তথ্যপ্রযুক্তি

আইফোন ১৭ প্রো কিনতে সুইজারল্যান্ডে ৩ দিন! কোথাও ৫৪০ দিনের আয়ের প্রয়োজন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২১:৫৬
আইফোন ১৭ প্রো কিনতে বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনীয় কর্মদিবসের হিসাবে বড় বৈষম্য উঠে এসেছে নতুন সূচকে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ১৭ প্রো কিনতে বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনীয় কর্মদিবসের হিসাবে বড় বৈষম্য উঠে এসেছে নতুন সূচকে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন ১৭ প্রোর দাম খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও, সেটি কিনতে একজন সাধারণ মানুষকে কত দিন কাজ করতে হয় সেই হিসাবই তুলে ধরছে বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্যের এক ভিন্ন বাস্তবতা। নতুন ‘আইফোন অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স’ অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের একজন কর্মীর যেখানে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনতে মাত্র ৩ দিনের আয় যথেষ্ট, সেখানে ভারতের একজন কর্মীকে কাজ করতে হয় ১৬০ দিন। আর মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪০ দিন। 

 

সূচকটি তৈরি করা হয়েছে আইফোন ১৭ প্রো (২৫৬ জিবি) মডেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের গড় দৈনিক আয়ের তুলনা করে। অর্থাৎ, একজন গড় আয়ের কর্মীকে ফোনটি কিনতে কত দিনের পূর্ণ কর্মদিবসের আয় প্রয়োজন সেই হিসাবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। 

 

তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ। এই দুই দেশের কর্মীরা মাত্র ৩ দিনের আয়ে ফোনটি কিনতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে প্রয়োজন হয় ৪ দিনের আয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে ১০১ দিন, ভিয়েতনামে ৯৯ দিন, তুরস্কে ৮৯ দিন এবং ব্রাজিলে ৭৭ দিনের সমপরিমাণ আয় প্রয়োজন হয় একই ফোন কিনতে। ভারতের অবস্থান সবচেয়ে নিচের দিকের দেশগুলোর মধ্যে, যেখানে প্রয়োজন ১৬০ দিনের আয়। 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ শুধু ফোনের দাম নয়; বরং প্রতিটি দেশের গড় আয়, ক্রয়ক্ষমতা, করব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাজারের মূল্য কাঠামো। ফলে একই পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি হলেও মানুষের কাছে সেটি কতটা নাগালের মধ্যে থাকবে, তা নির্ধারণ করে তাদের আয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। 

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ধরনের সূচক কেবল একটি স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনমান, মজুরি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সহজ ও বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। তাই অনেকের কাছে আইফোন এখন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্য পরিমাপের এক প্রতীকী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
আইফোন ১৭ প্রো কিনতে বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনীয় কর্মদিবসের হিসাবে বড় বৈষম্য উঠে এসেছে নতুন সূচকে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ১৭ প্রো কিনতে সুইজারল্যান্ডে ৩ দিন! কোথাও ৫৪০ দিনের আয়ের প্রয়োজন

বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন ১৭ প্রোর দাম খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও, সেটি কিনতে একজন সাধারণ মানুষকে কত দিন কাজ করতে হয় সেই হিসাবই তুলে ধরছে বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্যের এক ভিন্ন বাস্তবতা। নতুন ‘আইফোন অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স’ অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের একজন কর্মীর যেখানে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনতে মাত্র ৩ দিনের আয় যথেষ্ট, সেখানে ভারতের একজন কর্মীকে কাজ করতে হয় ১৬০ দিন। আর মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪০ দিন।    সূচকটি তৈরি করা হয়েছে আইফোন ১৭ প্রো (২৫৬ জিবি) মডেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের গড় দৈনিক আয়ের তুলনা করে। অর্থাৎ, একজন গড় আয়ের কর্মীকে ফোনটি কিনতে কত দিনের পূর্ণ কর্মদিবসের আয় প্রয়োজন সেই হিসাবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।    তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ। এই দুই দেশের কর্মীরা মাত্র ৩ দিনের আয়ে ফোনটি কিনতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে প্রয়োজন হয় ৪ দিনের আয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে ১০১ দিন, ভিয়েতনামে ৯৯ দিন, তুরস্কে ৮৯ দিন এবং ব্রাজিলে ৭৭ দিনের সমপরিমাণ আয় প্রয়োজন হয় একই ফোন কিনতে। ভারতের অবস্থান সবচেয়ে নিচের দিকের দেশগুলোর মধ্যে, যেখানে প্রয়োজন ১৬০ দিনের আয়।    বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ শুধু ফোনের দাম নয়; বরং প্রতিটি দেশের গড় আয়, ক্রয়ক্ষমতা, করব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাজারের মূল্য কাঠামো। ফলে একই পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি হলেও মানুষের কাছে সেটি কতটা নাগালের মধ্যে থাকবে, তা নির্ধারণ করে তাদের আয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা।    বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ধরনের সূচক কেবল একটি স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনমান, মজুরি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সহজ ও বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। তাই অনেকের কাছে আইফোন এখন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্য পরিমাপের এক প্রতীকী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২১:৫৬
অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোন হতে যাচ্ছে ১৮ প্রো ম্যাক্স

অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোন হতে যাচ্ছে ১৮ প্রো ম্যাক্স

এআই মানুষ। ছবি:সংগৃহীত

কোন নির্দেশ ছাড়াই এক এআই হ্যাক করল আরেক এআই কে

পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনায় লিংকডইন। ছবি: সংগৃহীত

লিঙ্কডইন এখন ডেটিং অ্যাপ, পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে মিলছে জীবনসঙ্গীর সন্ধান

১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাতের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আনছে ব্রিটেন। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাতের সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ

যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের রাতের বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে অটো-প্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার বিভিন্ন ফিচারও ডিফল্টভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   তবে এই কারফিউ বাধ্যতামূলক হবে না। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সেটিংস পরিবর্তন করে এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে পারবেন। আর এই সুযোগই নতুন পরিকল্পনাকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।   ব্রিটিশ সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কিছু নকশা বা ফিচার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে আটকে রাখে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে সেসব ফিচারের প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।   তবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগকে পর্যাপ্ত মনে করছে না। ২০২২ সালে একটি অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুলস সুইনির মৃত্যুর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসা এলেন রুম বলেছেন, কিশোররা যেহেতু খুব সহজেই সেটিংস পরিবর্তন করে কারফিউ বন্ধ করতে পারবে, তাই এই ব্যবস্থা বাস্তবে খুব বেশি কার্যকর হবে না।   বিবিসি রেডিও ফোরের 'টুডে' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি এমন যেন একজন ১৭ বছরের কিশোরের সামনে মদের বোতল রেখে শুধু একটু দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে চাইলে সহজেই আবার সেটি হাতে তুলে নিতে পারবে। তার মতে, সরকার চাইলে আরও কঠোর এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারত।   এর আগে চলতি বছরের জুনে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নতুন রাতের কারফিউকে সেই উদ্যোগেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম, বয়স যাচাই প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে।   শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ব্যারোনেস কিডরন বলেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নকশা ও পণ্য তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেছেন, রাতের কারফিউ, অটো-প্লে সীমিত করা এবং অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম কঠোর অবস্থানে থাকবে।   প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোযোগ এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো একজন তরুণের সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে। তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট সরকারের পরিকল্পনাকে "এলোমেলো ও অসংগত" বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যদি ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সহজে এই কারফিউ বন্ধ করে দিতে পারেন, তাহলে এর বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।   শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিমালা আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এআই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক বিরতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসব প্রস্তাব পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্ত থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাসহ নতুন নিয়মগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে।   এদিকে মলি রোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি বারোজ মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এটি এককভাবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তার মতে, আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।   লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের শিশুদের ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন সতর্ক করে বলেছেন, রাতের কারফিউ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্য উল্টো সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, গভীর রাতে যদি কোনো শিশু মানসিক সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের জন্য বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে সেটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পাঠিয়ে শিশুদের জাগিয়ে না রাখে, সে ধরনের পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।   ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বলেন, তরুণদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষায়, বেশিরভাগ তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চায় না, বরং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষা চায়। তিনি নতুন কারফিউ কতটা কার্যকর হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।   ভিপিএন ব্যবহার নিয়েও আলোচনা থাকলেও আপাতত এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করছে না যুক্তরাজ্য সরকার। সরকারের মতে, ভিপিএনের বৈধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার রয়েছে, বিশেষ করে সাংবাদিক, হুইসেলব্লোয়ার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে। সরকারের কমিশন করা এক গবেষণায়ও বয়স যাচাই এড়াতে ব্যাপকভাবে ভিপিএন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সরকারের প্রকাশিত এক পরীক্ষামূলক গবেষণায় ৩০০ কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কারফিউ তাদের ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হয়েছে। তবে বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান যোগাযোগবিষয়ক অধ্যাপক পিট এচেলস মনে করেন, এই গবেষণা এককভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব বুঝতে আরও বড় পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।   সূত্র: বিবিসি, যুক্তরাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ২১:৩২
পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করেছে অ্যামাজন। ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজনে পাঁচ বছরে চাকরি হারিয়েছেন ৫৭ হাজারের বেশি কর্মী, বাড়ছে অবশিষ্টদের ওপর কাজের চাপ

পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোসফটে বড় ধাক্কা, ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বন্ধ হচ্ছে চার গেমিং স্টুডিও

মঙ্গলে যাওয়ার সময় এক-দুই মাসে নামিয়ে আনতে রাশিয়ার নতুন প্লাজমা ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি | ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার নতুন ইঞ্জিন তৈরি রাশিয়ার, পৌঁছানো যাবে মাত্র ৩০ দিনে

মুম্বাইয়ের রাস্তায় টাঙানো অ্যাপল আইফোনের বিশাল বিজ্ঞাপনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স
আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য এবং ছবি ফাঁস, বিপাকে অ্যাপল ও টাটা

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের আইফোনের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের তালিকা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং গোপন ছবি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। অ্যাপলের অন্যতম প্রধান ভারতীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ হ্যাক করে এই গোপন নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে একটি হ্যাকার চক্র। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া ২ লাখেরও বেশি ফাইলের মধ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ ফাইল রয়েছে, যাতে নতুন আইফোনের সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে। সাধারণত অ্যাপল তাদের কোন যন্ত্রাংশ কোন কোম্পানি তৈরি করে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখে। এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাজারে অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল মোবাইল প্রস্তুতকারক এবং নিজস্ব বিক্রেতারা আইফোনের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির নকশা সহজেই জেনে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বিশেষ জলছাপযুক্ত কিছু ফাইল এবং কারখানায় নতুন আইফোনের ওপর চালানো আছাড় পরীক্ষার বাস্তব ছবিও রয়েছে। ছবিতে ধূসর রঙের একটি হ্যান্ডসেটের পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা গেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হ্যাকার চক্রটি আইফোনের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকান ও তাইওয়ানিজ গ্রাহকদের গোপন নথিও ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিয়েছে।   চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে একটি বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভারতের সরকারের যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা তার ওপর একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। এমন সময়ে এই বিপর্যয়টি ঘটল যখন অ্যাপল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অ্যাপল ও টাটা ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত শুরু করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল সিস্টেমে কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং একটি বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট বা চুলচেরা বিশ্লেষণ করাচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৩:১১
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ

ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস

পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বুর্জ খলিফার নির্মাণ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে জিটিএ সিক্সের বাজেট। ছবি: সংগৃহীত

বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি ব্যয়ে তৈরি হতে পারে জিটিএ সিক্স, মুক্তির অপেক্ষায় গেমপ্রেমীরা

0 Comments