যুক্তরাষ্ট্র–এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান-এর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না। তার মতে, এই অভিযান ইরাক-এ পরিচালিত সামরিক অভিযানের মতো দীর্ঘ সময় চলবে না। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল বাস্তবায়ন করবে।
হেগসেথ জানান, অপারেশন এপিক ফিউরি এক রাতের মধ্যে শেষ হবে না। ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে, তবে কোনো তাড়াহুড়া করে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন নেই। ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ এই পরিস্থিতিকে একটি “অবিশ্বাস্য সুযোগ” হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এখনই তোমাদের সময়”—এই বার্তাটি ইরানের জনগণের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান-এর কম খরচে তৈরি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হতে পারে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এই ব্যয় বৈষম্যকে সামরিক কৌশলবিদদের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং সৌদি আরব-এ অবস্থিত মার্কিন ও মিত্র সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য বলছে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন মজুত থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির। ২০২৫ সালের জুন মাসের সংঘাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) প্রায় ১৫০টি ‘THAAD’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে প্রতিটি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে কয়েক বছর সময় লাগে। স্টিমসন সেন্টার–এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার উৎপাদনের চেয়ে বেশি হওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্যাসিফিক ফোরাম–এর উইলিয়াম আলবার্ক জানিয়েছেন, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই সীমিত ছিল। চলমান সংঘাতে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব অস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যয় কমাতে পশ্চিমা সামরিক মহল এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েল–এর ‘আয়রন বিম’ লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে লেজার প্রযুক্তির সীমিত ইউনিট বর্তমানে কেবল ইসরায়েলেই চালু রয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার ইয়াল পিনকো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং দেশটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার জবাবে ইরান পালটা হামলা চালানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়েছে। সোমবার কাতারএনার্জি তাদের স্থাপনায় সামরিক হামলার পর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের বেশি ছুঁয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে সপ্তাহান্তে তিনটি জাহাজে হামলার পর এ দাম বৃদ্ধি পায়। ইরান দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধে সতর্কতা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। ডাও জোন্স প্রায় ১% কমে লেনদেন শুরু করে, নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ১% কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের শেয়ারও বড় পতনের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম ২% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে পৌঁছেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী দোহার দক্ষিণের মেসাইদ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। প্রতিবেশী সৌদি আরবে ড্রোন হামলার পর রাস তানুরার আরামকোর প্রধান তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। প্রাথমিক দর বেড়ে যাওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম প্রায় ৭.৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু হলে তেলের দাম আবার কমতে পারে।