- প্রচ্ছদ
- Topic
কুমিল্লা
কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের রাতে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ। তবে যাত্রার সময় যাত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হতে পারে ভেবে তিনি সেই উদ্বেগের কথা জানাননি। ৭ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে রওনা হওয়া ১৫ বছরের তাজমিন আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আবদুল্লাহর এই বক্তব্য উঠে এসেছে। তিনি জানান, তাজমিন রাতে কুমিল্লায় পৌঁছাবে বুঝতে পেরে তাকে ও সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে বিষয়টি বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু বলেননি। তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে সে কোথায় এবং কার কাছে থাকছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি মা-বাবা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কক্সবাজারে আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের বাসের টিকিট কাটেন। দুপুর ১২টার বাসের জন্য টিকিট নেওয়া হলেও সেটি ছাড়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর। তাজমিন একা কুমিল্লায় ফিরবে বলে তার জন্য একটি একক আসনের টিকিট নেওয়া হয়েছিল। আবদুল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দিনের বেলায় রওনা হলেও বাসটি কুমিল্লায় পৌঁছাতে রাত হবে, বিষয়টি তাঁর মনে ছিল। একজন কিশোরীর তখন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। তবে তাজমিন বা রাজুকে যাত্রার সময় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, এমন তথ্য তাঁর বক্তব্যে নেই। রাজু দাবি করেছেন, তাজমিন যাতে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য যাত্রাপথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। কক্সবাজারে থাকার সময় তাজমিনের বাবা ফোন করে মেয়েকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছিলেন বলেও দাবি করেন রাজু। এসব বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছে পুলিশ। তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন বলেছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বান্ধবীর নাম কিংবা তাঁর পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন তা জানায়নি বলে মায়ের ভাষ্য। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছায় তাজমিন। সেখান থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। কিন্তু চালক তাকে বাড়ির পথে না নিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ১০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পুলিশের অভিযোগ, সেখানে তাকে ধ র্ষ ণের পর হ ত্যা করা হয়। ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানখেত থেকে ম র দে হ উদ্ধারের পর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রে প্তা র করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হ ত্যার দায় স্বীকার করেছেন সুমন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে ১১ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে রাজুকে আ ট ক করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ও সেখানে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে হ ত্যা কাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বান্ধবীর বিরুদ্ধেও হ ত্যা য় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার কারণ নিয়ে রাজু ও পরিবারের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এসব বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না ধরে তার বাড়ি থেকে বের হওয়া, কক্সবাজারে অবস্থান, ফেরার যাত্রা এবং শেষ সময়ের যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হ ত্যা কাণ্ডে সুমনের ভূমিকা উঠে এলেও তাজমিনের কয়েক দিনের চলাফেরার ঘটনাক্রম যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার, ২ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত যাচাইয়ের আহ্বান জানান। এই প্রক্রিয়া তাঁকে দিয়ে শুরু করার কথাও বলেন। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসনাত পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কয়েকটি হিসাব তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে এই দম্পতির সম্পদ ২০০৮ সালে ৬ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা ছিল। এসব অঙ্ক হাসনাতের পোস্টে উল্লিখিত হিসাব। গুলশানে সম্পত্তি এবং সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আয়, উত্তরাধিকার ও বিনিয়োগ থেকে কতটা সম্পদ এসেছে, তার যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানান হাসনাত। সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কারও হিসাব চাইতে পারে। তবে সরকারের সমালোচনার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে একইভাবে এমপি-মন্ত্রীদের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি জানান।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর তার বাবা-মাকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সময় সংবাদকে অপ্রতিমের বাবা বলেন, একটি নম্বর থেকে ফোন করে পরিচয় জানার পর তাঁকে অশোভন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। নম্বরটি ব্লক করার পরও অন্য নম্বর থেকে কল আসে বলে তাঁর অভিযোগ। এসব কল কারা করছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিরোজ শাহরিয়ারের অভিযোগ, বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও অপ্রতিম ও তার মাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ফোন ও অনলাইনে হয়রানির কারণে তাঁর স্ত্রী আতঙ্কে নিজের মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি জানান। অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়েও পরিবারের প্রশ্ন রয়েছে। তার বাবা বলেন, আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, তা তাঁরা জানেন না। এর আগে পুলিশ আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যকে হত্যার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। মামলার তদন্ত চলছে; পরিবারের প্রশ্ন বা পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যকে চূড়ান্ত তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন সানন্দা এলাকার পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল লেখায় নিখোঁজ হওয়ার দিন ২১ সেপ্টেম্বর বলা হলেও, আগের সংবাদ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী দিনটি ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। শুক্রবার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এখন হত্যা মামলার পাশাপাশি পরিবারকে ফোনে ও অনলাইনে হয়রানির অভিযোগের বিষয়টিও দেখছেন। সূত্র: আমার দেশ
