বাংলাদেশ

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:২
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে বেতন বিতরণে বিদ্যমান বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সময়মতো বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

এর জবাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমস্যাটি সমাধানে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে অনুমোদিত ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস)’ প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় ইএফটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে বেতন-ভাতা বিতরণে কাগজপত্রনির্ভর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হওয়ায় প্রায়ই বিলম্ব ও জটিলতা দেখা দিত।

পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে ইএফটি ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। গত ৯ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে, যা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ করেছে।

বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আটটি মাদ্রাসায়—প্রতি বিভাগে একটি করে—ইএফটি পদ্ধতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকায় বেতন বিতরণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ইএফটি ব্যবস্থা দেশব্যাপী চালু হলে মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতা পাবেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক বৈষম্যের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন অতীতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অর্থ ছাড়, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেতন প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই ইএফটি পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হলে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা সমাধানের পথে এগোবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি:সংগৃহীত
দিল্লি বিমানবন্দরকাণ্ডে ভারতের কাছে জবাব চাইল বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।   ঘটনার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্বে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়।   জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার নাম বিশেষ পর্যবেক্ষণ তালিকায় আসায় তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর অব্যাহত না রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।   ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতের কিছু বক্তব্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি, কথিত ‘পুশ-ইন’, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সীমান্ত-সংক্রান্ত কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও মাঝে-মধ্যে উদ্ভূত এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয় এবং দুই দেশ পরবর্তী সময়ে কী বার্তা দেয়, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:৩৭
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে ছয় বাংলাদেশি, ভারত থেকে পুশ-ইনের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
টিকটক করায় স্ত্রীকে হত্যা, আত্মহত্যা সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন স্বামী

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।   সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন লিমন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাদের সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান পরিচালনা এবং শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন।   তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।   ঘটনার পর লিমন প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যান বলে জানা গেছে। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়।   লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।   তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   গৃহবধূর এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২৩:২
ছবি: সংগ্রহীত

আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭ বাংলাদেশি জেলে, বোটসহ নিয়ে যাওয়া হলো মিয়ানমারে

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, গ্রেপ্তার নেই

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, বদল এলো স্লট বুকিং প্রক্রিয়ায়

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দুবাইয়ের শপিং সেন্টার থেকে আটক বেনজির আহমেদ, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) -কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার সময় আটক হন। তবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেনজির আহমেদকে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।   জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ ১২ জুন তাকে আটক করে হেফাজতে নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।   নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেনজির আহমেদ সিঙ্গাপুর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি একাধিকবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কাতার ও সৌদি আরবে যাতায়াত করেন।   তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে স্পেনে যান এবং একই বছরের ১৩ মার্চ স্পেন থেকে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে আসেন। ওই দিন ভোর ৫টায় দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।   এছাড়া তার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসা রয়েছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।   বর্তমানে তাকে দুবাই পুলিশের উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।   সূত্র আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।   তবে এ বিষয়ে দুবাই পুলিশ বা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। একইভাবে বেনজির আহমেদ বা তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৩:৮
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে স্কুল ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ক্লাসের জন্য বিশাল সরকারি অনুদান ঘোষণা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষক বদলিতে দুর্নীতি রোধে বিকেন্দ্রীকরণ, নতুন কমিটি কাঠামো চালু

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরী

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরী গ্রেপ্তার দেখানো

0 Comments