দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে বসবাসরত ও কর্মরত একজন মার্কিন সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত চীন সরকারের হয়ে 'অবৈধ এজেন্ট' হিসেবে কাজ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন। থমাস পকেন (দ্বিতীয়) নামের ৫০ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক চীনের কাছে মার্কিন সরকারের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ। সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, থমাস পকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে সিসিটিভি ও সিনহুয়া নিউজসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে 'ট্রাম্প-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ' চলাকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একজন ভাষণ লেখক পকেনকে 'ক্যাথি' নামের এক গুপ্তচরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন সরাসরি চীন সরকারের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের সাথে সাক্ষাতের মতো বিভিন্ন কাজ তাকে দিতেন ক্যাথি। এসব কাজের বিনিময়ে পকেন ক্যাথির কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছেন। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি চীনকে তথ্য সরবরাহ করতে পারে এমন সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।
এফবিআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং এসপিওনাজ বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি জানিয়েছেন, এই আমেরিকান সাংবাদিক মূলত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা তার চীনা গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করতেন। মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট করতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, এই মামলাটি তারই একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, ক্যাথি ছাড়াও চীনে 'উইলিয়াম' এবং 'রিচার্ড' নামে আরও দুই ব্যক্তির সাথে কাজ করেছেন পকেন। এছাড়া তিনি উহানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কাছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করেছেন এবং সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে দিতেও ওই গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছেন।
সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেন যে, তার মক্কেল নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, পকেন মূলত দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসার ঘটাতেই এসব কাজ করেছিলেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর গুপ্তচরবৃত্তির এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই অপরাধের জন্য পকেনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
উপসাগরীয় মিত্রদের পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য একটি নতুন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট। ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর মিত্র দেশগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই পুনর্গঠন কাজে খোদ তেহরানেরই বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। স্কট বেসেন্টের চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র শনিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইরানের কারণে হওয়া যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি মেরামত ও মিত্রদের পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য ইরানের সম্পদ কাজে লাগাতে ট্রেজারি বিভাগ তাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে। সূত্রমতে, ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট এরই মধ্যে তার দলকে উপসাগরীয় মিত্রদের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের হামলায় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের খরচের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাওয়া হয়েছে। অতীতের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতেও ইরানের সম্পদ ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে ট্রেজারি বিভাগ আরও পর্যালোচনা করবে। এই কর্মসূচির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলেও এবং ইরানের আটকে থাকা ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলারের কথা স্পষ্টভাবে না বলা হলেও, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় এই বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা কঠোর অবরোধের কারণে তেল বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরান বাণিজ্য প্রায় স্থবির করে দেওয়ার পর এই অবরোধ আরোপ করা হয়। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভোররাতে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। গত সপ্তাহে কুয়েতের বিমানবন্দরে হওয়া ভয়াবহ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন হামলার খবর প্রকাশ্যে এল। গত সপ্তাহের ওই হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মহসেন রেজাই শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ‘অচলাবস্থায়’ এসে দাঁড়িয়েছে। আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ছাড় করবে কি না, মূলত তার ওপরই এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার ঘোষণার পরপরই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫টি সিহক মেরিটাইম হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক এই সামরিক যানগুলো নিউজিল্যান্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে এমএইচ-৬০আর (MH-60R) মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির এই প্রস্তাবিত বৈদেশিক চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, চীনের দ্রুত সামরিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের সমর্থনে পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র নিউজিল্যান্ড। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বর্ধিত সক্ষমতা মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হবে। লকহিড মার্টিনের সিকোরস্কি ইউনিটের তৈরি এই সিহক হেলিকপ্টারগুলো ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বর্তমান মধ্য-ডানপন্থি সরকারের ২০২৫ সালের একটি সামরিক মহাপরিকল্পনার অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে আগামী চার বছরে সামরিক ব্যয় ৯০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (৫০০ কোটি মার্কিন ডলার) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আট বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গত মাসেই ১৫৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার নতুন প্রতিরক্ষা তহবিল হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে ওয়েলিংটন। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। সেখান থেকে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আগের মতো শান্ত নেই, বরং এটি এখন কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানার একটি পরিবার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা পারভীন রানী এবং তার ছেলে তুষার কুমার একই সময়ে পৃথক দুই কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন। রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৩ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় পরিবারটি। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী সুনীল দাহিয়া বলেন, “২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, তুষার ও তার মা সবসময় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। লন্ডনে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তুষার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এই অর্জনের পরও পরিবারটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। হরিয়ানার রোহতকে এখনও তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে বসবাস করেন। তারা প্রতি বছরই ভারতে যান। তুষার কুমারের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। লেবার পার্টির এই তরুণ নেতা ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।