সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মার্কিন আদালতে সাংবাদিকের দোষ স্বীকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৭:৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে বসবাসরত ও কর্মরত একজন মার্কিন সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত চীন সরকারের হয়ে 'অবৈধ এজেন্ট' হিসেবে কাজ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন। থমাস পকেন (দ্বিতীয়) নামের ৫০ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক চীনের কাছে মার্কিন সরকারের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ। সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, থমাস পকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে সিসিটিভি ও সিনহুয়া নিউজসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে 'ট্রাম্প-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ' চলাকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একজন ভাষণ লেখক পকেনকে 'ক্যাথি' নামের এক গুপ্তচরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন সরাসরি চীন সরকারের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।

 

সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের সাথে সাক্ষাতের মতো বিভিন্ন কাজ তাকে দিতেন ক্যাথি। এসব কাজের বিনিময়ে পকেন ক্যাথির কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছেন। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি চীনকে তথ্য সরবরাহ করতে পারে এমন সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

 

এফবিআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং এসপিওনাজ বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি জানিয়েছেন, এই আমেরিকান সাংবাদিক মূলত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা তার চীনা গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করতেন। মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট করতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, এই মামলাটি তারই একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তদন্তে জানা গেছে, ক্যাথি ছাড়াও চীনে 'উইলিয়াম' এবং 'রিচার্ড' নামে আরও দুই ব্যক্তির সাথে কাজ করেছেন পকেন। এছাড়া তিনি উহানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কাছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করেছেন এবং সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে দিতেও ওই গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছেন।

 

সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেন যে, তার মক্কেল নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, পকেন মূলত দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসার ঘটাতেই এসব কাজ করেছিলেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর গুপ্তচরবৃত্তির এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই অপরাধের জন্য পকেনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকা তোলার সুযোগ, ৪৬ লাখ ডলার খরচ করে বিপাকে তরুণী
অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকা তোলার সুযোগ, ৪৬ লাখ ডলার খরচ করে বিপাকে তরুণী

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মালয়েশিয়ান ছাত্রী ক্রিস্টিন জিয়াক্সিন লির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ভুলবশত তার অ্যাকাউন্টে আনলিমিটেড ওভারড্রাফট বা সীমাহীন অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিয়ে ফেলে। বিষয়টি নজরে আসার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেন ওই তরুণী। নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা অপ্রত্যাশিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি শুরু করেন বিলাসবহুল কেনাকাটা ও রাজকীয় জীবনযাপন।   মাত্র ১১ মাসের মধ্যে ক্রিস্টিন প্রায় ৪৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ করে ফেলেন। নামীদামি ব্র্যান্ডের ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ, বহুমূল্য গহনা, বিলাসবহুল পোশাক, বুটজুতো এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কিনে এই বিপুল অর্থ উড়িয়েছেন তিনি। তার কেনাকাটার তালিকায় ছিল প্রায় দেড় লাখ ডলার মূল্যের একটি হার্মিস বার্কিন হ্যান্ডব্যাগ থেকে শুরু করে ডাইসন ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো দৈনন্দিন পণ্যও! অবাক করা বিষয় হলো, কেবল এক দিনেই তিনি ৩ লাখ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছিলেন বলে জানা যায়।   অবশেষে ব্যাংকের টনক নড়লে তারা নিজেদের এই মারাত্মক ভুল বুঝতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিস্টিনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। হারানো অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় আইনি পদক্ষেপ নেয় ব্যাংকটি। ফলস্বরূপ, ২০১৬ সালের মে মাসে সিডনি বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনাটি পরবর্তীতে এক অভাবনীয় মোড় নেয়।   দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রসিকিউটররা ক্রিস্টিনের বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে উঠে আসে যে, ব্যাংক নিজেই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাকে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল, তাই এটি সরাসরি কোনো প্রতারণা বা চুরির পর্যায়ে পড়ে না। ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি পুরোপুরি অব্যাহতি পেলেও, খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে দেওয়ানি বা সিভিল আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৫:৩৫
ইরানি বিজ্ঞানীদের পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি: নেতানিয়াহু

ইরানি বিজ্ঞানীদের পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি: নেতানিয়াহু

