হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’, ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে উপহাস ডেমোক্র্যাটদের
ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে 'ঘুমিয়ে পড়েছেন' বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ' উপাধিতে ভূষিত করে তীব্র উপহাস করছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একসময় ট্রাম্প নিজেই ‘স্লিপি জো’ বলে কটাক্ষ করতেন, আর এবার তাকেই পড়তে হলো একই ধরনের তীব্র সমালোচনার মুখে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে 'ক্লিন কোল' বা পরিচ্ছন্ন কয়লা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও, যেখানে তাকে স্পষ্টতই 'তন্দ্রাচ্ছন্ন' অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা।
ট্রাম্পের এই ঝিমুনির সুযোগ লুফে নিতে একটুও দেরি করেনি ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেলরা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে লেখা হয়, 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন।' নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলের প্রেস অফিস থেকে মন্তব্য করা হয়, লি জেলডিনের কথা শোনার চেয়ে ঘুমানো অনেক ভালো। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের টিমও যোগ দেয় এই উপহাসে, তারা লেখে, 'ডোজি ডন' (ঝিমুনি ডন) ফিরে এসেছেন।
এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনও এই বিতর্কে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি আগেই বলেছিলেন ওটা একটা ক্লোন এবং তারা হয়তো ব্যাটারি চার্জ দিতে ভুলে গেছে!
তবে হোয়াইট হাউস ডেমোক্র্যাটদের এই অভিযোগ অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস র্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি প্রগ্রেসিভ অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে লেখা হয়, যারা এসব বলছে, তাদের পোস্ট করা ক্লিপেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে প্রেসিডেন্টের চোখ খোলা রয়েছে। এর আগে গত ১১ মে-ও ট্রাম্পের চোখ বন্ধ করা একটি ছবি নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক উঠেছিল। সে সময় হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, প্রেসিডেন্ট কেবল চোখ পিটপিট করছিলেন। এবারও হোয়াইট হাউস বিরোধীদের দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন রেইনার ঘটনাটিকে 'অস্বাভাবিক' বলে অভিহিত করে জানান, প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক শারীরিক পরীক্ষায় তার ঘুমের ব্যাঘাতের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ তো সরাসরি দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোটেও সুস্থ নন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ে তিনি জেগে থাকতে পারছেন না।
লিউ প্রশ্ন তোলেন, কোনো কোম্পানির সিইও যদি বোর্ড মিটিংয়ে এভাবে ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তাকে নিশ্চিতভাবেই বরখাস্ত করা হতো। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে বলেন, তিনি কখনোই প্রেসিডেন্টকে ঘুমাতে দেখেননি, বরং তিনি একদমই ঘুমান না। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ড. শন বারবাবেলাও সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়বিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং একসময়ের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল হক ইনাম বর্তমানে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) হাতে আটক রয়েছেন। একসময় যিনি প্রবাসীদের বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসতেন, আজ তার এই দুঃসময়ে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা মুক্তির দাবি চোখে পড়ছে না। প্রকাশ্য কোনো সমাবেশ বা মানববন্ধন তো দূরের কথা, ঘনিষ্ঠজনরাও এখন নিশ্চুপ। গত ১৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের বাফেলো এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা নিউইয়র্কের বাংলাদেশি সমাজের এক অস্বস্তিকর ও ভীতিজনক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রায় ৪২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এনামুল হক দীর্ঘদিন নিউইয়র্কের জামাইকায় বসবাস করেছেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি বাংলাদেশ থেকে ফেরদৌস ওয়াহিদ, কুমার বিশ্বজিতের মতো জনপ্রিয় তারকাদের নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জমজমাট সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। কয়েক বছর আগে তিনি ভার্জিনিয়া হয়ে বাফেলোতে স্থায়ী হন। পরিচিতজনদের ধারণা, দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও তার অভিবাসন নথিপত্রে হয়তো কোনো জটিলতা ছিল। তবে এই আটকের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে বাংলাদেশি কমিউনিটির অভূতপূর্ব নীরবতা। অতীতে কোনো বাংলাদেশি আটক হলে আইনি সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ বা মানববন্ধনের মতো উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং আইসের ক্রমবর্ধমান অভিযানের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, প্রকাশ্যে কারও পাশে দাঁড়ালে নিজেদের বা পরিবারের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। কেবল এনামুল হকই নন, সম্প্রতি বাফেলো এলাকায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আইসের হাতে আটক হয়েছেন। এদের মধ্যে ক্যানমোর অ্যাভিনিউয়ের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বাবু এবং গ্রিন কার্ডধারী জাকির হোসেনের নামও উঠে এসেছে, যদিও জাকিরকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই আপস্টেট নিউইয়র্কে ৬০০-এর বেশি এবং পুরো অঙ্গরাজ্যে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে আইস। উদ্বেগের বিষয় হলো, গ্রেপ্তার হওয়া এসব মানুষের বড় অংশেরই কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই। আইসের অভিযান এখন শুধু আগে থেকে বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং যাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান, তারাও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব সংকটে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিরায়ত সংস্কৃতি এখন অভিবাসন আতঙ্কের কাছে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে।
৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ, সঙ্গে রাখেন প্রয়াত স্ত্রীর ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস
ফিলাডেলফিয়ার ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় ষষ্ঠবার বাংলাদেশি জিয়াউদ্দিন আহমেদ
শিশুদের অনলাইনে যৌন শোষণের অভিযোগে অস্টিন জান সাই ইয়াতকোকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। তাঁকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের ধারণা, ফিলিপাইনের এই নাগরিক বর্তমানে নিজ দেশেই অবস্থান করছেন। টেক্সাসের প্লানো শহরের সঙ্গেও তাঁর যোগসূত্র রয়েছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি অনলাইন গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণে জড়িত ছিলেন ইয়াতকো। গোষ্ঠীটির সদস্যরা বিভিন্ন গেমিং ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কার্যক্রম চালাতেন বলে সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অপ্রাপ্তবয়স্কদের চাপ দিয়ে নিজেদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করা হতো। পরে সেসব উপকরণ অনলাইন গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে ইয়াতকোকে এফবিআইয়ের শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধসংক্রান্ত ওয়ান্টেড তালিকায় রাখা হয়েছে। ইয়াতকোর বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন শোষণ এবং শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এফবিআই। সংস্থাটির প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, ইয়াতকোর জন্ম ১৯৯৮ সালের ২৭ আগস্ট, ফিলিপাইনের লাগুনা প্রদেশের সান পেদ্রোয়। তাঁর উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি, চুল কালো এবং চোখ বাদামি। তিনি ইংরেজি ও তাগালগ ভাষায় কথা বলেন। কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রিধারী ইয়াতকো প্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে ১-৮০০-২২৫-৫৩২৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে এফবিআই। স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় কিংবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেও তথ্য দেওয়া যাবে। তাঁর বিরুদ্ধে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগ; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
অপারেশনের সময় অচেতন ভেবে রোগীকে বিদ্রূপ, অডিও রেকর্ড করে জিতলেন ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধের চিজ থেকে ই. কোলাই সংক্রমণে ১৩ জন অসুস্থ, ৯ রাজ্যে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের ৫ শহরে দেড় ঘণ্টার রিসার্চ স্টাডিতে একবার অংশ নিলেই ১৫০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পুলিশের কাজে ব্যবহারের জন্য এক আসনের উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন করেছে ফ্লোরিডা পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাজে এ ধরনের যান যুক্ত করার উদ্যোগ দেশে এটিই প্রথম। তবে নিয়মিত পুলিশি অভিযানে যানটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফেডারেল অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ‘অ্যাস্ট্রো’ নামের যানটি জেটসন ওয়ান মডেলের বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ। এটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং একজন চালক নিয়ে উড়তে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, একবারে প্রায় ২০ মিনিট আকাশে থাকতে পারে যানটি। এটি কিনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ ডলার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশপ্রধান অ্যারন মারে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ, সড়কপথে পৌঁছানো কঠিন এমন স্থানে যাওয়া, ঝড়ের পর পরিস্থিতি দেখা এবং জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজে অ্যাস্ট্রোর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। আঞ্চলিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পুলিশি কার্যক্রমে যানটি ব্যবহারের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন পাওয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন কবে মিলবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে যানটি উন্মোচন করা হলেও পুলিশের নিয়মিত আকাশপথের টহল শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের পাশাপাশি অ্যাস্ট্রোকে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রশিক্ষণেও কাজে লাগাতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। চলতি শরতে চালু হওয়া অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রমের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা যানটির পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গবেষণা এবং প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।
২৮ অক্টোবর ফেডের সুদ বাড়লে চাপে পড়তে পারেন ৩১ লাখ বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী
শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন