সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ০:২৫
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির

২০১৬ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই দুর্ঘটনার পরও থেমে যায়নি তাঁর পড়াশোনা। প্রথমে মুখ দিয়ে এবং পরে পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও একই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন বিজ্ঞানী হওয়া।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা রাব্বি। তাঁর বাবা বজলুর রহমান। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

 

রাব্বির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তখন পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

তবে দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন রাব্বি। প্রথমে মুখ দিয়ে কলম ধরে লেখার অনুশীলন করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পরে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে লেখার জন্য পা দিয়ে কলম ধরার কৌশল শেখেন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সেই দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকেন।

 

২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন রাব্বি। পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চালিয়ে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাঁর শিক্ষাজীবনে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

নিজের ফলাফলে সন্তুষ্ট রাব্বি জানিয়েছেন, এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক এবং তাঁকে সহযোগিতা করা অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

 

ছেলের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাবা বজলুর রহমান। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর দুই হাত হারানো ছেলের পক্ষে আবার স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু রাব্বি নিজের চেষ্টা ও পরিবারের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতেও ছেলে যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

এবার রাব্বির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাঁর বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজা। তিনি ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

রাব্বির অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার তাঁর চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাব্বি উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন।

 

এসএসসি ও এইচএসসিতে ধারাবাহিকভাবে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রাব্বির সামনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখার কৌশল শেখা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে গবেষণার জগতে এগিয়ে যাওয়া।
সূত্র: নিউজ২৪

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলা, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।   পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খন্দকার আব্দুল হাফিজের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিংবা আদালতে হাজির করার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, খন্দকার আব্দুল হাফিজ বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, বনানী থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে বলেও জানান তিনি।   এদিকে, ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খন্দকার আব্দুল হাফিজসহ সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা তৎকালীন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে বর্তমান গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: আমার দেশ

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১:১
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির

পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার

ডিএমপির নিউজ পোর্টাল

ডিএমপির নিউজ পোর্টাল হ্যাক, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার চিত্র

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা, ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন

পাটকেলঘাটায় বাস খাদে পড়ে আ হ ত ২৫ থেকে ৩০ জন
লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের বাসের চা পায় নিহত পথচারী, খাদে পড়ে আ হ ত ৩০

খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে অংশ নিয়ে ফেরার পথে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি বাসের চা পায় আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নি হ ত হয়েছেন। এ সময় বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে জামায়াতের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী আ হ ত হন।   শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা–সাতক্ষীরা মহাসড়কের চারাবটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নি হ ত আব্দুল খালেক মোড়ল পাটকেলঘাটার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আফতাব মোড়ল। নি হ তের প্রতিবেশী রিপন মোল্লা জানান, খুলনায় লংমার্চের কর্মসূচি শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাসে করে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন। পথে চারাবটতলা মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসটির নিচে চা পা পড়েন আব্দুল খালেক। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। রিপন মোল্লা আরও জানান, নি হ ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আজিজুর রহমানের ভাষ্য, বাসটির সামনে হঠাৎ ওই বৃদ্ধ চলে আসেন। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ২০ থেকে ৩০ জন আ হ ত হয়েছেন এবং ওই বৃদ্ধের মৃ ত্যু হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন জানান, লংমার্চ শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বহনকারী বাসের চা পায় এক পথচারী নি হ ত হয়েছেন। পরে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে কয়েকজন আ হ ত হন। ওসি আরও জানান, বাসচালকের অবস্থা কিছুটা গুরুতর। তবে বাসের অন্য যাত্রীরা সামান্য আ হ ত হয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:১৬
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু, জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলক

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু, জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া কলেজ থেকে একজন মাত্র পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। ছবি: সংগৃহীত

৮ জন শিক্ষক মিলেও পাশ করাতে পারলেন না একমাত্র ছাত্রকে, হতবাক সকলে

এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ

এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার শিক্ষার্থী

একটি রেডিও কিনতে ৫ বিঘা জমি বিক্রি করেন! ব্যাটারি কিনতে খরচ হয় দেলোয়ার হোসেনের আরও ১ বিঘা
একটি রেডিও কিনতে ৫ বিঘা জমি বিক্রি করেন! ব্যাটারি কিনতে খরচ হয় দেলোয়ার হোসেনের আরও ১ বিঘা

