরুদ্ধে শিক্ষক ইউনিয়নে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীও এক পর্যায়ে তাকে কামড় দেয় এবং পর্দার রড দিয়ে আঘাত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, পরে গর্ভধারণের খবর বিদ্যালয়ের এক কাউন্সেলরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ করে নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয় এবং তাকে একটি টিচার ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর আওতায় আনা হয়। ভিটালের অভিযোগ, গর্ভধারণের পর থেকেই তাকে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ করা হতো এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে। এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার এক সপ্তাহ পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মা ভিটালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পেতে চান। তিনি বলেন, "আমি আবারও শিশুদের পড়াতে চাই। শিক্ষকতাই আমার পেশা, আমি শুধু আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। যা ঘটেছে, তাতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, মামলার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ফেডারেল বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর এক হাজারেরও বেশি গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট মামলার পর্যালোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। দেশটির উত্তর ইলিনয় জেলার শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অতীতের সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতেই এই বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উত্তর ইলিনয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু বুট্রোস জানান, চলমান সব গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রায় দুই দশক আগের উপস্থাপনাগুলিও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, এটি একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত পর্যালোচনা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে কোনো মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া নৈতিক মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘ব্রডভিউ সিক্স’ নামে পরিচিত একটি বহুল আলোচিত মামলা। গত বছর শিকাগোর উপকণ্ঠে একটি ফেডারেল অভিবাসন কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় চার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সরকার। কিন্তু পরে আদালতে প্রকাশিত গ্র্যান্ড জুরির নথিতে প্রসিকিউটরদের আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, একজন প্রসিকিউটর গ্র্যান্ড জুরির এক সদস্যের সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যোগাযোগ করেছিলেন এবং ভিন্নমত পোষণকারী কিছু জুরির অংশগ্রহণও সীমিত করা হয়েছিল। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার শেষ পর্যন্ত ওই মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে। এরপরই বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়। অ্যান্ড্রু বুট্রোস বলেন, এই পর্যালোচনা কেবল অতীতের ভুল খুঁজে বের করার জন্য নয়; বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখা তাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উপস্থাপিত গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমও এই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন আগে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু মামলাও নতুন করে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আদালতে প্রকাশিত নথিতে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রমাণ উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটরের অনুপযুক্ত মন্তব্য, গ্র্যান্ড জুরিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে—এমন আচরণ। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনায় গ্র্যান্ড জুরির সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগাযোগ, নথি সংরক্ষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতিমালা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্ক এড়াতে সহায়ক হবে। এদিকে যেসব মামলায় একই প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেগুলোরও পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। কোনো মামলায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বলেনি যে পর্যালোচনাধীন সব মামলায় অনিয়ম হয়েছে, তবু প্রতিটি মামলার নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী মহলও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাদের মতে, গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বিচারব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে। শিকাগোকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিস্তৃত পর্যালোচনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক হাজারের বেশি মামলার নথি পুনরায় যাচাইয়ের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতগুলো মামলায় প্রভাব ফেলবে, তা এখন তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ। তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন। পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন জাহের আলভী। পরে শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। জামিন আবেদনে জাহের আলভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। আবেদনে বলা হয়, প্রেমের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আসামিপক্ষের দাবি, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী দেশে ছিলেন না। ঈদ উপলক্ষে নাটকের কাজের জন্য তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত এসব যুক্তি গ্রহণ না করে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান তারা। পরে স্বজন ও বাড়ির মালিক মিলে দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার পরদিন রাতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী ছাড়াও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং সেই পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জাহের আলভী ও তার পরিবার। তাদের দাবি, মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। এদিকে ঘটনাটি নাট্যাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে। উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে এর কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের আপিল সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আপিলও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধানও আছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং নির্দেশনামূলক। ফলে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও আপিলের কার্যকারিতা বহাল থাকে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ নভেম্বর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা আরও কঠোর করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে আপিল করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আপিলের শুনানি শেষ হয়নি। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনে ৬০ দিনের একটি নির্দেশনামূলক সময়সীমা রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হলেও তা বাতিল হয়ে যায় না। তিনি জানান, এখনো শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় আপিল কার্যক্রম এগোয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনো শুনানির উদ্যোগ নিইনি, কারণ আপিলটি শুনানির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।” একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ঘিরে চাঁনখারপুলে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও। এসব মামলার আপিলও এখনও ঝুলে রয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় চলতি মাসের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলার আপিল শুনানিতে বিলম্ব বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য এক কোটি টাকা দাবি করে একটি প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্যসহ নিজের বর্তমান জীবন, দেশে ফেরা, মামলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, একটি পক্ষ যোগাযোগ করে জানায় এক কোটি টাকা দিলে তার নাম মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা ইতিমধ্যে দায়ের হওয়ায় এভাবে নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তদন্ত ও পুলিশের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিষয়টি সমাধান হওয়া কঠিন। দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নে সাকিব জানান, তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক নিরাপত্তা এবং চলাচলের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে ফেরা সম্ভব নয়। মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, তার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। তার ধারণা, তিনটি মামলার মধ্যে একটির অগ্রগতি দ্রুত হতে পারে। তবে বিস্তারিত আগে জানাতে চাননি। জাতীয় দলে না খেলা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, জাতীয় দলের বাইরে থাকা সময়টা তার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তবে তিনি এখনো জাতীয় দলের খেলা মিস করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সময় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং একা প্রস্তুতির বিষয়টি তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, সময়ের আগে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন। তবে সেটিকে তিনি ভুল হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে সাকিব জানান, কিছুদিন অনুশীলন করলে আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সুযোগ পেলে তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশি মনোযোগ দিতে চান এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করতে চান। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার বাইরে রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে তার চিন্তাভাবনা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিপক্ব করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।