পাকিস্তানজুড়ে চলছে প্রকৃতির তাণ্ডব। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু এলাকায় ভারী তুষারপাত ও ভূমিধসের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারাত ও কাচ্ছি জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রে পিকনিক ও ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ করেছে। জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সম্ভাব্য তুষারঝড় ও পিচ্ছিল রাস্তায় প্রাণহানি এড়াতে নদীতীর, পাহাড়ি এলাকা ও বাঁধ সংলগ্ন স্থানে জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভারী তুষারপাতের ফলে সোয়াত, কালাম, চিত্রাল, নারণ, কাগান, মুর্রি ও নীলাম উপত্যকাসহ অন্তত ৩০টি প্রধান এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আটকে পড়া যাত্রী: তুষারপাতজনিত ঝুঁকির কারণে খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ রাওয়ালপিন্ডি থেকে গিলগিট-বালতিস্তানগামী যানবাহন বন্ধ করে দিলে শত শত যাত্রী অ্যাবোটাবাদের কাছে আটকা পড়েন।
সড়ক পরিস্থিতি: কারাকোরাম হাইওয়েসহ কিছু প্রধান সড়ক পুনরায় চালু করার চেষ্টা চললেও উঁচু অঞ্চলের সংযোগ সড়কগুলো এখনো অত্যন্ত পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় আছেন গিলগিট-বালতিস্তানের হুনজা ও চিপুরসন উপত্যকার বাসিন্দারা।
তাঁবুতে বসবাস: সম্প্রতি ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারিয়ে শত শত মানুষ এখনো তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন। হাড়কাঁপানো শীতে গরম কাপড়ের অভাবে তাঁরা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়: পুরো অঞ্চলজুড়ে দিনে ২০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে ঘিজার জেলার গাহকুচে বাসিন্দারা বিক্ষোভও করেছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মুরি, গালিয়াত, হুনজা ও স্কার্দুসহ পাহাড়ি এলাকায় ভারী তুষারপাতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পর্যটকদের পরবর্তী দুই দিন কোনো ঝুঁকি না নিতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
একসঙ্গে তিন বোন ৯ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত তিনজনই কিশোরী। বুধবার ভোরে ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি আবাসিক সোসাইটিতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, তিন বোন একসঙ্গে ভবন থেকে লাফ দেওয়ার সময় আশপাশের বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দে স্থানীয়দের ঘুম ভাঙে। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার আগে মেয়েরা ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার আগেই তারা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলো বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বোন একটি কোরিয়ান অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল। এ নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মূলত করোনা মহামারির সময় থেকেই তারা অনলাইন গেমের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এই আসক্তির কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাদের আচরণেও এক ধরনের অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়। গোসল, খাওয়া, স্কুলে যাওয়া কিংবা ঘুমানো—সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। পুলিশ জানায়, গেমের আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা নিজেদের জন্য কোরিয়ান নামও রেখেছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজিসহ লেখা ছিল—‘দুঃখিত, বাবা’। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যামূলক কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার অভিযোগে এবার নিলি কুফার-নাউরি ও র্যাচেল তিউতু নামে দুই নারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফ্রান্স। দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী এই দুই কট্টরপন্থী নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে তারা সক্রিয়ভাবে বাধা দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে মঁদ’-এর তথ্যমতে, নিলি কুফার-নাউরি ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামক সংগঠনের প্রধান এবং র্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর করা মামলার প্রেক্ষিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে কুফার-নাউরি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, কারাবরণের ভয়ে তিনি হয়তো আর কখনোই ফ্রান্সে ফিরবেন না। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে ত্রাণ আটকে দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও গণহত্যার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র এবং একসময়ের দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। লিবিয়া থেকে আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থানরত ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার মৃত্যু হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই শহরেই অবস্থান করছিলেন। সাইফ গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনো দাপ্তরিক পদে না থাকলেও তাকে তার বাবার পর লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ গাদ্দাফিকে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্দি করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান এবং তখন থেকেই জিনতান শহরে অনেকটা নিভৃতে অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।