মঙ্গলের রহস্যময় চাঁদ থেকে মাটি-পাথর আনতে জাপানের মহাকাশ অভিযান

মঙ্গলের রহস্যময় চাঁদ থেকে মাটি-পাথর আনতে জাপানের মহাকাশ অভিযান

তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ
ভোটার তালিকায় জীবিত মানুষ ‘মৃত’, ভোটাধিকার ফিরে পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন দর্জি

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় জীবিত থাকা সত্ত্বেও নিজেকে মৃত হিসেবে দেখতে পেয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা এই ব্যক্তি এখন ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন। ঘটনাটি দেশটির ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাসিন্দা কামতা প্রসাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘কান্তা প্রসাদ’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে গিয়ে তাঁকে কাজ ফেলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এতে দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল তাঁর পরিবারের আর্থিক চাপও বাড়ছে।   ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটার এবং অন্য কারণে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া ও তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো। তবে এই সংশোধনের সময় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লিতে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দেশজুড়ে এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে নাম বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তিই যে ভুলভাবে বাদ পড়েছেন, তা নয়; তাঁদের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিও থাকতে পারেন।   কামতা প্রসাদের মতো যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, একাধিকবার সরকারি দপ্তরে যাতায়াত এবং সংশোধনের আবেদন করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   এ ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এতে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের একাংশ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।   অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে। যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পেতে পারেন।   তবে শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল প্রশাসনিক ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১২:৫৯
আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম।

যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক রেখে রাশিয়ায়, যুদ্ধক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশী নজরুলের

মার্কিন ডাক বিভাগে জাল শিপিং লেবেল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ফাহিম আকরামকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি, ফাহিম আকরাম আটক

কেমব্রিজের লাইব্রেরি নির্মাণ নিয়ে আইনি বিরোধে অধ্যাপক সুচিত্রা সেবাস্টিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

কেমব্রিজে নতুন লাইব্রেরির পরিকল্পনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন অধ্যাপক সুচিত্রা

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
‘প্রয়োজনে ধুলো খাব, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না’, ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহেরদাদ আখলাঘি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। প্রয়োজনে মাটি ও ধুলোবালি খেয়ে থাকলেও দেশের এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষানীতির ওপর নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   আলজাজিরা, রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আখলাঘি ১৮ অক্টোবর ইরানের পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন পান। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর বক্তব্যে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   আখলাঘির ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কয়েক ঘণ্টা তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনাকারী শাখা এবং সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করেন। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ তাঁর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে।   নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা হলে তার জবাব হবে ব্যাপক ও অপ্রত্যাশিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা এবং ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার আলোচনা চলার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য এসেছে। তবে তাঁর ঘোষণার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।    আখলাঘি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বয়স ৬৮ বছর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ৪২ বছরের বেশি। তিনি আগে দেশটির মহাকাশ শিল্প সংস্থা ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে; জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ইরানের পার্লামেন্টে তাঁর নিয়োগের পক্ষে ২৩৭টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫টি। মোট ২৭৭ জন আইনপ্রণেতার ভোটের মধ্যে এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন পান। পরে ১৯ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহর মৃত্যুর পর প্রায় আট মাস ধরে চলা ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বের অবসান ঘটে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর মাজিদ ইবনে আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নতুন মন্ত্রীর সামনে এখন সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক উৎপাদনব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে।    আখলাঘি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সামরিক শিল্পে উৎপাদন বাড়ানো, আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করাও তাঁর পরিকল্পনার অংশ।   ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, সংগ্রহ ও সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।    নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কঠোর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আখলাঘি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইরান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপদ প্রত্যাহারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের ওপর নতুন হামলা হলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৯:৪৪
২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে স্ত্রীকে হারানোর ১৫ বছর পরও সাগরে নেমে তাঁর দেহাবশেষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন জাপানের ইয়াসুও তাকামাৎসু। ছবি: সংগৃহীত

সুনামিতে সাগরে ভেসে যাওয়া স্ত্রীর খোঁজে ১৪ বছর ধরে ডুব দিয়ে যাচ্ছেন স্বামী, পেতে চান শেষবারের মতো

স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে ফরাসি-আরবি মিশ্র স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, এটাই অন্ধকার’

যুক্তরাজ্যে পেনশন বাড়ছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড

ট্রিপল লক নীতিতে ২০২৭ সালে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের পেনশন, বার্ষিক আয় ছাড়াবে ১৩ হাজার পাউন্ড

0 Comments