বাহরাইনে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–কে টেলিফোন করে রাজার পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
টেলিফোন আলাপে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন এবং এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। রাজার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বাহরাইন সরকার সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংকটময় সময়ে বাহরাইন সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে একই দিন বিকেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আরেক দফা টেলিফোন আলাপ হয়। সেখানে বাহরাইনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জনবহুল এলাকায় পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর বাহরাইনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও দেশটির উচ্চপর্যায় থেকে নিরাপত্তা আশ্বাস পাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে সহযোগিতা করবে বলে বাহরাইন সরকার জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। সম্প্রতি ইরানে পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলি পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘আগাম হামলা’ বা প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওয়াশিংটন আগে থেকেই জানত যে ইসরায়েল ইরানে আঘাত হানতে যাচ্ছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রণকৌশল সাজায় বাইডেন প্রশাসন। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কো রুবিও জানান, ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে আক্রমণ চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা জানতাম ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এবং এতে আমেরিকান সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিই।” মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এই সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে তেহরান ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইরান ইতিমধ্যেই ড্রোনের মাধ্যমে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। রুবিও দাবি করেছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ড্রোন সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে তার একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। লেবানন, সিরিয়া, মিশর ও ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিনীদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিভুজমুখী সংঘাত এখন আর কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে শোক ও উত্তেজনার আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার শেষ জনসভার একটি ভিডিও। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহিত হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে দেওয়া ওই ভাষণে আমেরিকাকে একটি 'ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্য' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তিনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে ১৯৭৮ সালের তাবরিজ গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় শেষবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য রাখেন ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই ভাষণে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। আমেরিকার পতন নিয়ে খামেনির ভবিষ্যৎবাণী ভাষণে খামেনি বলেছিলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই পতনের দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্য যার পতন অনিবার্য।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজ—সবক্ষেত্রেই গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করে না।" তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণ উল্লেখ করে খামেনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানকে গ্রাস করতে চায় বলেই এই সমস্যার সৃষ্টি। তিনি বলেন, "আমাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা হলো তারা ইরানকে গিলে খেতে চায়, আর ইরানি জাতি তাদের সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে প্রাচীর হয়ে আছে।" ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে খামেনি বলেছিলেন, গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি—প্রেসিডেন্টের এই স্বীকারোক্তিই সত্য। তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "আপনিও আমাদের কিছুই করতে পারবেন না।" তিনি আরও সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও অনেক সময় এমন আঘাত পেতে পারে যেখান থেকে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। এক্স হ্যান্ডেলে রহস্যময় শেষ বার্তা খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি রহস্যময় পোস্ট করা হয়। ফার্সি ভাষায় লেখা ওই বার্তায় শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম হযরত আলী (আ.)-এর পবিত্র নাম 'হায়দার' উল্লেখ করা হয়, যা ইরানি সংস্কৃতিতে যুদ্ধের ডাক হিসেবেও পরিচিত। পোস্টে একটি জলন্ত তলোয়ার হাতে থাকা এক ধর্মীয় নেতার ছবিও দেখা গেছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ অভিযানে খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে সেনাদের সুরক্ষিত রাখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি থেকে কয়েকশ মার্কিন সেনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার স্থানীয় সময় নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের দপ্তর থেকেও সেনা প্রত্যাহারের খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও তার আশপাশের অঞ্চলে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (CENTCOM) বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন ইরানের নিশানায় থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সেনা প্রত্যাহারের নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সরাসরি হুঁশিয়ারি। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যদি কোনো সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা শত্রুপক্ষের সমস্ত ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তির বিষয়ে ইরানকে সময় বেঁধে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরসকে লেখা এক চিঠিতে তেহরান তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। মার্কিন প্রশাসনের এই পিছু হটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।