আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি গাড়িতে লুকিয়ে থাকা ৩৪ অভিবাসীকে আটক করল মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২১:৫৩
এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত
এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে পৃথক দুটি অভিযানে দুটি যানবাহনের ভেতর লুকিয়ে থাকা মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী (ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল)।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম FOX 5/KUSI–এর প্রতিবেদন এবং ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওয়েস্টমোরল্যান্ড এলাকায়, যা হাইওয়ে–৭৮–এর পাশে অবস্থিত।

 

সীমান্ত টহল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রথম অভিযানে একটি শেভ্রোলেট তাহো (Chevy Tahoe) এসইউভি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির ভেতরে সাতজন অভিবাসীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি মানবপাচারের প্রচেষ্টা বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ।

 

একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে একটি মিনি বটম ডাম্প ট্রেইলার থেকে আরও ২৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ট্রেইলারের ভেতরে তাদের গোপনে বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সীমান্ত টহল বাহিনী।

 

দুটি অভিযানে মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের জাতীয়তা, পরিচয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থা কিংবা মানবপাচারের অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

 

এল সেন্ট্রো সেক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অতিরিক্ত ভিড় করে বা গোপনে যানবাহনে মানুষ পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

ইম্পেরিয়াল কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চল দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এবং মানবপাচারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি পরিচালনা করে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মেয়ে অক্ষত, কিন্তু হাঁটুর নিচের অংশ হারিয়েও অনুতপ্ত নন তিনি। ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কা থেকে ২ বছরের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে পা হারালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ভেনিস এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কা থেকে দুই বছর বয়সী মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের একটি পায়ের নিচের অংশ হারিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী জর্ডান স্ট্যানার্ড। গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকদের তাঁর হাঁটুর নিচ থেকে পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন চিকিৎসা নিচ্ছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম KABC-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে গাড়ির কাছে ফিরেছিলেন জর্ডান স্ট্যানার্ড। তখন তিনি তাঁর দুই বছরের মেয়ে স্যাডিকে গাড়িতে বসাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে তাদের দিকে ছুটে আসে।   ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মেয়েকে দ্রুত গাড়ির ভেতরে ছুড়ে দেন। পরের মুহূর্তেই ট্রাকটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। জর্ডান বলেন, "আমি শুধু মেয়েকে গাড়ির ভেতরে ছুড়ে দিয়েছিলাম। এরপর পুরো ট্রাকটি আমার শরীরে আঘাত করে এবং আমাকে ঘুরিয়ে ফেলে দেয়।"   এই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিজের আঘাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমি কোনো বোমার ওপর পা দিয়েছিলাম। আমার পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।" গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসকদের তাঁর হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলতে হয়। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, পুরো ঘটনায় তাঁর ছোট মেয়ে স্যাডি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।   মেয়েকে রক্ষা করতে পা হারানোর বিষয়ে জর্ডানের কোনো আক্ষেপ নেই। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, "যদি কেউ আমাকে বলে, বাকি জীবন মেয়েদের সঙ্গে থাকার জন্য শুধু একটি পা হারাতে হবে, তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় সেই সিদ্ধান্তই নেব।"   তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কথা যতই মনে পড়ছে, ততই কৃতজ্ঞ বোধ করছেন যে তাঁর মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। "ওর যদি কিছু হতো, সেই চিন্তাও আমি করতে পারি না," বলেন তিনি।   দুর্ঘটনার আগে জর্ডান ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত। নিয়মিত ম্যারাথনে অংশ নিতেন এবং মেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন বেশির ভাগ সময় তাঁকে বিছানায় কাটাতে হচ্ছে এবং কৃত্রিম পা ব্যবহারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুনর্বাসন চিকিৎসা চলছে।   চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় মেটাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি GoFundMe তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছেন। সেই অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে তাঁর জন্য কৃত্রিম পা সংগ্রহ এবং চিকিৎসার খরচ বহনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   জর্ডান বলেন, এই দুর্ঘটনা তাঁকে জীবনের একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের পাশে পাওয়া সবচেয়ে বড় শক্তি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   এত বড় দুর্ঘটনার পরও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী জর্ডান। তাঁর লক্ষ্য, কৃত্রিম পা নিয়ে সুস্থ হয়ে আগামী বছরের লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যারাথনে আবার অংশ নেওয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২২:১৪
এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি গাড়িতে লুকিয়ে থাকা ৩৪ অভিবাসীকে আটক করল মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি লটারির জ্যাকপট জেতেন মানুষ, জিতলে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব?

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তিন বিল অনুমোদন করল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি

