ইতালিতে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাংলাদেশির ১৪ বছরের কারাদণ্ড
ইতালির আগ্রিজেন্তো শহরে পাঁচ স্বদেশি যুবককে যৌন নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়ে ৩৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। প্রাথমিক শুনানিতে বিচারক মিশেল ডুবিনি এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন। সরকারি কৌঁসুলি এলেত্রা কনসোলি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় অপরাধীর ১২ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ভয়াবহতা ও মাত্রা বিবেচনায় আদালত শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ১৪ বছর নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পরিবারহীন ও অসহায় অবস্থায় ইতালিতে পাড়ি জমানো প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকদের চরম দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাদের নিজের বাসায় বা আশপাশে আশ্রয় দেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ডেকে নিয়ে সহিংসতা, প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়ন চালান।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী পাঁচ যুবকের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এমনকি নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে এক ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়েছিলেন বলেও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে।
অপরাধ আড়াল করতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের ওপর নিয়মিত মানসিক চাপ ও হুমকি প্রয়োগ করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পুলিশ এক ভুক্তভোগীকে তথ্যদাতা হিসেবে থানায় তলব করলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পুরো ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশের কাছে মুখ খুললে বা সাক্ষ্য দিলে তাকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালভাতোরে পেনিকা আদালতে দাবি করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তিনি খালাসের আবেদন জানানোর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে গুরুতর অভিযোগগুলো বিবেচনায় না নিয়ে আসামিকে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেন। তবে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকায় আদালত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশি বর্তমানে ইতালির কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে ভুয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত সেসব বিদেশি শ্রমিককে লক্ষ্য করত, যারা বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় একই রেখে ভুয়া নথি তৈরি করা হতো। এরপর সুস্থ ব্যক্তিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অভিযানে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জব্দ করা উপকরণের পরিমাণ দেখে চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না; ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এর কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাল নথি তৈরিতে জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের
মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ করেই আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল মনে। সেই টানে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়েছিলেন পবিত্র মক্কায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাবার সামনে পৌঁছাতেই ঘটল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে 'আল্লাহু আকবার' ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে পবিত্র মসজিদুল হারামে এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে। ‘বাও’ নামে পরিচিত আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে তিনি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট জমা দেন। এরপর গত ১১ আগস্ট ছেলে আরসালানকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। জেদ্দা থেকে মক্কার পথে তিনি বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত কাবার সামনে যাওয়ার জন্য চালককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। ছেলেকে তিনি বারবার বলছিলেন যে তার শরীর পুরোপুরি সুস্থ, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘরটি তিনি একবার দেখতে চান। বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি তাকে দমাতে পারেনি। বিশ্রাম না নিয়েই ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি সরাসরি হারাম শরিফে ছুটে যান। আরসালান জানান, কাবার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তার বাবার মাঝে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল; শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল আর তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে জিকির করতে করতেই একপর্যায়ে তিনি সেখানে বসে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসকরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ততক্ষণে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ওমরাহ শেষে আর দেশে ফেরা হলো না আবদুল লতিফের। তবে জীবনের শেষ ও সবচেয়ে লালিত স্বপ্ন—আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখা—পূরণ করেই যেন পরম শান্তিতে এই পৃথিবীর সফর শেষ করলেন তিনি।
টনসিলাইটিস ভেবে চিকিৎসা, ১১ বছরের শিশুর ধরা পড়ল স্টেজ-৪ ক্যানসার
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
বারবার মাথা তুলে মাকে খুঁজা সেই চার মাসের ভাইরাল শিশুর ঠাঁই হলো নানাবাড়িতে
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ২৬টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে খালি করে দেওয়া গানিম ও কাদিম ইসরায়েলি বসতি এলাকায় আবার বসতি স্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। বুধবার শুরু হওয়া অভিযানের বিষয়ে স্মোট্রিচ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেনিনের গানিম ও কাদিম এলাকায় ২৬টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সেখানে পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পথ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ভবন রয়েছে। জেনিনের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এসব স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে। গানিম ও কাদিমের ইতিহাস এই পদক্ষেপকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের ডিসএনগেজমেন্ট পরিকল্পনার আওতায় গাজা উপত্যকার সব ইসরায়েলি বসতির পাশাপাশি উত্তর পশ্চিম তীরের চারটি বসতি খালি করা হয়েছিল। সেগুলো ছিল গানিম, কাদিম, হোমেশ ও সা নুর। দুই দশক পর সেই সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে পাল্টাতে শুরু করে ইসরায়েল। ২০২৩ সালে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট ২০০৫ সালের ডিসএনগেজমেন্ট আইনের কিছু বিধিনিষেধ বাতিল করে। এর ফলে উত্তর পশ্চিম তীরের আগে খালি করা বসতিগুলোতে ইসরায়েলিদের ফিরে যাওয়ার আইনি বাধার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গানিম ও কাদিম পুনঃপ্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। একই সময় পশ্চিম তীরে নতুন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত একাধিক বসতি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে উত্তর পশ্চিম তীরে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। গানিম ও কাদিমের আশপাশের ফিলিস্তিনি স্থাপনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা বাড়ছিল। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, গত ১৯ জুলাই কাদিমের কাছাকাছি পূর্ব জেনিনে কয়েকটি ফিলিস্তিনি ভবন ও সম্পত্তির বিরুদ্ধে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ভেঙে ফেলার নোটিশ দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বুধবারের অভিযান সেই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে। স্মোট্রিচের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্দেশ্য কেবল স্থাপনা অপসারণ নয়, বরং গানিম ও কাদিম এলাকায় ইসরায়েলি বসতি পুনরায় চালু করার জন্য জায়গা প্রস্তুত করা। একদিন পর বৃহস্পতিবার গানিম এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ফিরে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে এলাকা ছাড়ার প্রায় ২১ বছর পর সেখানে আবার বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের অধীনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। স্মোট্রিচ নিজেও বসতি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান সমর্থক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন এবং আগে সরিয়ে নেওয়া কয়েকটি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে থাকে। গানিম ও কাদিমে পুনরায় বসতি স্থাপনের উদ্যোগের ফলে উত্তর পশ্চিম তীরের জেনিনে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভেঙে সরাসরি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির কথা ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রকাশ্যে জানানোর পর বিষয়টি পশ্চিম তীরে চলমান বসতি সম্প্রসারণের নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
রোমে ইহুদি পর্যটককে ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে, দুই দিনে দুবার লাথি হামলার দাবি
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা রাখার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি