ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্মের মেয়েকে বিয়ে: ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন বাবা
পাবনা প্রতিনিধি:
ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করায় নিজের একমাত্র সন্তান সজল আলী ওরফে সজল সরদারকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বাবা আজগর আলী সরদার।
রবিবার (৫ এপ্রিল) পাবনা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
সজল আলী সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী চাঁদার মোড় গ্রামের মো. আজগর আলী সরদার এর একমাত্র সন্তান। বাবা আজগর আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হলফনামায় আজগর আলী সরদার উল্লেখ করেন, ‘আমার ছেলে সজল আলী সরদার চলতি বছরের গত ০৯ ফেব্রুয়ারী তারিখে নোটারী পাবলিক পাবনা বাংলাদেশ ২৬২ মোতাবেক হলফনামা সম্পাদনা করে একই উপজেলার সাহাপুর গোলচত্ত্বর এলাকার সরগেন মন্ডলের মেয়ে আরতি রাণী কে বিয়ে কেরেছ। বিয়ের আগে গত ০১ ডিসেম্বর’২৬ তারিখে নোটারী পাবলিক পাবনা থেকে ১৫৪৯০ নম্বর স্মারক মোতাবেক হলফনামা সম্পাদন করে নিজ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু (সনাতন) ধর্ম গ্রহণ করেছে।’
আজগর আলী সরদার হলফনামায় আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার ঔরষজাত সন্তান মো. সজল আলী ওরফে সজল সরদার ইসলাাম ধর্ম ত্যাগ করে নতুন (হিন্দু) সনাতন নাম-সজল সরকার রেখেছে। এ কারণে আমি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় আামার সকল প্রকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বা জায়গা জমি যেখানে যে অবস্থায় আছে, উক্ত সম্পত্তি বা জায়গা জমির কোন অংশীদার সে হবে না। আমি এই হলফনামা মূলে মো. সজল আলী ওরফে সজল সরদারকে আমার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ত্যাজ্য করলাম।’
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘আমার মৃত্যুর পর কোনভাবেই মো. সজল আলী ওরফে সজল সরদার আমার কোন স্থাবর সম্পত্তি বা জায়গা জমি এমনকি সম্পত্তির কোন অংশীদার হবে না। এই হলফনামা মূলে আমার সকল প্রকার স্থাবর সম্পত্তি জায়গা জমি ও অবস্থাবর সম্পত্তি থেকে মো. সজল আলী ওরফে সজল সরদারকে ত্যাজ্য করলাম। ভবিষ্যতে সে কখনও আমার ঔরষজাত সন্তান হিসাবে আমার স্থাবর সম্পত্তি জায়গা জমি বা অবস্থাবর সম্পত্তির দাবী করতে পারবে বা করলেও তা আইনতঃ গ্রহণযোগ্য হবে না।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ছেলে সজলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত, এখানে অন্য কিছু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো সংসদ সদস্য তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন না, এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত। কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে, দলের পক্ষ থেকে যেখানে ভোট দিতে বলা হবে, সেখানেই ভোট দিতে হবে।" সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, কেউ দলের মতামতের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ৩১ দফা অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বিএনপি কেন এত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করল তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিএনপি হয়তো ভেবেছিল সংশোধন না করে নির্বাচন করলে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে, আর সংশোধন হলে সমস্যা হতে পারে। অলি আহমদের এই প্রতিক্রিয়ার কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ৩৫০ সদস্যের সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ নিজে ভোট দিতে পারেননি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে, আর সেখানে মাজার জিয়ারত ও নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, "একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি; আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু ভালো জিনিস আশা করি। সব জিনিসের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।"
রিলস দেখে সময় নষ্ট না করে ৮ মাসে পুরো কোরআন লিখলেন সুরাইয়া
যশোরে সিজারের পর নবজাতকের মৃত্যু, শরীরে কাটার চিহ্ন নিয়ে অভিযোগ
দ্বাদশ শ্রেণিতেই ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং, শাফির এআই স্টার্টআপে বাংলাদেশের বিশ্বজয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের বিশেষ খাবার ‘খদরে’ আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই ফিরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া একদিনের ব্যবধানেই নতুন করে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট রাতে নতুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবারের আয়োজনে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থাও ছিল বলে বিয়ের ছবি ও স্বজনদের বক্তব্যে জানা গেছে। নতুন কনের নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়া এলাকার জাহের মিয়ার মেয়ে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জুনায়েদের বাড়িও একই এলাকায়। নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ টাকা। বিয়ের পর জুনায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের বিশেষ খাবারের আয়োজনও নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে খদরে খাসি পরিবেশনের দৃশ্য দেখা যায়। আগের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই খাসিকে ঘিরেই বিরোধ তৈরি হওয়ায় নতুন বিয়েতে একই আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এর মাত্র একদিন আগে সোমবার ১৭ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জুনায়েদ। