যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হ্যালান্ডেল বিচে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের পার্কিং লটে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবা আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটির মাথায় আটকে থাকা গুলিটি আপাতত অপসারণ করা সম্ভব নয়, কারণ অস্ত্রোপচার করলে আরও গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ জুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে বসে খাবারের অপেক্ষা করছিল শিশুটি। এ সময় পার্কিং লটে দুই ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে ১৮ বছর বয়সী রালফ এন-কোসি ব্লু নামে এক যুবক গুলি চালায়। লক্ষ্য অন্য ব্যক্তি হলেও কয়েকটি গুলি গিয়ে লাগে পরিবারের গাড়িতে। এতে শিশুটি মাথায় এবং তার বাবা কোমরে গুলিবিদ্ধ হন। গাড়িতে থাকা আরও দুই শিশু শারীরিকভাবে অক্ষত থাকে।
শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও গুলিটি এখনও মাথার ভেতরে রয়েছে। তাঁদের মতে, বর্তমান অবস্থায় গুলি বের করার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের আরও ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে আহত বাবা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার দুই দিন পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ম্যাকডোনাল্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আর তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্কে টিকটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অপহরণ ও সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। গত ২৬ জুন ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতে বিচার শেষে এই রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সেন্টেন্সিং বা সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত এখনও সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে চলমান ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় সুলতানা রাজিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি সুলতানা রাজিয়া এবং মামলার আরেক আসামিকে অপহরণসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুরি প্রায় একদিনের আলোচনা শেষে তাদের রায়ে পৌঁছায়। এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগে সুপারসিডিং অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিরোধই শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধে রূপ নেয়। ফেডারেল আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় জুরির দোষী রায়ের পরই সাজা ঘোষণা করা হয় না। এর আগে আদালতের প্রবেশন বিভাগ আসামির অতীত, অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রি-সেন্টেন্স তদন্ত প্রতিবেদন (Pre-Sentence Investigation Report) প্রস্তুত করে। এরপর বিচারক ফেডারেল সেন্টেন্সিং গাইডলাইন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। আদালত এখন পর্যন্ত সুলতানা রাজিয়ার সেন্টেন্সিং শুনানির তারিখ প্রকাশ করেনি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সেন্টেন্সিং শুনানিতে বিচারক যে সাজা ঘোষণা করবেন, সেটিই হবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার দণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
আমেরিকার আটলান্টা শহরে আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে আদালত। রাস্তায় সাহায্য চেয়ে হাত পাতা এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ও গৃহহীন মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে এখন ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আটলান্টা পুলিশের অফিসার জন গ্রাবসকে এখন থেকে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ৭০০ ডলার করে ভুক্তভোগী জেরি ব্লেসিংগেমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি প্রতি মাসে ৭০০ ডলার করে কাটা হয়, তবে এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করতে ওই পুলিশ অফিসারের প্রায় আড়াই হাজার বছর সময় লাগবে! ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই ঘটনার সময় জেরির বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চাওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো রকম সতর্কবার্তা না দিয়েই জেরি পালানোর সময় পেছন থেকে তার পিঠে ইলেকট্রিক শক দেন অফিসার গ্রাবস। তীব্র শকের আঘাতে জেরি একটি উঁচু ঢাল থেকে ছিটকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়েন। এতে তার মাথার খুলি ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং গলা থেকে নিচের পুরো অংশ আজীবনের জন্য অবশ হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার পর ২০২৩ সালে জেরি মারা যান। এই ঘটনার পর জেরি যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই পুলিশ অফিসার তার কেবিনে গিয়ে উল্টো তার নামেই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার সময় নিজের বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখার অপরাধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভাগ থেকে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২০২৪ সালে তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। এখন কর বাদ দিয়ে তার মাসের বেতনের প্রায় ১৩ শতাংশ এই ক্ষতিপূরণের পেছনে চলে যাবে। যদি তিনি চাকরিও হারান, তবুও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা আদায় করা হবে। আইনি লড়াইয়ে ওই পুলিশ অফিসার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষাকবচ বা 'কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি'র দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পেছন থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং চরম অপরাধ।
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন (কম খরচে বিমানসেবা দাতা) 'ইজিজেট' (EasyJet) কিনে নিতে যাচ্ছে আমেরিকার বিখ্যাত প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান 'ক্যাসললেক' (Castlelake)। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড) এই বিশাল অধিগ্রহণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইজিজেট কর্তৃপক্ষ। ইজিজেটের পরিচালনা পর্ষদ এবং ক্যাসললেক রবিবার জানায়, তারা চুক্তির বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া টানা চারটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ইজিজেট। এই চুক্তির খবর সামনে আসতেই সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ইজিজেটের শেয়ারের দাম প্রায় ১০% বেড়ে যায়। ক্যাসললেক প্রতি শেয়ারের জন্য ৬.৯০ পাউন্ড দাম দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যা ইজিজেটের বোর্ড শেয়ারহোল্ডারদের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাসললেককে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। ইজিজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ক্যাসললেক আমাদের কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ও টেকসই এয়ারলাইন হিসেবে ইজিজেটের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে তারা পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।" লন্ডন গ্যাটউইক বিমানবন্দরকে প্রধান হাব করে ১৯৯৫ সালে উদ্যোক্তা স্টেলিওস হাজি-আইওনুর হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল ইজিজেট। ইউরোপজুড়ে কম খরচে বিমানসেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিমানের জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও মুনাফা সংকটে পড়েছিল এয়ারলাইনটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস-ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যাসললেক প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিচালনা করে। বর্তমানে তাদের নিজস্ব ৩৭৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে লিজ বা ভাড়া দিয়ে থাকে।