তথ্যপ্রযুক্তি

মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ।


শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা।


কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম।


ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে।


ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’।


ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা।


জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।”


প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট: ছোট পরিচয়পত্রের বিশাল বিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী অস্ত্র: চীনের নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

ছবি - সংগৃহিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার: বদলে যাচ্ছে আগামীর কর্মসংস্থান ও পেশার ধরন

ছবি - সংগৃহিত
বাব আল-মানদেব: বিশ্ব অর্থনীতির ‘কান্নার দরজা’ এখন নতুন কেন্দ্রবিন্দু

পারস্য উপসাগরের হরমজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদেব’ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক মহা-সংকট।   ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বিধ্বংসী রণক্ষেত্র।   আরবি শব্দ ‘বাব আল-মানদেব’-এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কান্নার দরজা’, যা বর্তমানে তার নামের মতোই বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।   ইয়েমেন, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।   বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল ও জটিল এক সরবরাহ ব্যবস্থা।   প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং বিশাল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়।   কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বের ১২ শতাংশ গম এবং বিশাল পরিমাণ চাল ও সার এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অপরিহার্য ধমনী। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।   ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগরের গভীরে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বড় বড় শিপিং কোম্পানি এখন প্রাণভয়ে এই ঐতিহাসিক রুটটি পুরোপুরি বর্জন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যা পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   দীর্ঘপথ ভ্রমণের ফলে জ্বালানি খরচ ও জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বাব আল-মানদেব যদি দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং খাদ্য সংকট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের রূপ নিতে পারে।   আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহিত সাগরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও ড্রোন ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ইরান এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল মেরুকরণ তৈরি করেছে।   একদিকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও স্থলপথের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে যা সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারছে না।   সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব এখন বিশ্ব রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ দাবার ছক যেখানে প্রতিটি ভুল চাল পুরো মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।   বিশ্ব শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় রয়েছে যা এই ‘কান্নার দরজা’র ভয়াবহতা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এআই জগতে গুগলের চমক: উন্মোচিত হলো ওপেন সোর্স মডেল ‘জেম্মা ৪’

ছবি: সংগৃহীত।

রোবট যখন ছাত্র: চীনে যন্ত্রমানবদের জন্য বিশেষ স্কুলের যাত্রা শুরু

অ্যাপল ও গুগল

ইউরোপীয় আদালতে বিলিয়ন ডলার জরিমানার কবলে অ্যাপল ও গুগল

জুকারবার্গ
শত্রুতা ভুলে একজোট হচ্ছেন জুকারবার্গ ও মাস্ক: পডকাস্টের পর ভাইরাল গোপন বার্তার তথ্য

প্রযুক্তি বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্ক ও মার্ক জুকারবার্গের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া একটি মামলার নথিতে এই দুই টেক জায়ান্টের মধ্যকার গোপন বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য ফাঁস হয়েছে। নর্থি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জুকারবার্গ নিজেই মাস্ককে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এক সময় যারা একে অপরকে ‘কেজ ফাইট’ বা মল্লযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, এখন তারা বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে একযোগে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যা প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, জুকারবার্গ তার বার্তায় মাস্কের গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজ (DOGE) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, মাস্কের টিমের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা ডক্সিং এবং কোনো ধরণের হুমকি সম্বলিত কন্টেন্ট ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে নিজের টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেন জুকারবার্গ। এই বার্তার জবাবে ইলন মাস্ক একটি হৃদয়ের ইমোজি পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ওপেনএআই অধিগ্রহণে যৌথভাবে বিনিয়োগ বা বিড করার প্রস্তাব দেন। যদিও জুকারবার্গ সরাসরি সেই প্রস্তাবে যুক্ত হননি, তবে ফোনে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-কে ঘিরে মাস্কের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই ব্যক্তিগত চ্যাটগুলো সামনে এসেছে। প্রযুক্তি খাতে একে অপরের প্রবল প্রতিযোগী হওয়া সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সরকারি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তাদের এই গোপন সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময়ের তিক্ত সম্পর্ক পেছনে ফেলে এই দুই শীর্ষ উদ্যোক্তার কাছাকাছি আসা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। জুকারবার্গ ও মাস্কের এই নতুন রসায়ন আগামী দিনে সিলিকন ভ্যালির ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
মেটা

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মেটা: ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ

নাসা

চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত মঙ্গলযানের ঘোষণা দিল নাসা

হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই ভিডিও জেনারেটর: টেক্সট লিখলেই তৈরি হবে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও

হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই ভিডিও জেনারেটর: টেক্সট লিখলেই তৈরি হবে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও

0 Comments