আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে এর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে সংসদের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বিরোধী দলের প্রসঙ্গে বলেন, ডেপুটি স্পিকারকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই পেন্টাগনের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। গবেষক মার্ক কানসিয়ান এবং ক্রিস পার্কের বিশ্লেষণ বলছে, এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) নিয়মিত বাজেটের বাইরে। মূলত অত্যাধুনিক স্টিলথ বোমারু বিমান পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এই উচ্চ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করেছে, যা পুনরায় মজুত করতে খরচ হবে আরও ৩.১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের এই উচ্চ ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পেন্টাগনকে শীঘ্রই অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দাম বাড়তে থাকায় এই যুদ্ধ দেশীয় রাজনীতিতে জনরোষ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারীরা, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী, তাদের মধ্যেও এই ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, টমাহক (Tomahawk), প্যাট্রিয়ট (Patriot) এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মতো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি এই যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে শিশুসহ অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২৩ জন। এছাড়া যুদ্ধে ৬ মার্কিন সেনাসহ ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করার ঘোষণা দেয়ায় আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের খরচ এবং ক্ষয়ক্ষতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর সপ্তম দিনে এক নজিরবিহীন ও শোকাতুর পরিবেশে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে জুম্মার নামাজ আদায় করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। গত শনিবার বিমান হামলায় নিহত দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো মুসুল্লি। আক্রমণের মুখেও জনসমুদ্র শুক্রবার পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় জুম্মায় তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মসজিদে ঢল নামে মানুষের। আল জাজিরার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাজধানীর ওপর দিয়ে যখন যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছিল এবং দূর থেকে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, তখনও নির্ভীকভাবে মুসুল্লিরা দলে দলে মসজিদে সমবেত হন। অনেকের হাতেই ছিল নিহত নেতা আলী খামেনির ছবি। স্লোগানে উত্তাল রাজপথ নামাজ শেষে তেহরান, ইলাম, বুরুজের্দ এবং জাহেদানসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দেন। কালো পোশাক পরিহিত শোকার্ত জনতাকে ইরান ও ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। লাউডস্পিকারে খামেনিকে "যুগের তাকওয়া ও অভিভাবকত্বের মূর্ত প্রতীক" হিসেবে বর্ণনা করে শোকগাঁথা পাঠ করা হয়। ভয়াবহ হামলার মুখে ইরান জুম্মার এই জমায়েত এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানজুড়ে হামলা আরও "নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধির" হুমকি দিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের একটি সামরিক একাডেমি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকাতেই গত সপ্তাহে খামেনি নিহত হয়েছিলেন। এছাড়াও আবাসিক এলাকা, পেট্রোল পাম্প এবং পার্কিং লটে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা অজুহাতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুম্মার নামাজ বাতিল করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি বজায় রেখে জানিয়েছেন, "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না। অন্যদিকে কাতার সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শোক, যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তার মাঝেও ইরানি জনগণের এই বিশাল জমায়েত দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি জনসমর্থন এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।