ছবি: মাইলস গুও (সংগৃহীত)
নিউইয়র্কে ১৩০ কোটি ডলারের প্রতারণায় দোষী চীনা ব্যবসায়ী মাইলস গুওর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার (১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত চীনা ব্যবসায়ী ও স্বঘোষিত সরকারবিরোধী কর্মী মাইলস গুওকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   সোমবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে সাজা ঘোষণা করেন বিচারক আনালিসা টরেস। রায় ঘোষণার দিনও গুওর শত শত সমর্থক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, যা মামলাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।   আদালতে বিচারক টরেস বলেন, গুও পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন এবং ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।   মার্কিন বিচার বিভাগ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ৫৭ বছর বয়সী মাইলস গুও দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চীনের কমিউনিস্ট সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেন। পরে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্প, সদস্যপদ কর্মসূচি ও আর্থিক উদ্যোগের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন, যার বড় অংশ কখনো ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।   তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি ব্যক্তিগত বিলাসিতার পেছনে ব্যয় করেন। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট, নিউ জার্সিতে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রাসাদ, ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কসংলগ্ন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, এমনকি প্রতিটি ৩৬ হাজার ডলার মূল্যের দুটি ম্যাট্রেস কেনার মতো ব্যয়বহুল কেনাকাটাও।   গত বছর ফেডারেল জুরি গুওকে প্রতারণা, অর্থপাচারসহ একাধিক আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপর শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের শুনানি শেষে সোমবার আদালত তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত বৃহৎ আর্থিক প্রতারণার মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। তদন্তে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।   মাইলস গুও, যিনি গুও ওয়েনগুই নামেও পরিচিত, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন। তবে মার্কিন তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই পরিচিতি ও অনুসারীদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত বিলাসী জীবনযাপন করেছেন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১৯:৫১
ছবি: কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস (সংগ্রহীত)

মুসলিম অভিবাসনে আমেরিকার কী লাভ?’ কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেসের পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নর্থ ক্যারোলিনার কারাগারে কয়েদিদের দখলচেষ্টা, জিম্মি দুই কারারক্ষীকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

একদিনে ট্রাম্পের দুই আইনি জয়, অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে তাপপ্রবাহে ১৪ লাখ শ্রমিকের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, বাধ্যতামূলক ‘হিট সেফটি’ পরিকল্পনা

ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও চরম গরমের ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ঐতিহাসিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটিতে তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমিকদের জন্য ‘সমগ্র-সরকার’ ভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো।   সিটি হলে শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিটি সংগঠন, বিভিন্ন সিটি এজেন্সির কমিশনার এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন মেয়র। প্রশাসনের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চরম গরমে কর্মরত শ্রমিকরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।   মেয়র মামদানি বলেন, কোনো শ্রমিককে তার আয় ও স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। যারা আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ করছেন, প্যাকেজ সরবরাহ করছেন, রাস্তার পাশে খাবার বিক্রি করছেন কিংবা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিরাপদে বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এতদিন চরম গরমের পুরো বোঝা শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই বাস্তবতা বদলানো হচ্ছে, কারণ প্রতিটি শ্রমিকের জীবন সমান মূল্যবান।   নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন, নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে বহুভাষিক তাপ-নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি ও বিতরণ করবে। চলতি বছরের মধ্যেই বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে ভবনের অভ্যন্তরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হবে।   আদেশে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি মেয়রাল এজেন্সিকে তাদের কর্মচারী ও ঠিকাদারদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘হিট ইলনেস প্রিভেনশন প্ল্যান’ বা তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে চরম গরম এবং শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা পরিচালনা এবং তাপজনিত অসুস্থতাকে বাধ্যতামূলক রিপোর্টযোগ্য স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংসকে নির্মাণস্থলে বিদ্যমান তাপ-নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে জমা দিতে হবে।   তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সিটি প্রশাসন। সম্প্রতি মেয়র মামদানি তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি জনসচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ২০০-এর বেশি লিংকএনওয়াইসি কিয়স্কে নিকটবর্তী ‘কুলিং সেন্টার’-এর অবস্থান এবং সেখানে হেঁটে যাওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদর্শন করা হবে। জরুরি তাপ পরিস্থিতিতে কুলিং সেন্টার খোলা বা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।   সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১৪ লাখ শ্রমিক, যা শহরের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, প্রতি গ্রীষ্মে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর, রাস্তার হকার, ডেলিভারি কর্মী, ট্রাকচালক ও গুদাম শ্রমিক। প্রতিবছর নিউইয়র্ক সিটিতে চরম গরমজনিত কারণে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়, যা এটিকে শহরের অন্যতম প্রাণঘাতী আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।   এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো শ্রমিককে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হওয়া উচিত নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের জন্য শক্তিশালী তাপ-সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং এ পদক্ষেপের জন্য মেয়র মামদানিকে ধন্যবাদ জানান।   অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারবিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি স্যু বলেন, শ্রমিক সুরক্ষা এই প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, তাপপ্রবাহ সবার ওপর প্রভাব ফেললেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বাইরে কাজ করা শ্রমিকরা। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র হেলেন আটিএগা জানান, কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছেন এবং লাতিনো শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলিয়া কারসন বলেন, চরম গরম প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যারা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি প্রশাসনের দায়িত্ব।   শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের র‌্যাম্প এজেন্ট জন মসকুয়েরা বলেন, গরমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ওভেনের ভেতরে থাকার মতো। তিনি নিজেও একাধিকবার অসুস্থ হয়েছেন এবং এতদিন শ্রমিকদের সমস্যার দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।   শ্রমিক সংগঠন ৩২বিজে এসইআইইউ-এর সভাপতি ম্যানি পাস্টরিচ বলেন, অনেক নিয়োগকর্তা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই নির্বাহী আদেশ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।   সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, টেম্প কোয়ালিশন, নিউইয়র্ক কমিটি ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ, ৩২বিজে এসইআইইউসহ কয়েক ডজন শ্রমিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্বাহী আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম গরমের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১৬:১৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

কয়েকশ ডলার আর একটি ব্যাকপ্যাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি হারানো বিজ্ঞানীদের নতুন জোট, স্বাধীন উদ্যোগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

0 Comments