আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার।
খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি।
যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
জাপানের নাগোয়া শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন থেকে এক যুবক নিচে পড়ে এক নারী পথচারীর ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ওপর থেকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে ওই যুবক ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—উভয় দিক থেকেই তদন্ত চলছে। জাপানি গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে নাগোয়া শহরের সাকায়ে এলাকার ইয়াবাচো স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণী হৌরা ইনাবা (২৩) এক বন্ধুর সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় শিনসেই তাগুচি (২৯) নামের এক ব্যক্তি ১২ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়েন। ঘটনার পর ইনাবার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, একজন ব্যক্তি ওপর থেকে পড়ে তাঁর বন্ধুকে গুরুতর আহত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত শকে (হেমোরেজিক শক) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনাবার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাগুচি এখনো অচেতন এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইচি প্রিফেকচার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাগুচি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তিনি ভবনের ঠিক কোন তলা থেকে পড়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি নাগোয়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন, দোকানপাট এবং বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। গভীর রাত হলেও এলাকায় পথচারীদের চলাচল ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জাপানে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইয়োকোহামায় একটি ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিচে থাকা এক নারী পথচারীর ওপর পড়লে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২০ সালে ওসাকায়ও বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরের সঙ্গে নিচে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার, ২০ জুলাই, কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন রাজা চার্লস। মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেওয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেওয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে। বড় আকারের ছাদের জানালা দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয়। প্রয়োজনের সময় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এলইডি বাতি জ্বালানো হয়। হাতমুখ ধোয়ার ব্যবহৃত পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শৌচাগার ও মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে ব্যবহার করা হয়। সাইকেল রাখার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংও ভবনটির পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অংশ। প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামি নকশার বাগান রয়েছে। পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু সমর্থক আহত হওয়ার পরও সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন। তবে আপাতত রাজপথে নতুন কোনো মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ফের মিছিল হলে পুলিশ আবারও বলপ্রয়োগ করতে পারে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে মিছিল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না। সংগঠনটির ভাষ্য, আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না। বরং বিকল্প উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অনেক তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মসূচি দিলে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার দিল্লির মধ্যাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। তবে হতাহত ও আহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় প্রায় ৫০০ আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমরা আপাতত আর কোনো মিছিল করব না। কারণ আমরা চাই না আবারও তরুণদের ওপর হামলা হোক।” একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সমর্থকদের, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন সময়ের সঙ্গে বড় আকারের সরকারবিরোধী যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আন্দোলনটি নতুন গতি পায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়ম নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির প্রতিফলন। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী নেতা সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করাই উচিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাকরির সংকট, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সরকারের জন্য ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: রয়টার্স