ইউরোপের দেশগুলোতে জুনের শেষভাগে আঘাত হানা রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজারেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের শরীরে হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এর পাশাপাশি এটি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা শারীরিক সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে, যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। ডেনমার্কের স্টেটেনস সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড জানান, বছরের এই সময়ে এমন অতিরিক্ত মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া মৃত্যুর এই অস্বাভাবিক হারের অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই জুনের শেষের দিকে এই রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে গরম যখন চরম আকার ধারণ করেছিল, সেই সাত দিনের তথ্যের ভিত্তিতেই এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। অথচ এর আগের আট সপ্তাহে এই দেশগুলোর সম্মিলিত মৃত্যুহার স্বাভাবিকের চেয়েও কম ছিল।
ইউরোমমো আলাদাভাবে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে যে, জুনের শেষ সপ্তাহে ইউরোপের মধ্যে কেবল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামেই সবচেয়ে বেশি ‘অত্যধিক মৃত্যুহার’ রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউকে মেট অফিসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরই প্রধান কারণ ছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়া ও তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের সাবেক কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন আঁতাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের জেরে তাকে বর্তমানে গৃহবন্দি করে রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে আহমেদিনেজাদকে কেন্দ্র করে ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা পতনের লক্ষ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক ভয়ংকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে এনেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে আহমেদিনেজাদকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়েছে ইসরায়েল। এমনকি বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে তাকে ইরানপন্থি সংস্কারক নেতা হিসেবে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনাও ছিল মোসাদের। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালে আহমেদিনেজাদের হাঙ্গেরি সফর ছিল মূলত মোসাদ প্রধানসহ ইসরায়েলি এজেন্টদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের একটি ছদ্মবরণ। এই সফরগুলোর আবাসন ও ভ্রমণ খরচের অর্থও গোপনে ইসরায়েল পরিশোধ করেছিল। দুই হাজার পাঁচ থেকে দুই হাজার তেরো সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন আহমেদিনেজাদ ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিলেও, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহযোগী জানান, তিনবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং বিদেশি শক্তির সহায়তায় পুনরায় ক্ষমতায় আসার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। তিনি নিজেকে রাশিয়ার বরিস ইয়েলৎসিনের মতো একজন সংস্কারক ভাবতেন এবং বলতেন যে তিনি ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তেহরানে কঠোর নজরদারিতে থাকা আহমেদিনেজাদকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মোসাদ একটি দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান চালায়। আটাশ ফেব্রুয়ারি তার বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে মোসাদের এজেন্টরা একটি কালো পিউজো গাড়িতে করে তাকে উদ্ধার করে ইরানের ভেতরের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। তবে এই হুলস্থুল উদ্ধার অভিযান এবং ইসরায়েলের সহায়তায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে পরবর্তীতে আহমেদিনেজাদের মোহভঙ্গ ঘটে এবং তিনি সেই নিরাপদ আশ্রয় ত্যাগ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তাকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দেখা যায়। এদিকে ইরানি বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা তদন্তের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে তার এই যোগাযোগের সমস্ত সূত্র উদঘাটন করার পর তাকে বর্তমানে গৃহবন্দি করে রেখেছে।
ইউরোপের দেশগুলোতে জুনের শেষভাগে আঘাত হানা রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজারেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের শরীরে হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এর পাশাপাশি এটি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা শারীরিক সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে, যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। ডেনমার্কের স্টেটেনস সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড জানান, বছরের এই সময়ে এমন অতিরিক্ত মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া মৃত্যুর এই অস্বাভাবিক হারের অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই জুনের শেষের দিকে এই রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে গরম যখন চরম আকার ধারণ করেছিল, সেই সাত দিনের তথ্যের ভিত্তিতেই এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। অথচ এর আগের আট সপ্তাহে এই দেশগুলোর সম্মিলিত মৃত্যুহার স্বাভাবিকের চেয়েও কম ছিল। ইউরোমমো আলাদাভাবে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে যে, জুনের শেষ সপ্তাহে ইউরোপের মধ্যে কেবল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামেই সবচেয়ে বেশি ‘অত্যধিক মৃত্যুহার’ রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউকে মেট অফিসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরই প্রধান কারণ ছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়া ও তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংবাদ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি অবিচল সংহতি প্রকাশ করছে। পৃথক এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে তিনি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী, জরুরি সেবা সংস্থা, চিকিৎসাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাফল্য কামনা করেন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও শোক ও সংহতি প্রকাশ করছে। পাকিস্তানের এই বার্তা দুই দেশের জনগণের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা এবং দুর্যোগের সময় পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।