অর্থনীতি

ঢাকার জলাশয় রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ঢাকার জলাশয় রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা
ঢাকার জলাশয় রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকারও বেশি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অর্থায়ন অনুমোদন পায়।

 

বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

কোন প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ?

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ের দূষণ কমানো, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা।

 

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবেন। দূষণপ্রবণ ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

কেন এই প্রকল্প জরুরি?

বিশ্বব্যাংকের মতে, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ঢাকার জলাশয়গুলো কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করবে।

 

বর্তমান পরিস্থিতি কী?

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। এছাড়া শহরের অর্ধেকের বেশি খাল দখল, ভরাট বা দূষণের কারণে অস্তিত্ব হারিয়েছে।

 

দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা ঢাকা ও আশপাশে অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি কারখানা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

 

কীভাবে কাজ হবে?

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হবে।

 

এ প্রকল্পের আওতায়—

  • নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালু করা হবে

  • সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নেওয়া হবে

  • শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও আধুনিকায়ন করা হবে

  • পানি পুনর্ব্যবহার বাড়ানো হবে

  • প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে

  • জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হবে

  •  

উদ্দেশ্য হলো—কেউ যেন সরাসরি ড্রেন বা নদীতে বর্জ্য না ফেলে এবং নগরবাসীর জন্য একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Advertisement

অর্থনীতি

View more
ফাইল ছবি।
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশে মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই তথ্য জানিয়েছে।   আজ বিকেল ৪টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   সূত্র: বাজুস

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
পশ্চিমাদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের আইআরজিসির

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘টোল বুথ’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা

তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার গ্রান কুভ

চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে পৌঁছাল জাহাজ

ইলেকট্রিক গাড়ি

বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা: চিনা ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাবস্থাতেও দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত: অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।   রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।   অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সময় কোথাও তেলের সংকট হয়নি এবং পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধিও ঘটেনি। তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন পরিশোধের ফলে কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়নি, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত।   সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে রেমিট্যান্স, চাঙা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

ছবি: সংগৃহীত

কাতার-ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা, এলএনজি সংকটে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ফাইল ফটো।

ভরিতে ২৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

ফাইল ছবি
ক্রেডিট কার্ড ঋণসীমা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণসীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া বিনা জামানতে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা।   রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন জারি করেছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সুবিধাজনক ব্যবহার, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কার্ড ইস্যুকারীদের বিভিন্ন প্রণোদনা এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ক্রেডিট কার্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপদ, সুরক্ষিত ও কার্যকর কার্যক্রম নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।   এছাড়া আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা করা এবং নগদবিহীন লেনদেন উৎসাহিত করার লক্ষ্যেও এই হালনাগাদ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি জোরদার করা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মধ্যে আর্থিক শৃঙ্খলা বাড়াতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।   একাধিক ব্যাংকের কার্ড বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্ড বিভাগের ঋণ বাড়তে পারে, যার প্রভাব ব্যাংকের মুনাফায় পড়বে। তবে ঋণসীমা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।   জানা গেছে, ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণের ক্ষেত্রে যাচাই–বাছাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কম সময়ের মধ্যেই এই ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
সোনা

দেশে টানা দ্বিতীয় দিন কমলো সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার- ১৩ মার্চ ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ১১ মার্চ ২০২৬: ডলার ১২৩ টাকার বেশি, কুয়েতি দিনার ৪০০ টাকা ছাড়াল

0 Comments