সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#আমেরিকা_বাংলা

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর ঘটনা স্মরণ করা হয়
গির্জায় প্রার্থনারত খ্রিস্টানদের বাঁচাতে বো মা সরাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মুসলিম যুবক

বড়দিনের আগের রাতে গির্জায় প্রার্থনারত খ্রিস্টানদের রক্ষা করতে বোমা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম যুবক রিয়ান্তো। কিন্তু সেটি নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার আগেই বিস্ফোরণ ঘটে। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পূর্ব জাভার মোজোকার্তো শহরের এবেন হায়েজার গির্জায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী এই স্বেচ্ছাসেবক। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর ঘটনা স্মরণ করা হয়।   রিয়ান্তো ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম সংগঠন নাহদাতুল উলামার যুব সংগঠন আনসরের স্বেচ্ছাসেবী শাখা বানসারের সদস্য। বড়দিনের প্রার্থনায় নিরাপত্তায় সহায়তা করতে তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে গির্জায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় ধর্মীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোজোকার্তোর বিভিন্ন গির্জায় বানসারের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল।   দ্য জাকার্তা পোস্টের ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গির্জার সামনে একটি বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাওয়া যায়। তখন ভেতরে কয়েকশ মানুষ বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে বিপদ সরাতে রিয়ান্তো প্যাকেটটি তুলে দূরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সেটি ফেলে দেওয়ার আগেই বিস্ফোরিত হয়।    রিয়ান্তোর মৃত্যু তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি ছিলেন সাত ভাইবোনের মধ্যে বড়। গির্জার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর প্রাণ হারানোর ঘটনা ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে।    ঘটনার বহু বছর পরও তাঁকে স্মরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৯ সালে তাঁর পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। ২০২৪ সালে ঘটনার ২৪ বছর পূর্তিতেও মোজোকার্তোয় আনসর ও গুসদুরিয়ান সংগঠনের সদস্যরা তাঁর কবর পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানান। নাহদাতুল উলামার প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্য ধর্মের মানুষের জীবন রক্ষায় রিয়ান্তোর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে
হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ

হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝড় দুর্বল হয়ে পড়লেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, দমকা বাতাস ও টর্নেডোর ঝুঁকি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে।    ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে। তখন এটি ক্যাটাগরি ২ মাত্রার হারিকেন ছিল। স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়টি দুর্বল হতে থাকে। তবে আলাবামার দক্ষিণাঞ্চল, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এবং জর্জিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়ে যায়।    বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআউটেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফ্লোরিডায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, আলাবামায় ১ লাখ ৯০ হাজার, জর্জিয়ায় ৪৩ হাজার এবং মিসিসিপিতে ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এই সংখ্যা বিদ্যুৎ সংযোগের হিসাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা নয়।    আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তারের কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউন্টির সব সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকাটিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি ছিল।    ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে, সেতু ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চললেও পেনসাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর
যুদ্ধের ক্ষত সারিয়ে ১৩ বছর পর খুলল সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শেষে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক পুনরুদ্বোধন হয়। গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই স্থাপনা ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আবার সচল হলো।   সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল গারিব, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর বলেন, বহু বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর মসজিদটিকে নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের সময় এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   আল গারিব মসজিদটির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, উমাইয়া আমল থেকে এটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অংশ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলেম, ধর্মীয় বক্তা ও চিন্তাবিদদের মিলনস্থল হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও মসজিদটির ভূমিকা স্মরণ করেন তিনি।    ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পোয় সংঘর্ষের সময় মসজিদ ও আশপাশের এলাকা যুদ্ধের সম্মুখভাগে পরিণত হয়। গোলাবর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডে নামাজের কক্ষ, বারান্দা, প্রবেশপথ এবং স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভেঙে পড়ে ঐতিহাসিক মিনারটি। সেটি ধ্বংসের দায় নিয়ে তৎকালীন সরকারি বাহিনী ও বিরোধী পক্ষ পরস্পরকে অভিযুক্ত করেছিল।    মসজিদটির সংস্কার অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়নি। ইউনেসকোর কাছে জমা দেওয়া পুরোনো নথিতেও ধ্বংসাবশেষ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করা এবং মিনারের পাথর সংরক্ষণের কাজের বিবরণ রয়েছে। ফলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগকে শুধু ২০২৪ সালের পরের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    সিরীয় সংবাদমাধ্যম এনাব বালাদির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর নিজের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ কাজের মধ্যে ছিল বারান্দা, আঙিনার পাথরের মেঝে, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও অজুখানা সংস্কার। মিনার পুনর্নির্মাণে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা মূল পাথরের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত প্রাচীন আলেপ্পো নগরীর অন্যতম প্রধান নিদর্শন।    পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল রিফাই জানান, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদগুলোতে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় পাঠচক্র আয়োজনের কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে। আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশোও আশা প্রকাশ করেন, পুনরায় চালু হওয়া উমাইয়া মসজিদ ইবাদতের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ফিরে পাবে।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণা
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডিংয়ে পিএইচডি! আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল কলেজের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আবেদনকারীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচিত গবেষকদের টিউশন ফি, জীবনযাপনের জন্য বার্ষিক অনুদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলটাইম গবেষকদের তিন বছরের এবং পার্টটাইম গবেষকদের ছয় বছরের টিউশন ফি বহন করবে স্টুডেন্টশিপ। ফুলটাইম গবেষকদের জন্য বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড করমুক্ত মেইনটেন্যান্স গ্র্যান্ট এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ৯০০ পাউন্ডের সহায়তা উল্লেখ রয়েছে। প্রচারিত তথ্যে বার্ষিক অনুদান প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড বলা হলেও বর্তমান আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অঙ্কটি প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড।    যেসব প্রকল্পে পার্টটাইম সুযোগ রয়েছে, সেখানে পড়াশোনার সময় ও ফান্ডিং ফুলটাইমের ৫০ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে। এই সুযোগ ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে গবেষণার জন্য। তবে প্রচারিত পোস্টে ১৩০টি স্টুডেন্টশিপের কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিযোগিতার ঘোষণায় মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত করা হয়নি।    সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফার্স্ট ক্লাস অথবা আপার সেকেন্ড ক্লাস, অর্থাৎ ২:১ অনার্স ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সমমানের আন্তর্জাতিক যোগ্যতাও বিবেচিত হতে পারে। লোয়ার সেকেন্ড ক্লাস বা ২:২ অনার্সের সঙ্গে মাস্টার্সে ডিস্টিংকশন থাকলে আবেদন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে।    ২০২৭ সালের ভর্তির আবেদন ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। শেষ সময় ৮ জানুয়ারি ২০২৭, যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৪টা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি একই দিন রাত ১০টা। তবে যোগ্যতার অংশে ডিগ্রি অর্জনের সময় হিসেবে এখনো সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেখা রয়েছে। তাই যাঁদের ডিগ্রি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট সময়সীমা ডক্টরাল কলেজের কাছে নিশ্চিত করতে হবে।    আবেদনের সঙ্গে চাওয়া ডিগ্রি সার্টিফিকেট, গবেষণা প্রস্তাব, সিভি এবং প্রয়োজনে একাডেমিক লেখার নমুনাসহ সব নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি বাদ থাকলে আবেদন সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রকল্পের বিবরণে উল্লেখ করা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও রয়েছে।    প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারভিউ এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ফল জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্টুডেন্টশিপ শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৭। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, যেখানে আবেদনকারীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনা করা হবে।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন অরুণ
কাপড় ইস্ত্রি করেই তার মাসে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা আয়

ভারতে কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন বলে দাবি করেছেন অরুণ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার রুপি থাকে। দুই কর্মীকে মাসিক ২০ হাজার রুপি করে বেতন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ভিত্তি করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমস ৮ অক্টোবর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি ‘টু জেনারেশনস ওয়ান ভ্লগ’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অরুণ জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি পোশাক ইস্ত্রি করেন এবং প্রতিটির জন্য ৮ রুপি নেন। এই হিসাবে দৈনিক আয় দাঁড়ায় ৪ হাজার রুপি।    তবে দৈনিক কাজের পরিমাণ ও মাসিক আয়ের দাবির মধ্যে হিসাবের অমিল রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০টি পোশাক ৮ রুপি করে ইস্ত্রি করলে ৩০ দিনে মোট আয় হয় ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির অঙ্কটি কীভাবে আসে, প্রতিবেদনে তার ব্যাখ্যা নেই। ফলে তাঁর উল্লেখ করা মাসিক আয়কে নিশ্চিত হিসাব হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।    অরুণের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজটি তিনি একা করেন না। তাঁর সঙ্গে আরও দুইজন কাজ করেন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের ইস্ত্রি দিয়ে কাজ করতে হয়, যা শারীরিক পরিশ্রমের। আগ্রহীরা কাজটি শিখতে পারেন বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন তিনি।    ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ছোট ব্যবসার আয় ও চাকরির বেতনের তুলনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আয়, খরচ ও কর্মীদের বেতনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যনির্ভর। 

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০