একটি জাপানি রেডিও কেনার শখে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করেছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দেলোয়ার হোসেন মিঞা। পরে রেডিও চালানোর খরচ জোগাতে এবং সংসারের নানা প্রয়োজনে একে একে বিক্রি হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক ২৬ বিঘা জমি। হারাতে হয় বসতবাড়িও। বহু বছর পর বাবার সেই প্রিয় রেডিওটি উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন ছেলে আলতাফ হোসেন। জমিজমা হারানোর বেদনাময় স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রেডিওটি এখন তাঁর কাছে বাবার স্মৃতিচিহ্ন।   সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দেলোয়ার হোসেন মিঞা। ১৯৬৫ সালে গান ও খবর শোনার প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি একটি রেডিও কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় পাঁচ বিঘা জমি ২৫০ টাকায় বিক্রি করে পাবনা থেকে জাপানি রেডিওটি কিনে আনেন। তখন গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে রেডিও ছিল দুর্লভ ও মূল্যবান একটি যন্ত্র। দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে রেডিও আসার পর আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর বাড়িতে আসতেন গান ও খবর শুনতে। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি হয়ে ওঠে খবর জানার একটি পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের মানুষ এই রেডিওতে যুদ্ধের খবর শুনতেন। ছেলে আলতাফ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রেডিওর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর বাবাকে নির্যাতন করে এবং তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।   তবে রেডিও কেনার পর সেটি সচল রাখাও দেলোয়ার হোসেনের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। বিদ্যুতের পরিবর্তে ব্যাটারিতে চলত যন্ত্রটি। ব্যাটারি কেনার অর্থ জোগাতে তাঁকে আরও জমি বিক্রি করতে হয়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষের নানা আবদার পূরণ এবং নিজের শখ ধরে রাখতে গিয়ে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। ১৯৬৯ সালে বিক্রি করতে হয় বসতবাড়িও। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে প্রিয় রেডিওটিও হাতছাড়া হয়। আলতাফ হোসেনের দেওয়া একটি বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মাত্র ১৮০ টাকায় রেডিওটি বিক্রি করে দেন তাঁর বাবা। তবে ২০২৩ সালে কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলতাফের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে অর্থের অভাবে রেডিওটি বন্ধক রাখা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সময় সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ফলে রেডিওটি বিক্রি নাকি বন্ধক রাখা হয়েছিল এবং দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সঠিক সাল কোনটি, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে অসংগতি রয়েছে।   রেডিওটি হাতছাড়া হওয়ার বহু বছর পরও সেটির কথা ভুলতে পারেননি আলতাফ হোসেন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর ২০২২ সালে তিনি বাবার সেই রেডিওটি উদ্ধার করেন। একটি প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, রেডিওটি স্থানীয় জিল্লার খন্দকার নামের এক ব্যক্তির কাছে ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আমজাদের কাছ থেকে রেডিওটি ফেরত পান আলতাফ। বাবার স্মৃতিবিজড়িত যন্ত্রটি ফিরে পাওয়ার পর তিনি সেটি যত্ন করে সংরক্ষণ করতে থাকেন। রেডিওটির গায়ে জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানি লিমিটেডের নাম লেখা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যন্ত্রটি চালাতে একসঙ্গে আটটি বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হতো। ২০২২ সালের বিবরণ অনুযায়ী, এসব ব্যাটারি কিনতে প্রায় ৪০০ টাকা লাগত। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আলতাফ তখন রেডিওটি চালু করতে পারেননি। তবু বাবার স্মৃতি হিসেবে সেটি পরিষ্কার করে কাপড়ে মুড়িয়ে যত্নসহকারে রেখে দিতেন।   ২০২৩ সালের ২০ মে প্রকাশিত কালবেলার এক প্রতিবেদনে আলতাফ হোসেনের এই রেডিও সংরক্ষণের গল্প তুলে ধরা হয়। সেখানে স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরোও জমি বিক্রি করে রেডিও কেনার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেন তাঁর জমিজমা বিক্রি করে গিয়েছিলেন। বাবার সেই রেডিওর প্রতি আলতাফের ভালোবাসার কারণে এলাকায় তিনি ‘রেডিও আলতাফ’ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।   একসময় যে রেডিও ঘিরে রহিমাবাদ গ্রামের মানুষের ভিড় জমত, বহু বছর পর সেই যন্ত্রই হয়ে ওঠে একটি পরিবারের অতীতের স্মারক। দেলোয়ার হোসেনের শখের রেডিওটি এখন আর শুধু গান বা খবর শোনার যন্ত্র নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জমিজমা হারানোর ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং বাবার প্রতি এক ছেলের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা। সূত্র : প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:৪৩
তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় বাদী হতে পারে পুলিশ

পরিবার মামলা না করলে তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেই হবে মামলা

তুরাগ নদীতে সাবেক বিমান কর্মকর্তার ম রদেহ উদ্ধার (ছবি- সংগৃহীত)

শেষ কণ্ঠবার্তায় ‘মা, আমি আসছি’, পরদিন তুরাগ নদীতে মিলল সাবেক কর্মকর্তার ম রদেহ

কৃষক নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম চলছে

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪৩ লাখ

0 Comments