সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে গুলিবর্ষণ, ১১ বছরের শিশুর মাথায় আটকে আছে গুলি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হ্যালান্ডেল বিচে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের পার্কিং লটে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবা আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটির মাথায় আটকে থাকা গুলিটি আপাতত অপসারণ করা সম্ভব নয়, কারণ অস্ত্রোপচার করলে আরও গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।  

 

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ জুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে বসে খাবারের অপেক্ষা করছিল শিশুটি। এ সময় পার্কিং লটে দুই ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে ১৮ বছর বয়সী রালফ এন-কোসি ব্লু নামে এক যুবক গুলি চালায়। লক্ষ্য অন্য ব্যক্তি হলেও কয়েকটি গুলি গিয়ে লাগে পরিবারের গাড়িতে। এতে শিশুটি মাথায় এবং তার বাবা কোমরে গুলিবিদ্ধ হন। গাড়িতে থাকা আরও দুই শিশু শারীরিকভাবে অক্ষত থাকে।  

 

শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও গুলিটি এখনও মাথার ভেতরে রয়েছে। তাঁদের মতে, বর্তমান অবস্থায় গুলি বের করার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের আরও ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে আহত বাবা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  

 

ঘটনার দুই দিন পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ম্যাকডোনাল্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আর তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাড়ির বেসমেন্ট
বেসমেন্ট ফাঁকা পড়ে আছে? এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিয়ে হতে পারে বাড়তি আয়ের নতুন পথ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির বেসমেন্ট বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বিশেষ করে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বেসমেন্টে নিয়মিত কোনো পরিবারকে ভাড়া দিতে চান না। একই বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদে অন্য পরিবার থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পার্কিং, শব্দ, যাতায়াতসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসমেন্টটি সুন্দরভাবে সংস্কার করে স্বল্পমেয়াদি থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, ভবন নির্মাণবিধি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা এবং মর্টগেজের শর্ত যাচাই করা জরুরি।   দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার একটি সুবিধা হলো নমনীয়তা। বাড়ির মালিক নিজের সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বেসমেন্ট অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন এবং পরিবারের প্রয়োজন হলে সেটি খালি রাখতে পারেন। তবে স্থানীয় আইনে যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা, অনুমতি বা অন্যান্য শর্ত থাকে, সেগুলো অবশ্যই মানতে হবে।   জর্জিয়ার কামিংয়ের বাসিন্দা সুজানের অভিজ্ঞতা এ ধরনের সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় সুজান জানান, তার বাড়ির বেসমেন্টটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে ছিল। নিজের একক পরিবারের বাড়িতে অন্য একটি পরিবারকে নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া থাকলে পারিবারিক গোপনীয়তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করতেন।   পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বিষয়ে জানতে পারেন সুজান। এরপর তিনি নিজের এলাকার আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং এয়ারবিএনবির অতিথি রাখার প্রয়োজনীয়তাগুলোও যাচাই করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করে বেসমেন্টটি অতিথিদের থাকার উপযোগী করে তোলেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগে যে জায়গাটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত ছিল, সেটিই এখন বাড়তি আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠেছে।   সুজানের কাছে বিষয়টি শুধু বাড়তি আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যেসব অতিথি তার বাড়িতে থেকেছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের এলাকার যোগাযোগের তথ্য দিয়ে গেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সুজান তাদের অঙ্গরাজ্যে গেলে নিজেদের বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণও পেয়েছেন। ফলে বেসমেন্টটি তার কাছে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।   তবে সুজানের অভিজ্ঞতা অন্য বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ম অঙ্গরাজ্য, শহর ও কাউন্টিভেদে ভিন্ন। কোনো এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোথাও এলাকার ব্যবহারবিধির কারণে নির্দিষ্ট ধরনের বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ হতে পারে। এয়ারবিএনবির নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় অতিথি গ্রহণের আগে নিবন্ধন, অনুমতি বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।   বিশেষ করে বেসমেন্টকে আলাদা থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার আগে স্থানীয় ভবন নির্মাণবিধি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা প্রবেশপথ, জরুরি বহির্গমন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকারী এবং কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারীর মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থানীয় নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। শুধু ঘরটি সুন্দর করে সাজালেই সেটি অতিথিদের থাকার জন্য আইনগতভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় না।   বাড়িটি যদি বাড়ির মালিক সমিতির আওতায় থাকে, তাহলে সমিতির নিয়মও আগে দেখতে হবে। অনেক বাড়ির মালিক সমিতি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির বীমা কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলা জরুরি। কারণ স্বল্পমেয়াদি অতিথি থাকার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সম্পত্তির ক্ষতির জন্য বীমার আওতা কী হবে, তা আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত।   মর্টগেজের শর্তও উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাড়ির কোনো অংশ স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণচুক্তিতে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা দরকার। স্থানীয় আইন অনুমতি দিলেও ঋণচুক্তির কোনো শর্তের কারণে বাড়ির মালিক বেসমেন্ট ভাড়া দিতে নাও পারেন।   কর ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি বা বাড়ির কোনো অংশ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় ও খরচের হিসাব নির্ভর করে সম্পত্তিটি কীভাবে এবং কত দিন ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। বিশেষ পরিস্থিতিতে বছরে ১৫ দিনের কম সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলে সেই ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের ওপর আলাদা কর-সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় কীভাবে ঘোষণা করতে হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   জর্জিয়াতেও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর ও ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়ার আগে শুধু কত টাকা আয় হতে পারে সেটি হিসাব করলেই হবে না; কর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।   সবকিছু বিবেচনায় নিলে, বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকা বেসমেন্ট কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। সেই অর্থ বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবারের অতিরিক্ত খরচ কিংবা মর্টগেজের একটি অংশ পরিশোধে কাজে লাগানো যেতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া রাখার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি অতিথি নেওয়ায় কিছু বাড়ির মালিক নিজেদের জীবনযাপনের সঙ্গে এটি তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।   তবে বেসমেন্ট এয়ারবিএনবিতে দেওয়ার আগে নিজের অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা, মর্টগেজের শর্ত এবং করের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বীমা কোম্পানি এবং কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আইনগত অনুমতি ও নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করা গেলে, অব্যবহৃত বেসমেন্ট একটি বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৯:১
প্রতীকী ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন রেকর্ডের খুব কাছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০

বাড়ি ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে বাড়ির দাম বাড়ছে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনা আরও কঠিন

প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, সামনে বড় আইনি লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ।   তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে।   চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল।   এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ।   জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন। পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।   আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন।   বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত।   এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে।   চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে।   জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ।   আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৫:০
দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত দুই

ফ্লোরিডায় স্কুলবাস দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত দুই, আহত আরও কয়েকজন

এক দিনে তিন হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ বেড়ে আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলার, আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

ইমিগ্রেশন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর প্রচুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে।   ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে।   এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত।   শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি।   খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।   ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়।   এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত

টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মত উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গোৎসব, প্রবাসে দুই দিনের আয়োজন

বাড়তি খরচের চাপে আমেরিকানরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

বাড়তি খরচের চাপে মার্কিনীরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রেস সেক্রেটারি পদ ছাড়ার পর কোথায় যাচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিট! মিলল উত্তর

0 Comments