কুমিল্লায় মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মাথায় আঘাতের ধরনসহ অন্যান্য আলামতও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কুমিল্লার লাকসামের মাদ্রাসাছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় কাজে লাগিয়ে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা লেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রায় আট মাসের প্রচেষ্টায় তিনি ১ হাজার ১১৯ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কাজে তিনি প্রায় ৫৫০টি কলম ব্যবহার করেছেন। সুরাইয়া জান্নাত কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের টানদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি প্রবাসী নূর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। বর্তমানে তিনি মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি হাতে কোরআন লেখার কাজ শুরু করেন সুরাইয়া। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় তিনি এই কাজে ব্যয় করেন। প্রায় আট মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে ৩০ পারার কোরআন হাতে লেখেন তিনি। পুরো পাণ্ডুলিপিতে মোট ১ হাজার ১১৯টি পৃষ্ঠা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন লেখার সময় পবিত্রতা ও শুদ্ধতা বজায় রাখতে বিশেষ সতর্ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সুরাইয়া। প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে অজু করতেন তিনি। এরপর নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে কোরআন লেখার কাজে বসতেন। নিজ হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের পর ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন সুরাইয়া। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ নিজের হাতে লেখার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী। মেয়ের এমন উদ্যোগে গর্বিত বাবা নূর হোসেন লিটন। মেয়ের হাতে লেখা কোরআন দেখে খুশি হয়ে তিনি তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরাইয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিস সুলতানা। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুরাইয়া পরিবারের কাছ থেকে পুরস্কার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সুরাইয়ার এই উদ্যোগের পেছনে নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন লেখার কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি ৩০ পারার পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। তবে তাঁর হাতে লেখা কোরআন সম্পন্ন করার সময় নিয়ে দেওয়া তথ্যে একটি সময়গত অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কাজ শুরুর কথা বলা হলেও আগস্টের শেষ দিকে পুরো কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ আগস্টের হিসাবে আগস্টের শেষ সময় এখনো আসেনি। তাই কাজটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
একসময় রাজধানী ঢাকার একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ছিলেন তিনি। শত শত শিক্ষার্থীর কাছে ছিলেন সম্মানিত শিক্ষক, দক্ষ ইংরেজি প্রশিক্ষক এবং বইপ্রেমী মানুষ। কিন্তু জীবনের একের পর এক আঘাতে সবকিছু হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত মঙ্গলবারে কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক সংগ্রামী শিক্ষকের জীবনের করুণ অধ্যায়। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঢাকার ফার্মগেটের সিটি রয়্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের দিকে কলেজের পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে এবং পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপালের পদ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তাঁর স্বজনদের ভাষ্য, চাকরিটি তিনি স্বেচ্ছায় ছাড়েননি; পরিস্থিতির কারণেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। চাকরি হারানোর পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। ফার্মগেট এলাকায় একটি পুরোনো বইয়ের লাইব্রেরি চালু করেন। পাশাপাশি ইংরেজির প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর সুনামের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ইংরেজি শিখতে আসতেন। ধীরে ধীরে আবার জীবন গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারি সেই স্বপ্নও ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিনের বইয়ের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রাইভেট টিউশনিও একেবারে কমে আসে। আয়ের প্রায় সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। যে মানুষটি সারা জীবন অন্যকে শিক্ষার আলো দিয়েছেন, সেই মানুষটিই তখন সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে থাকেন। এর মধ্যেই নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। হঠাৎ তাঁর স্ত্রী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একের পর এক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। ঢাকায় টিকে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ্যও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হন। কিন্তু সেখানেও ছিল না কোনো নিশ্চয়তা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গ্রামের সম্পত্তির বড় অংশ আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয় শ্বশুরবাড়িতে। সেই সময় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। বড় ছেলে এসএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। কিন্তু কোথায় তাদের ভর্তি করাবেন, কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। গ্রামের আশপাশে ভালো স্কুল-কলেজেরও তেমন সুযোগ ছিল না। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর এক পুরোনো বন্ধুকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন, বড় ছেলেকে হয়তো আর পড়াতে পারবেন না। সংসারের দায়ে তাকে রাজমিস্ত্রির কাজ শিখিয়ে দিতে হতে পারে। আর ছোট ছেলেকে অন্তত কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর চেষ্টা করবেন। একজন শিক্ষক, যিনি সারা জীবন অন্যের সন্তানদের শিক্ষিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাকেই একদিন নিজের সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবতে হয়েছিল। ক্রমাগত আর্থিক সংকট, স্ত্রীর দীর্ঘ চিকিৎসা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্ব ধীরে ধীরে তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার সকালে কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন খবর আসে, কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ছেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগার পর তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পোস্টে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলামের জীবন কেবল একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির গল্প নয়; এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি সম্মানিত পেশাজীবন থেকে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক দুর্ভোগ ও মানসিক সংকটের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছেন। একসময় যিনি কলেজের প্রিন্সিপালের কক্ষে বসে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁকেই ভাবতে হয়েছে—নিজের সন্তানদের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন। আর সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ শেষ হয়েছে লাকসামের রেললাইনে। রফিকুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি সমাজের কাছেও একটি নীরব প্রশ্ন—জীবনের কঠিনতম সময়ে একজন শিক্ষক, একজন মধ্যবিত্ত মানুষ এবং একটি অসহায় পরিবারের পাশে আমরা কতটা দাঁড়াতে পেরেছি?
কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত স্কুলছাত্র প্রেমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিন ধরে কাটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া চলছিল। এর প্রতিবাদ এবং এলাকা মাদকমুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাড়ি ফেরার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় প্রেমসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রেমের বয়স মাত্র ১৩ থেকে ১৫ বছর হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিশুটি হামলার শিকার হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। আমরা চাই, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের নিয়ন্ত্রণেই কিশোর গ্যাংগুলো পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, “প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।” কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। তবে ঘটনার পরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত কুমিল্লার সন্তান শাহ আলম ভুঁইয়া (৫০)। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশটির দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় আকাশ থেকে পড়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার মেজো ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় যখন বিপদসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছিলেন। শাহ আলম সে সময় নিজের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা ড্রোনের অংশবিশেষ সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয়দের ধারণা, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করার পর এর অবশিষ্টাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার ও গ্রামবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটারে পেট্রোল বিক্রির দায়ে দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চিওড়া বাজারে অভিযানটি চালানো হয়। ইউএনও নুরুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি এবং তেল কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দোকানির মালিক আবু রায়হান জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ডিলার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কারা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করছে, তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বুড়িচং এলাকায় বিরতি নিয়ে তারা একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার সেরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী একটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ জব্দ করতে পারলেও চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার জেরে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বিশেষ করে কুমিল্লা-য় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়া-য় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দঘন সময়ে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ১ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকেও তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির তদারকি করছেন। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, রেলগেট খোলা থাকায় বাসটি লাইনের ওপর উঠে যায় এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এক বীভৎস ভোরের সাক্ষী হলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। গভীর রাতে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে 'মামুন পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘাতক ট্রেনটি যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরাতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।