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বরপক্ষের জন্য বিশেষভাবে সাজানো খাবার ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। কনেপক্ষের অভিযোগ, ওই খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান। কনেপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ফুল ও অন্যান্য আয়োজন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খাবারের সময় খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি বিয়েতে রাজি হননি বলে দাবি কনেপক্ষের। তবে ঘটনার পর জুনায়েদ পাল্টা বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, শুধু খাসি না থাকাই বিয়ে না হওয়ার কারণ ছিল না। তার অভিযোগ, বিয়ের আসরে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি কাবিন দাবি করা হয়েছিল এবং তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। জুনায়েদের অভিযোগের বিপরীতে প্রথম কনেপক্ষ জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। তাদের দাবি, দুই লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বরের পক্ষের একজন প্রতিনিধিও সেই লিখিত ফর্দে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে বিয়ের দিন হঠাৎ অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। প্রথম ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কনের স্বজনদের বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কনের বাবা জানিয়েছিলেন, আগে থেকে জানানো হলে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা যেত। তার দাবি ছিল, এমন কোনো বিশেষ শর্তের কথা তাকে আগে জানানো হয়নি। খাসি নিয়ে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুনায়েদকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা থামার আগেই পরদিন রাতে তার নতুন বিয়ের খবর সামনে আসে। নতুন বিয়েতে ছয় লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং বরের খদরে খাসি পরিবেশনের ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিন আগে যে খাসিকে ঘিরে বিয়ে না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একদিন পর সেই খাসির আয়োজনের মধ্যেই নতুন সংসার শুরু করলেন আলোচিত জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।
আস্ত খাসি না দেওয়ায় তর্ক করলেন বর, বিয়ে না দিয়েই জাপানপ্রবাসীকে ফিরিয়ে দিলেন কনের বাবা
কান্নায় ঘুমের ব্যাঘাত, ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা করল মা
চালুর প্রথম দিনেই পিংক বাসকে ধাক্কা দিল বলাকা
বাংলাদেশি অভিযাত্রী ও ভ্রমণকন্যা নাজমুন নাহার ১৮৫টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেছেন। গত ৭ আগস্ট ভুটান সফরের মধ্য দিয়ে ১৮৫তম দেশে পা রাখেন তিনি। তার এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ বছরের দীর্ঘ ভ্রমণযাত্রায় নাজমুন নাহার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন ও উত্তোলন করেছেন। পাহাড়, দুর্গম পর্বত, মরুভূমি, সাগর, মহাসাগর, দ্বীপ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ ১ হাজার ২৯৪টিরও বেশি স্থানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন। তার এই দীর্ঘ যাত্রা অবশ্য সবসময় সহজ ছিল না। দুর্গম সীমান্ত, দীর্ঘ সড়কপথ এবং নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একক ভ্রমণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে বিশ্বের স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর মধ্যে সড়কপথে ভ্রমণকে নিজের অভিযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন নাজমুন। ২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তার বিশ্বভ্রমণের শুরু। এরপর ধীরে ধীরে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে চলেছেন তিনি। ভ্রমণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরাকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন নাজমুন। ২০১৮ সালের ১ জুন জিম্বাবুয়ে সফরের মাধ্যমে ১০০টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে সফরে তার ভ্রমণ করা দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০-এ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভানুয়াতু সফরের মাধ্যমে তা ১৭৫-এ পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরে ১৮৪টি দেশে ভ্রমণ সম্পন্ন করেন তিনি। সর্বশেষ ভুটান সফরের মাধ্যমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫-তে। বিশ্বভ্রমণের সময় নাজমুন নাহার শুধু পর্যটন বা ব্যক্তিগত অভিযাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দেশের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এ জন্য বিশ্বের শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি। তার ভ্রমণযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শান্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিশুবিবাহ বন্ধের বার্তাও। ‘যুদ্ধ নয়, শুধু শান্তি’, ‘পৃথিবীকে রক্ষা করুন’ এবং ‘শিশুবিবাহ বন্ধ করুন’ - এসব বার্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। তরুণদের অনুপ্রেরণা দেওয়াও নাজমুন নাহারের কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক। সাহস, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ ও নিজের লক্ষ্য পূরণের দৃঢ়তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথা বলেছেন তিনি। টেডএক্সের মঞ্চেও বক্তব্য দিয়েছেন এই বাংলাদেশি অভিযাত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন নাজমুন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘সাফার ফর পিস’-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ভ্রমণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ৭০টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নাজমুন নাহার। এর মধ্যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ‘পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে জাম্বিয়া সরকার তাকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধিতে সম্মানিত করে। ২০২৩ সালে সেন্ট লুসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জে পিয়েরে তাকে ‘ব্রেভ গার্ল’ উপাধিতে ভূষিত করেন। নাজমুন নাহারের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলকও এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরের মাধ্যমে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাকে সম্মাননা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পতাকা ১৮৪টি দেশে বহন করার জন্য তাকে ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ উপাধিতে সম্মানিত করে। নাজমুনের ভ্রমণযাত্রার বিশেষত্ব হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা। ১৮৫টি দেশে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার এই দীর্ঘ অভিযাত্রা বাংলাদেশের নাম ও পতাকাকে বিশ্বের আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরেছে। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৫তম দেশের মাইলফলক অর্জনের পরও নাজমুন নাহারের ভ্রমণযাত্রা থেমে নেই। বিশ্বকে কাছ থেকে দেখা, বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরা এবং শান্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তার এই অভিযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন
দুইদিন ধরে হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু