সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দিল না ওয়াশিংটন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দেয়নি ওয়াশিংটন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই চুক্তির শর্তাবলি দেখতে চেয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের এমন গোপনীয়তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন।

 

এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং এর বিনিময়ে ইরান হরমোজ প্রণালি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে এবং দেশটির ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হবে। এই চুক্তির খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ইউরোপীয় নেতারা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ইরানও যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিয়েছে।

 

তবে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

 

সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, "বিবির (নেতানিয়াহু) সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তবে লেবাননের বিষয়ে তাকে এখন আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।" ট্রাম্প ইসরায়েলি বাহিনীর অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

 

কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। এমনকি এর আগে এক ফোনালাপে লেবাননে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু ইসরায়েল এই আলোচনায় অংশ নেয়নি এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তাই তারা এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়।

 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এমন অনমনীয় অবস্থান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সদ্য অর্জিত শান্তি চুক্তিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো টিনে সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো একটি টিনে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। প্রায় ৫০ বছর ধরে টিনটির ভেতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। অবিশ্বাস্য এই সঞ্চয়ের কথা স্ত্রী নিজেও জানতেন না।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি শেড পরিষ্কার করার সময় ভারী টিনটি পাওয়া যায়। সেটি খুলে প্রথমে কিছু রুপার মুদ্রা দেখা গেলেও পরে নিচের দিকে খুঁজে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো আলাদা প্যাকেটে রাখা ছিল। সঙ্গে ছিল সেগুলো কেনার সময়ের কাগজপত্র এবং একটি পুরোনো পকেট মানি গাইড।   টিনটিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড এবং ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুদ্রাই ১৯৭৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন।   নিলামকারী ডেভিড লে জানান, ওই ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে প্রতিটি মুদ্রার জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কয়েক হাজার পাউন্ড খরচ করে তিনি সোনা কিনেছিলেন। এরপর মুদ্রাগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেগুলোর কথা কাউকে জানাননি।   নিলাম শেষে শুধু ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড থেকেই পাওয়া গেছে ১ লাখ পাউন্ড। আর ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে সোনার মুদ্রাগুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি।   নিলামকারী ডেভিড লে বলেন, মুদ্রাগুলো আবিষ্কারের বিষয়টি ছিল তাদের জন্যও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, স্বামী যখন সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেড়েছে। মুদ্রাগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় নিজ নিজ প্যাকেটের মধ্যেই পাওয়া গেছে।   ১৯৭০-এর দশকে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু মানুষ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ ঘরে রেখে দিতেন। তবে একটি সাধারণ বিস্কুটের টিনে এত বড় অঙ্কের সোনা প্রায় ৫০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।   বাড়ি ছোট করার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্ত্রী যখন পুরোনো জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে স্বামীর সেই গোপন বিনিয়োগ। কয়েক হাজার পাউন্ডের সেই সিদ্ধান্ত পাঁচ দশক পর পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১০:৫০
‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর বদলি হলেন বুশরা বানো। ছবি: সংগৃহীত

‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

ইরানি ব্লগার মারজিয়ে ‘সেভদা’ এব্রাহিমি শামসাবাদি

বিদায়ের বার্তা দিয়েছিলেন আগেই, ইরানি ব্লগারের মৃ ত্যু দ ণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধির হারানো ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩ লাখ রুপি

বিমান ছাড়তে ৩০ মিনিট, হারাল ৩ লাখ রুপি—৩৫ মিনিটে ব্যাগ উদ্ধার করে সুনাম কুড়াল দিল্লি পুলিশ

মদিনায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান, মিলেছে ইউরেনিয়াম
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক, বড় খনিজ সম্পদের সন্ধান

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাতে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।  মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সৌদি মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকরিকটিতে বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং ইউরেনিয়ামেরও আশাব্যঞ্জক ঘনত্ব রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, এমন নয়। ১১ কোটি টন হলো ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের আনুমানিক পরিমাণ। এই আকরিক থেকে ঠিক কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা যাবে বা তা বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  এই আবিষ্কার সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও খনিজ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সৌদি সরকার অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে।  এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানির অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।  চুক্তিটি ঘিরে অবশ্য পারমাণবিক বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ভবিষ্যতে সামরিক পারমাণবিক সক্ষমতার পথও সহজ করতে পারে। সৌদি আরব অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য বলে আসছে।  আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি ও একটি গবেষণা চুল্লি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সংস্থাটি এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীও বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাইরে বা গোপন কোনো স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে না।  ফলে জাবাল সায়িদের নতুন খনিজ সম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু ইউরেনিয়াম নয়, বিরল মৃত্তিকা খনিজের ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্ব তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, উৎপাদনের সময়সূচি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্পষ্ট হতে আরও গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।   সোর্স: রয়টার্স, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়/সৌদি প্রেস এজেন্সি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৩১
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর অ ন্যা য়ের অভিযোগ—আদালতে ষাটোর্ধ্ব স্বামীর দোষ স্বীকার

২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর নি র্যাতনের অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

তীব্র মাইগ্রেনের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত বলে ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হন বেকি জোন্স। ছবি: সংগৃহীত

১১ বছর কেমোথেরাপির পর জানলেন মস্তিষ্কে কখনো ক্যানসারই ছিল না

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধুই নিরামিষ আপ্যায়ন, ‘৮০% আমিষভোজী’ বলে মোদি সরকারকে রাহুলের খোঁচা

যুক্তরাজ্য থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একজোট হয়েছে তিন অঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের দাবিতে একজোট স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, আসছে নতুন ঘোষণা

যুক্তরাজ্য থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একজোট হয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক বৈঠকে তিন অঞ্চলের নেতারা যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত ছিলেন। তবে নেতারা বৈঠকে মূলত নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অংশ নেন, সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।   যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। ঘোষণায় যুক্তরাজ্য সরকারকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সাংবিধানিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলোর একটি।   স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৫৫ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি আবারও স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অবশ্য এখনই নতুন গণভোটের পক্ষে নন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, স্পষ্ট জনসমর্থন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোট আয়োজনের প্রশ্ন নেই।   নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলে ভবিষ্যতে সীমান্ত গণভোটের সুযোগ রয়েছে। সিন ফেইন মনে করে, এমন সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।   ওয়েলসের স্বাধীনতার প্রশ্নেও প্লেইড কামরু সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ স্বাধীনতার গণভোটের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি। তিন অঞ্চলের নেতারা স্বাধীনতার প্রশ্নের পাশাপাশি অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।   কার্ডিফের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।   কার্ডিফের এই বৈঠক যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো একই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিয়ে যৌথ অবস্থান নেওয়ায় ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১১:৩০
চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হেগাং শহরের একটি হাসপাতালে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক স্বামী। ছবি: সংগৃহীত

গর্ভবতী স্ত্রীকে বসাতে মেঝেতেই ‘চেয়ার’ হলেন স্বামী, ভাইরাল সেই মানবিক মুহূর্ত

ভারতের মধ্যপ্রদেশে গরুকে লাথি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে অপমানের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রকাশ্যে গরুকে সিজদা দিতে মুসলিম বৃদ্ধকে বাধ্য করল হিন্দু চরমপন্থীরা

ইস রায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতীকী চিত্র

ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, ১৯ জনের বিরুদ্ধে নেই কোনো অ ভি যোগ

0 Comments