যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে। পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন। ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরিচালিত বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলায় এক অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ৫৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রতারণামূলক দাবি জমা দিয়েছিলেন। মামলার তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন গ্রহণে রাজি করাতেন। পরে সেই প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের 340B Drug Pricing Program-এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে সাউথ ফ্লোরিডায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি, একটি বেন্টলি, একাধিক মার্সিডিজ গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ সম্পত্তি কিনেছিলেন। তদন্তের সময় এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ে দেখে জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহ করে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে। এই মামলাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং 340B কর্মসূচির তদারকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নিম্ন আয়ের রোগীদের সহায়তার জন্য চালু করা এই কর্মসূচির কিছু দুর্বলতা অসাধু চক্রগুলো কাজে লাগাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিয়ম-কানুন আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। কোর্ট ডকুমেন্ট থেকে জানা গেছে, ওই অভিবাসীর নাম জিন জেথ্রো আলেকজান্দ্রে এবং তিনি হাইতির নাগরিক। ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির কারণ হয়। ফ্লোরিডার এই মামলাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি গিরিখাতে সপ্তাহান্তে এক ভয়াবহ বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন প্রখ্যাত দুঃসাহসী অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইস, যিনি ২০১২ সালের সুপার বোলে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মডোনার সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ইউটাহর গ্র্যান্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের একজন অ্যান্ডি লুইস। বেস জাম্পিং হলো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চরম ক্রীড়া বা এক্সট্রিম স্পোর্ট, যেখানে আকাশচুম্বী ভবন, সেতু বা গভীর গিরিখাতের মতো কোনো উঁচু ও স্থির স্থান থেকে প্যারাসুট নিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া হয়। অ্যান্ডি লুইস শুধু বেস জাম্পিংয়েই নয়, বরং 'স্ল্যাকলাইনিং' এবং 'ট্রিকলাইনিং'-এর মতো বিশেষ ধরনের খেলাধুলার জগতেও এক অত্যন্ত সুপরিচিত নাম ছিলেন। এই খেলাগুলোতে অত্যন্ত বিপজ্জনক উচ্চতায় সরু লাইনের ওপর হেঁটে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আকাশছোঁয়া শারীরিক কসরত বা অ্যাক্রোবেটিক্স প্রদর্শন করতে হয়। লুইস ২০১২ সালের সুপার বোল হাফ-টাইম শোতে মডোনার সাথে পারফর্ম করার পর রাতারাতি বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। রোমান টোগা পোশাক পরিহিত লুইস সে সময় মাত্র এক ইঞ্চি চওড়া একটি লাইনের ওপর ট্র্যাম্পোলিনের মতো লাফিয়ে নানা কসরত দেখিয়েছিলেন, যার ঠিক পেছনেই গান গাইছিলেন মডোনা। এই ঘটনার পর জনপ্রিয় মার্কিন লেট-নাইট টক শো 'কোনান ও'ব্রায়েন'-এ অংশ নিয়ে লুইস রসিকতা করে বলেছিলেন যে, সেই সময়ে তার ফোনটি টানা তিন দিন ধরে অনবরত কল আসার কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউটাহ-কলোরাডো সীমান্তের কাছে অবস্থিত মিনারেল বটম নামক একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় বেস জাম্পিংয়ের সময় কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পেয়ে গত রবিবার জরুরি উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। তবে লুইস এবং তার সাথে থাকা অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। লুইস 'বেস জাম্প মোয়াব' নামের একটি নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা মূলত অনভিজ্ঞ গ্রাহকদের অভিজ্ঞ গাইডের সাথে যৌথ বা ট্যান্ডেম জাম্পের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দিত। তবে লুইস সব সময়ই এই খেলার সহজাত ও চরম বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং অকপট ছিলেন। গত বছর প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে পরিচালক এলা ওয়ার্নিকের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুইস বলেছিলেন, "এই খেলায় কত মানুষ যে মারা গেছে তা ভাবলে অদ্ভুত লাগে, কারণ এটি এখানে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।" লুইস ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রতিযোগিতামূলক স্ল্যাকলাইনিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ২০১১ সালে চীনের ডিয়াওশুইলৌ জলপ্রপাতের ওপর নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে সার্ফিংয়ের মতো পা দুলিয়ে স্ল্যাকলাইন সার্ফিং করার মাধ্যমে তিনি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও গড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে নেভাদা মরুভূমির ৪,০০০ ফুটেরও (১,২০০ মিটার) বেশি উঁচুতে আকাশে ভাসমান দুটি হট এয়ার বেলুনের মধ্যে টানানো একটি সরু লাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। তিনি হলেন অ্যারিজোনার ৬৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ড্যানি জো ক্রেগল। ক্রেগলের স্বজন সিডনি ল্যাভার্টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'মোয়াব টাইমস-ইন্ডিপেনডেন্ট'-এর কাছে পাঠানো এক ইমেইলে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ড্যানি ছিলেন দুই কন্যার একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং তার নাতনির কাছে এক গর্বিত নানা। প্যারাডাইস ভ্যালি এবং মেসা কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি বক্সিং এবং বিশ্বভ্রমণের প্রতি তার এক অনন্য আবেগ ও ভালোবাসা ছিল।