মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ‘বিশাল নৌবহর’ (আর্মাডা) ইরানের দিকে পাঠানোর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, তারা যেকোনো আগ্রাসনের ‘তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক’ জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন:
আলি শামখানি: তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সীমিত হামলা’ বলে কিছু নেই। যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে ধরা হবে। শামখানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর জবাব হবে নজিরবিহীন এবং লক্ষ্য হবে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থল ও আগ্রাসনকারীর সব সমর্থক।
আব্বাস আরাগচি: তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আঙুল এখন ট্রিগারেই আছে। তবে ইরান এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছে—যদি সেই আলোচনা ভয় বা চাপের ঊর্ধ্বে হয়ে পারস্পরিক সমমর্যাদার ভিত্তিতে হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, একটি শক্তিশালী মার্কিন নৌবহর দ্রুতগতিতে ইরানের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। তিনি ইরানকে শেষ সুযোগ দিয়ে বলেছেন:
আলোচনার আহ্বান: ইরান চাইলে দ্রুত একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ করতে পারে, যার মূল শর্ত হবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ।
ভয়াবহ হামলার হুমকি: যদি ইরান এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও ভয়াবহ সামরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তেহরানকে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং পরমাণু ইস্যু নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোও সুর চড়িয়েছে:
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস: তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালানোর ফলে ইরানের বর্তমান সরকারের ‘দিন শেষ হয়ে আসছে’।
আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী ঘোষণার প্রস্তাব: ফ্রান্স এবং জার্মানি এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) আহ্বান জানাচ্ছে যেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমন অভিযানে এ পর্যন্ত ৬,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সূত্রগুলো বলছে, কিছু কিছু এলাকায় গণহারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র এবং একসময়ের দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। লিবিয়া থেকে আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থানরত ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার মৃত্যু হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই শহরেই অবস্থান করছিলেন। সাইফ গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনো দাপ্তরিক পদে না থাকলেও তাকে তার বাবার পর লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ গাদ্দাফিকে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্দি করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান এবং তখন থেকেই জিনতান শহরে অনেকটা নিভৃতে অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যৌন অপরাধ ও মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও বিতর্ক চলমান। ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি জেলখানায় বিচার চলাকালীন অবস্থায় রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি কিশোরীদের পাচার এবং একটি বিশাল যৌন চক্র চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাসের পর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে এই সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র জনসমক্ষে আসার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তার জীবনের অন্ধকার দিকগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে। গণিত শিক্ষক থেকে বিলিওনেয়ার নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা এপস্টেইন সত্তরের দশকে একটি বেসরকারি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। এরপর নিজের মেধা ও কৌশলে ওয়াল স্ট্রিটের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ‘বেয়ার স্টার্নস’-এ যোগ দেন। মাত্র চার বছরেই তিনি সেখানে পার্টনার হন এবং ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং’ গঠন করেন। ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি দ্রুত ধনকুবেরে পরিণত হন এবং নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল প্রাসাদ ও ব্যক্তিগত দ্বীপ গড়ে তোলেন। ক্ষমতাধর বন্ধুদের বৃত্ত এপস্টেইনের সামাজিক যোগাযোগ ছিল ঈর্ষণীয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু পর্যন্ত তার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। ২০০২ সালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাকে ‘চমৎকার লোক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে এপস্টেইনের অসংলগ্ন আচরণের কারণে কয়েক দশক আগেই তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। অন্যদিকে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সাথে তার বন্ধুত্বের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে নিজের রাজকীয় উপাধি হারান। আইনি লড়াই ও ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতা’ ২০০৫ সালে প্রথম এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়াতে এক বিতর্কিত ‘প্লি ডিল’ বা সমঝোতা করেন। এর ফলে তিনি মাত্র ১৩ মাস কারাগারে কাটান এবং দিনের ১২ ঘণ্টা নিজের অফিসে কাজ করার অনুমতি পান। এই সমঝোতাকে পরবর্তী সময়ে ‘শতাব্দীর সেরা ডিল’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়। তবে ২০১৯ সালে নতুন করে পাচারের অভিযোগ উঠলে তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং জেলের ভেতরেই তার জীবনের অবসান ঘটে। গিজলেন ম্যাক্সওয়েল ও পরবর্তী প্রভাব এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। ২০২১ সালে কিশোরীদের পাচার ও প্ররোচিত করার অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যাক্সওয়েল পরে আদালতে স্বীকার করেন যে এপস্টেইনের সাথে পরিচয় হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনার বিষয়। বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো প্রকাশ করছে, যা বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে তার সম্পর্ক এবং অপরাধের ধরণ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সামনে আনছে।
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ একটি খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০০ জন শ্রমিকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া খনিতে। এই এলাকাটি বর্তমানে সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর থেকে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। বিশেষ করে মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। জানা গেছে, রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এম২৩ মিলিশিয়ারা ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রুবায়া খনির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। অবৈধ খনি খনন এবং নিরাপত্তার অভাব এই ভয়াবহ ভূমিধসের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খনিটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। একদিকে বিদ্রোহীদের দমন-পীড়ন এবং অন্যদিকে খনি দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু দেশটিকে এক মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হলেও মিলিশিয়াদের বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।