নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় ছুরিকাঘাতে তরুণী গুরুতর আহত, লাইফ সাপোর্টে
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে জগিং করার সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। কেটি সুয়ারেজ নামের ওই নারী কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাথ বিচ এলাকায় দৌড়ানোর সময় বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন কেটি। কথোপকথনের একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে পরে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তাঁদের ফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়ের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা। পরে নিজেই তাঁকে খুঁজতে বের হন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেল্ট পার্কওয়ের পাশে বাথ বিচের গ্রিনওয়ে এলাকায় কেটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর বাবা। এ সময় তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশীদের ধারণা, রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনকে সামনে রেখে দৌড়ানোর অনুশীলন করছিলেন কেটি। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার সময় তাঁর দৌড়ানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেশীদের বক্তব্যের বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের একাধিক বিভাগ কাজ করছে। তবে হামলাকারীর পরিচয় কিংবা শারীরিক বর্ণনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়নি। কী কারণে ওই তরুণীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার বা সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে এনওয়াইপিডি। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জোসেফ কেনি এনবিসি নিউইয়র্ককে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে স্থল, আকাশ ও জলপথে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তে ডুবুরি দল ও প্রশিক্ষিত পুলিশ কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সময় বেল্ট পার্কওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়িচালকদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে কেটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১২ মিনিটের মধ্যে বেল্ট পার্কওয়ের পূর্বমুখী বাইকপথে বে এইটথ স্ট্রিট থেকে বে সেভেনটিনথ স্ট্রিটের মধ্যে তাঁকে দেখে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্তে সহায়ক তথ্য দিতে এনওয়াইপিডির ক্রাইম স্টপার্স হটলাইন ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত এই গ্রিনওয়ে ব্যবহার করেন। এমন হামলার পর সেখানে চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটর স্টিফেন চ্যান ওই এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রিনওয়ের আলোকসজ্জা উন্নত করা এবং নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য ১০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা প্রচার করেছে এনওয়াইপিডি। তবে সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
কেটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে তাঁর সর্বশেষ চিকিৎসাগত অবস্থার বিষয়ে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreনিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে জগিং করার সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। কেটি সুয়ারেজ নামের ওই নারী কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাথ বিচ এলাকায় দৌড়ানোর সময় বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন কেটি। কথোপকথনের একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে পরে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তাঁদের ফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়ের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা। পরে নিজেই তাঁকে খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেল্ট পার্কওয়ের পাশে বাথ বিচের গ্রিনওয়ে এলাকায় কেটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর বাবা। এ সময় তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। স্থানীয় প্রতিবেশীদের ধারণা, রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনকে সামনে রেখে দৌড়ানোর অনুশীলন করছিলেন কেটি। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার সময় তাঁর দৌড়ানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেশীদের বক্তব্যের বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের একাধিক বিভাগ কাজ করছে। তবে হামলাকারীর পরিচয় কিংবা শারীরিক বর্ণনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়নি। কী কারণে ওই তরুণীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার সময় ঘটনাস্থলে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার বা সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে এনওয়াইপিডি। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জোসেফ কেনি এনবিসি নিউইয়র্ককে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে স্থল, আকাশ ও জলপথে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তে ডুবুরি দল ও প্রশিক্ষিত পুলিশ কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সময় বেল্ট পার্কওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়িচালকদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে কেটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১২ মিনিটের মধ্যে বেল্ট পার্কওয়ের পূর্বমুখী বাইকপথে বে এইটথ স্ট্রিট থেকে বে সেভেনটিনথ স্ট্রিটের মধ্যে তাঁকে দেখে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্তে সহায়ক তথ্য দিতে এনওয়াইপিডির ক্রাইম স্টপার্স হটলাইন ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত এই গ্রিনওয়ে ব্যবহার করেন। এমন হামলার পর সেখানে চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটর স্টিফেন চ্যান ওই এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রিনওয়ের আলোকসজ্জা উন্নত করা এবং নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য ১০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা প্রচার করেছে এনওয়াইপিডি। তবে সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। কেটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে তাঁর সর্বশেষ চিকিৎসাগত অবস্থার বিষয়ে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ব্রুকলিনের সাবওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত একজন, আহত আরও একজন
খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার বাধা! ৭৮ বছর বয়সী সাবেক অধ্যাপক গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্পকে গুলি করার হুমকি দেয়ায় নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সাত দিনের বিশেষ অভিযানে ২৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিজনি ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী, একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পোল্ক অ্যারাউন্ড অ্যান্ড ফাইন্ড আউট টু’। সাত দিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং শিশুদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। তদন্তকারীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ২৮১ জনের মধ্যে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা চাওয়া, যৌনসেবা দেওয়া কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য ১১ জনকেও পৃথক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন থিম পার্কে কর্মরত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ডিজনির এবং চারজন ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী। এ ছাড়া অরেঞ্জ কাউন্টির একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত একজন সদস্যও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, অভিযানের সময় ১১৭ জন অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার বিষয়ে আলোচনা করতে গোপন তদন্তকারীদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। অন্যদিকে ১২২ জন যৌনসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁদের মধ্যে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও কাজ করেন। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মানবপাচারের শিকার ১১ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অভিযানের এই অংশে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাঁদের পরিস্থিতি যাচাই এবং সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাঁরা কত দিন ধরে শোষণের শিকার ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়া অবস্থানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা নয়টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাঁদের জাতীয়তা এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জন সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। তাঁদের সম্মিলিত মাসিক সহায়তার পরিমাণ আট হাজার ৩৭৩ ডলার, যা বছরে এক লাখ ৪৭৬ ডলারের সমপরিমাণ। তবে সরকারি সহায়তা গ্রহণের সঙ্গে অভিযানে ওঠা অপরাধের অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় ফ্লোরিডার উইন্টার হেভেনে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের অপারেশনস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। এতে শেরিফ গ্রেডি জাডের পাশাপাশি ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার, অঙ্গরাজ্যের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইজ ইনগোলিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, আদালতে হাজিরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস। এসব অভিযানে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোপন তদন্তকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ব্রঙ্কসে ভয়াবহ আগুনে কিশোরের মৃত্যু, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরিবারের আরও চারজন
যাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষ করায় বিতর্ক, নিউ ইয়র্কে পর্যালোচনায় ভাড়া আদায়কারীদের প্রশিক্ষণ
ফ্লোরিডায় ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণ, আহত ১১; ১৫ বছর বয়সীর বিচার হবে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারি ত্রাণ কর্মসূচি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে। এপ্রিল ওয়াটসন নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সরকারি ঋণের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তার একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ি নির্মাণের খরচ মেটানো হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর মহামারিকালীন সরকারি সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াটসন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফক্স ৪ ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াটসন করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একাধিক ঋণের আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যবসা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াটসন নিজের পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণের আবেদন করেন এবং অর্থ পাওয়ার জন্য জাল নথি ব্যবহার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঋণের আবেদন সমর্থন করতে ওয়াটসন ভুয়া পেরোল সামারি এবং আইআরএসের নামে তৈরি জাল করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিতে কর্মীদের বেতন ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পেরোল কোম্পানি ওই নথি তৈরি করেনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৯ ও ২০২০ সালের বেতন বা আয়ের বিষয়ে আইআরএসে ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পৃথক অর্থায়নের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ ডলার সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কেবেজ ইনকরপোরেটেডের মাধ্যমে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের আওতায় ২ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ ডলার, স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচি থেকে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার এবং জেপিমরগ্যান চেজের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৪ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক্সোটিক ব্লিস বিউটি এলএলসি, ব্রেইন ইভোলিউশন এলএলসি এবং সাউদার্ন হোম ভেঞ্চারস এলএলসিসহ তার পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের এক লাখ ১৪ হাজার ডলারের বেশি সিডার হিল এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ছাড়া একজন সহযোগীর কাছে ৪০ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়তে ব্যয় করা হয়েছিল কি না, তা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াটসনের বিরুদ্ধে চারটি ওয়্যার ফ্রড, দুটি ব্যাংক ফ্রড এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থসম্পদ নিয়ে লেনদেনের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১০টি। গত ২৩ অক্টোবর তিনি আদালতে প্রাথমিক হাজিরা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর, ব্যাংক ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এগুলো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা; প্রকৃত সাজা নির্ধারিত হবে মামলার বিচারিক ফলাফল ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে। এদিকে, কথিত জালিয়াতির অর্থে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। কর্তৃপক্ষ সিডার হিলের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কথিত জালিয়াতির অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের আবেদন করেছে। মহামারির সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য চালু করা সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ মামলায় ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর মুক্তি, এবার অন্য বন্দি নারীদের পাশে ইউক্রেনীয় অভিবাসী
স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, ভাঙল কবজি ২০ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়