আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সবার স্বার্থের স্বীকৃতির মাধ্যমেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কোনোভাবেই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সকলের স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।
রোববার ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক কর্মী এবং গণসমাবেশ আয়োজকদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বৈঠকে আব্বাস আরাগচি দেশের কৌশলগত অগ্রগতি এবং শত্রুদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার পেছনে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ভূমিকার কথা গভীর গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক দরবারে ইরানের প্রকৃত শক্তির প্রকাশ কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং জাতীয় সংহতি এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের সচেতন উপস্থিতিই ইরানের আসল শক্তি।
বারো দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে দেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান কেবল রণক্ষেত্রে বা কৌশলগতভাবেই জয়ী হয়নি, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক ও রাজনৈতিক ফলাফল অর্জন করেছে। এই সফলতার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এটিই প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হলে ইরানসহ এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই এই অঞ্চলের সব দেশের অংশগ্রহণ এবং একটি যৌথ সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে হবে—যা ইরান বরাবরই সমর্থন ও দাবি জানিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল। প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে। সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত। কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।
পাকিস্তানে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা এবং বড় ভাইও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তারা একদল ডাকাতের কবলে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় দূর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই ডাকাত ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর আতঙ্কে ভাড়া করা গাড়িটিও দ্রুত গতিতে ওই স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে। এক স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে ওয়ানডে বা টেস্টের মতো কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। গাড়িটি হঠাৎ খুব দ্রুত গতিতে চলে যেতে দেখে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে ডাকাতদের গাড়ি ভেবে বসেন। এরপর তারা গাড়িটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পুলিশের সেই গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ বছরের ওই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির বাবা ও বড় ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে শিশুটির মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগী পরিবার এবং আহত সদস্যদের সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। এক সরকারি বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। পোস্টে শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ডিজিটাল মাধ্যমে এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক যেসব দেশ এই আলোচনায় সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টের শেষাংশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কয়েকটি ধাপ আয়োজন করেছে। ১১ ও ২১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও তখন কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। এবার নতুন করে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।