খেলাধুলা

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তুমুল মারামারি

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি, লাথি এবং একে অপরের ওপর বস্তু ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই উন্মুক্ত মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন।

 

জানা গেছে, গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়। একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা প্রথমে একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ফিগারো’ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায় এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থানে এই প্রকাশ্য মারামারির ঘটনাটি ঘটলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

 

এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ফ্যান-জোনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায়, এই ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দুই পক্ষের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়। তা ছাড়া, আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় সমর্থকদের আবেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন স্টেডিয়াম ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তুমুল মারামারি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি, লাথি এবং একে অপরের ওপর বস্তু ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই উন্মুক্ত মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন।   জানা গেছে, গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়। একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা প্রথমে একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ফিগারো’ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায় এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থানে এই প্রকাশ্য মারামারির ঘটনাটি ঘটলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।   এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ফ্যান-জোনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায়, এই ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দুই পক্ষের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়। তা ছাড়া, আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় সমর্থকদের আবেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন স্টেডিয়াম ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:৪৪
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ইরান দলকে নির্দেশ, ক্ষোভে ফিফার হস্তক্ষেপ চাইলেন কোচ-অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষোভ ইরান কোচের, বৈষম্যের অভিযোগ ঘালেনুইয়ের

মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম
মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম

প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে।    তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে।   লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।   তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়।   ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে।   সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক।   কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা।   আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা।   আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন।   হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে।   অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন।   এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা।   আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে।   এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না।   তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি।   সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য।   যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে।   তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে।   বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।   এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৮:৫৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নেইমার-ভিনিসিয়ুসকে ‘এলিয়েন অপহরণ করবে’, ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর দাবি ঘিরে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন কৃষক আলাল, যোগ দিলেন ইরান শিবিরে

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী শিকড়েই গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত
অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে পারেননি, স্পেনকে রুখেও চোখে জল কেপ ভার্দের নায়ক ভোজিনিয়ার

কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে দিনটি হয়তো বহু বছর ধরে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী ও শিরোপাপ্রত্যাশী দল স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো দেশ ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দে ভাসছিল, তখন মাঠের এক কোণে অশ্রুসিক্ত হয়ে বসে ছিলেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।   শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, সান্ত্বনা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই আবেগঘন দৃশ্য।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি ছিল আনন্দের কান্না। কিন্তু ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ভোজিনিয়া জানান, তার চোখের জলের পেছনে ছিল আরও গভীর এক গল্প। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে পাশে পাননি তার সবচেয়ে কাছের মানুষদের।   আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তারাই ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের সময় বারবার তাদের কথা মনে পড়ছিল।   তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে মায়ের অনুপস্থিতি। ভোজিনিয়া চেয়েছিলেন, গ্যালারিতে বসে মা ছেলের জীবনের অন্যতম বড় মুহূর্তটি দেখুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। ভোজিনিয়া বলেন, “আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুন। কিন্তু ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় খরচ সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। তাই তিনি আসতে পারেননি।”   এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার বার্তা জানাতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই মনে করেন, তার গল্প বিশ্বকাপের সবচেয়ে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক ফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভোজিনিয়ার। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে প্রায় একাই আটকে দেন তিনি। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।   পেদ্রি, রদ্রি এবং আয়মেরিক লাপোর্তেদের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের আক্রমণ সামলে ম্যাচজুড়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। স্পেনের অন্তত কয়েকটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তিনি রুখে দেন অসাধারণ দক্ষতায়। তার এই নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।   মজার বিষয় হলো, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচিত গোলরক্ষকদের মতো বড় ক্লাবে খেলেন না ভোজিনিয়া। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলেন। সীমিত আলোচনার মধ্যে থাকা এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।   স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তার জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ হয়ে থাকবে। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর সেই অভিষেক ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা। তবে ভোজিনিয়ার সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না।   কেপ ভার্দের মিন্দেলো দ্বীপে বেড়ে ওঠার সময় শারীরিক গড়ন নিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। উচ্চতা তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দলই তাকে গুরুত্ব দিতে চাইত না। ভালো খেললেও সুযোগ পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘদিন।   পেশাদার ফুটবলে তার যাত্রা শুরু হয় ২৫ বছর বয়সে, যা একজন ফুটবলারের জন্য বেশ দেরিতেই বলা যায়। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাকে বারবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নায়ক হওয়ার সুযোগ।   বিশ্বকাপে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে যেমন নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে, তেমনি ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত গল্পও ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। তার চোখের জল মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবল শুধু গোল, পরিসংখ্যান কিংবা ট্রফির গল্প নয়। এটি সংগ্রাম, পরিবার, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বপ্ন পূরণের গল্পও।   কেপ ভার্দের জন্য এই এক পয়েন্ট হয়তো ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগময় মুখগুলোর একটি হয়ে থাকবেন ভোজিনিয়া, যার সাফল্যের মুহূর্তেও মনে পড়েছে মায়ের কথা।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২১:১৮
দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি: এএফপি

অভিষেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬ । ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জমজমাট ফুটবল উৎসব

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রতিদিন কুইজে অংশ নিয়ে জিতুন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ

0 Comments