২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক বছরে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই সরাসরি দায়ী ইসরায়েল। সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ও ইসরায়েলের দায় সিপিজে-এর তথ্যমতে, ১৯৯২ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে গত বছরটি ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ৮৬ জনই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এটি বিশ্বজুড়ে মোট নিহতের প্রায় ৬৭ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হত্যার জন্য দায়ী করা হলো।
টার্গেট কিলিং এবং ড্রোন হামলা সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ৪৭ জন সাংবাদিককে সুপরিকল্পিতভাবে বা ‘টার্গেট কিলিং’ এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশ ঘটনার সাথে ইসরায়েল জড়িত। এছাড়া সাংবাদিক হত্যায় ড্রোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৩৯ জন সাংবাদিক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
অঞ্চলভেদে পরিসংখ্যান নিহত সাংবাদিকদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি, যারা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এছাড়া ইয়েমেনের একটি হুতি মিডিয়া সেন্টারে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে সিপিজে তাদের রেকর্ডে সাংবাদিকের ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েল ছাড়াও সুদান (৯ জন), মেক্সিকো (৬ জন), রাশিয়া (৪ জন) এবং ফিলিপাইনে (৩ জন) সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও একজন সাংবাদিক অপরাধচক্রের হাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সিপিজে-এর প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, “এমন এক সময়ে সাংবাদিকদের রেকর্ড সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে যখন তথ্যের অবাধ প্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ আসলে সব ধরণের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের পূর্বাভাস। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।”
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সাংবাদিক নয়, তাদের পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রায় ৭০০ জন নিকটাত্মীয় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলের অবস্থান বরাবরের মতো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। অনেক ক্ষেত্রে নিহত সাংবাদিকদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক বছরে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই সরাসরি দায়ী ইসরায়েল। সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ও ইসরায়েলের দায় সিপিজে-এর তথ্যমতে, ১৯৯২ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে গত বছরটি ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ৮৬ জনই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এটি বিশ্বজুড়ে মোট নিহতের প্রায় ৬৭ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হত্যার জন্য দায়ী করা হলো। টার্গেট কিলিং এবং ড্রোন হামলা সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ৪৭ জন সাংবাদিককে সুপরিকল্পিতভাবে বা ‘টার্গেট কিলিং’ এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশ ঘটনার সাথে ইসরায়েল জড়িত। এছাড়া সাংবাদিক হত্যায় ড্রোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৩৯ জন সাংবাদিক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অঞ্চলভেদে পরিসংখ্যান নিহত সাংবাদিকদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি, যারা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এছাড়া ইয়েমেনের একটি হুতি মিডিয়া সেন্টারে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে সিপিজে তাদের রেকর্ডে সাংবাদিকের ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েল ছাড়াও সুদান (৯ জন), মেক্সিকো (৬ জন), রাশিয়া (৪ জন) এবং ফিলিপাইনে (৩ জন) সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও একজন সাংবাদিক অপরাধচক্রের হাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সিপিজে-এর প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, “এমন এক সময়ে সাংবাদিকদের রেকর্ড সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে যখন তথ্যের অবাধ প্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ আসলে সব ধরণের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের পূর্বাভাস। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।” ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সাংবাদিক নয়, তাদের পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রায় ৭০০ জন নিকটাত্মীয় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের অবস্থান বরাবরের মতো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। অনেক ক্ষেত্রে নিহত সাংবাদিকদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার দাবি উঠেছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতজুড়ে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-র লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহারসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বাহিনী। কাবুলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগান বাহিনী তাদের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ লেখেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ।” অন্যদিকে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব দেবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সহিংসতা ও বোমা হামলার নীতি থেকে পাকিস্তানকে সরে এসে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। উভয় দেশই নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান–আফগান সীমান্তে অনিয়ন্ত্রিত গুলিবর্ষণের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী শক্ত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অন্তত ৪৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন স্থানে আফগান তালেবান বাহিনীর গুলির ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে পাকিস্তানি সেনারা দ্রুত অপারেশন “গজব-লিল-হক” শুরু করে। অভিযানের সময় তালেবান বাহিনীর পরিচালিত একটি কুয়াডকপ্টার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয় এবং সব হুমকিস্বরূপ ড্রোন ধ্বংস করা হয়। কোনো ড্রোনই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনারা ছোট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক পাল্টা গুলি চালায় এবং আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে তালেবান অবস্থানগুলোতে আঘাত হানে। চিত্রাল সেক্টরে একটি তালেবান চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি বজাতুরের নওগাই, খাইবারের তিরাহ, মোহম্মদ জেলা ও আরণ্দু খাতে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হয়। বজাতুর এলাকায় দুটি আফগান পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার তীব্রতায় তালেবান যোদ্ধারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং টর্কহাম ক্রসিংয়ে সরঞ্জাম ও রসদ ফেলে রেখে সরে যায় বলে সূত্র জানিয়েছে। এই সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বজাতুরের লাগরি এলাকায় মর্টার শেল বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী। আহতদের খার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, আফগান তালেবান বাহিনী সীমান্তজুড়ে অপ্রয়োজনীয় গুলিবর্ষণ করে ভুল হিসাব করেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চিত্রাল, খাইবার, মোহম্মদ, কুর্রাম ও বজাতুরে পাকিস্তানি সেনাদের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে।