সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার হামলায় ওডেসা বন্দরে বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে নিহত ৩, আহত ৫

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১০:০
ওডেসা অঞ্চলে টোগোর পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলা; হতাহত ৮ জন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
ওডেসা অঞ্চলে টোগোর পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলা; হতাহত ৮ জন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে অবস্থান করছিল এবং এতে খনিজ সার বহন করা হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহত নাবিকদের জাতীয়তা এবং হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানির জন্য এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা এবং কৃষ্ণসাগর হয়ে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

রাশিয়া এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে লন্ডন
সিরিয়াকে নিরাপদ ঘোষণা করে শরণার্থী মর্যাদা বাতিল যুক্তরাজ্যের, ফেরত পাঠানোর শঙ্কা

সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে লন্ডনে বসবাসরত এক সিরীয় চিকিৎসকের শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এতে স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ তাঁর ব্রিটেনে থাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক এখন দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন। তবে তাঁকে ইতোমধ্যে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে, এমন তথ্য নেই।   সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে নির্যাতনের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে ২০১৬ সালে ব্রিটেনে আসেন ওই চিকিৎসক। সিরিয়ায় তিনি প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটেনে চিকিৎসা পেশায় কাজের জন্য নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিয়ে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের নিবন্ধন পেয়েছেন। বর্তমানে একটি জিপি ক্লিনিকে কর্মরত তিনি। তাঁর তিন সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর পরিবার হতবাক। নিরাপদ জীবন গড়ার আশায় পরিবারকে ব্রিটেনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সিরিয়ায় যেসব উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তাঁকে আগে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেগুলো এখনও সক্রিয়। দেশে ফিরলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করছেন তিনি। বর্তমান সিরীয় সরকার এসব গোষ্ঠীর হাত থেকে তাঁদের সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে তাঁর।   গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি জটিল থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে, ওই চিকিৎসকের নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা আর যথেষ্ট ভিত্তিসম্পন্ন নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শরণার্থী মর্যাদার অবসান ঘটানোর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিজেশন’। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অবস্থান ভিন্ন। সংস্থাটির ২০২৬ সালের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশনায় সিরীয় শরণার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভিত্তিতে শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বেচ্ছায়, পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।    ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ নির্দেশনাতেও সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল বলা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অনিশ্চিত সংঘর্ষ ও সহিংসতা, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঝুঁকির পাশাপাশি অবকাঠামো, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে।  পরিবারটির আইনজীবী মানিনি মেনন সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে সিরীয় শরণার্থী ও তাঁদের পরিবারকে এভাবে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ উদ্বেগজনক। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পর্যায়ে স্থিতিশীল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ব্রিটেনে নতুন জীবন গড়ে তোলা পরিবারগুলোর ওপর এমন সিদ্ধান্তের গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন মেনন।   অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রকৃত শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং কাউকে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফিরে যেতে হবে। সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১:৩৪
বুদাপেস্টের ইনার সিটি প্যারিশ চার্চে অটোমান আমলের একটি মিহরাব

হাঙ্গেরির গির্জার দেয়ালে আল্লাহর নাম! অটোমান আমলের ইতিহাস ঘিরে কৌতূহল

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্য

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্যের ৫০ মাসের কারাদণ্ড, চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ

সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় এ হামলার শিকার হন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।    ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। মুফতি নাসরুল্লাহ বাদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর।   তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ৪৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের।    কিন্তু রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় অপেক্ষা করার সময়ই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলাটি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের একটি অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।    পরিবারের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর নাসরুল্লাহ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফোনে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর রোববার তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।   নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এ ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মোহাম্মদ শহীদ আহমেদ। তিনি সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী ও প্রবাসী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   হামলার পর রিয়াদে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ শুরু করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।    সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে হামলার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনা সৌদি আরবে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক যাত্রী, বিশেষ করে ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:৮
গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত

নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার

লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল

পরিবারে তৃতীয় ক্যানসারের আঘাত, লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল

যুবরাজকে গোপন প্রাসাদে স্থানান্তরের গুঞ্জন নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

হামলা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।    যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।    তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।    স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।    নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:৩০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করেছেন ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর

রামপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তরুণের বিরুদ্ধে হ ত্যার অভিযোগ

৪৯ বছর বয়সী মায়ের ২৫ বছরের স্বামীকে হ ত্যার অভিযোগ, নিউজিল্যান্ডফেরত ছেলে গ্রে প্তার

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

0 Comments