আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার হামলায় ওডেসা বন্দরে বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে নিহত ৩, আহত ৫

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১০:০
ওডেসা অঞ্চলে টোগোর পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলা; হতাহত ৮ জন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
ওডেসা অঞ্চলে টোগোর পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলা; হতাহত ৮ জন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে অবস্থান করছিল এবং এতে খনিজ সার বহন করা হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহত নাবিকদের জাতীয়তা এবং হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানির জন্য এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা এবং কৃষ্ণসাগর হয়ে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

রাশিয়া এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
খেলার আসল আত্মা ধ্বংস করে ফুটবলকে সম্পূর্ণ করপোরেট ব্যবসায় রূপান্তরের প্রতিবাদে জুরিখে ফিফাবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
ফিফার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সুইজারল্যান্ডের সমর্থকেরা, দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রায় শেষের দিকে আসার মুহূর্তে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডে এক বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে লক্ষ্য করে দেশটির জুরিখ শহরের রাস্তায় হাজার হাজার ফুটবল সমর্থক এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। বৈশ্বিক ফুটবলের নানা পদ্ধতিগত ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় তারা এই আন্দোলনের ডাক দেন।   বিক্ষোভকারীরা ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত ম্যাচ সংবলিত ক্লান্তিকর ক্যালেন্ডার এবং খেলাটির লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ফুটবলের আসল আত্মাকে ধ্বংস করে একে সম্পূর্ণ করপোরেট ব্যবসায় পরিণত করা হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বকাপের কিছু সাম্প্রতিক বিতর্ক এই বিক্ষোভের আগুনে যেন আরও বেশি ঘি ঢেলে দিয়েছে।   চলতি টুর্নামেন্টে ফুলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের পক্ষে বিশ্বকাপ পাতানো হচ্ছে বলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক গুজব ফুটবলপ্রেমীদের এই ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। এসব কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে নিজেদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে সমর্থকরা জুরিখের রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।   বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’, ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফান্তিনো দূর হটো’ এবং ‘ফুটবল সমর্থকদের সম্পদ’ এর মতো নানা ধরনের স্লোগান দেখা গেছে। বর্তমানে সাধারণ ফুটবল সমর্থক এবং ফুটবল পরিচালনা কর্মকর্তাদের মধ্যকার দূরত্ব ও বৈরিতা এক বিশাল রূপ নিয়েছে। এর আগে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ চালুর বিতর্কিত চেষ্টার সময় ফুটবলে শেষবার এই ধরনের বড় আকারের বিদ্রোহ দেখা গিয়েছিল।   ফুটবল বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে ফিফা যদি গ্যালারির সাধারণ মানুষের মনের কথা ও দাবি শুনতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব ফুটবল খুব শীঘ্রই আরও বড় আকারের গণবিক্ষোভ এবং সমন্বিত বয়কটের মুখোমুখি হতে বাধ্য হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১১:৩২
অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক শত শত বিদেশি শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়াজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৯০ জন বাংলাদেশি

তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজারেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি; বয়স্কদের নিয়ে চিকিৎসকদের গভীর উদ্বেগ। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপে ৭ দিনে ১০ হাজারের ও বেশি মৃত্যু

আশ্রয় বাতিল হলেও জর্ডানের নাগরিক আহমদ আল-সাকারকে ডিপোর্ট না করায় আয়ারল্যান্ডে অভিবাসন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডে নিউইয়র্কের এক নারীকে হত্যা, পলাতক জর্ডানিয়ান প্রেমিক

ওডেসা অঞ্চলে টোগোর পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলা; হতাহত ৮ জন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হামলায় ওডেসা বন্দরে বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে নিহত ৩, আহত ৫

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এ তথ্য জানিয়েছেন।   ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে অবস্থান করছিল এবং এতে খনিজ সার বহন করা হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহত নাবিকদের জাতীয়তা এবং হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানির জন্য এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা এবং কৃষ্ণসাগর হয়ে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   রাশিয়া এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১০:০
অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত গ্রাফিক্স ছবি: সংগৃহীত

৭০ ডলারের রিফান্ডের বদলে ৭.২ মিলিয়ন, ভুলে পাঠানো অর্থ ফেরাতে আদালতের নির্দেশ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ছবি:সংগৃহীত

বন্যা-ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক, বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান

বিষাক্ত সাপের ছবি : সংগৃহীত

এভারেস্ট অঞ্চলে বাড়ছে বিষধর সাপের দেখা, অ্যান্টিভেনম সংকটে হাসপাতাল, উদ্বেগে পর্বতারোহীরা

ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ড ধোঁয়ার ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৭, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ গেল বহু মানুষের

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় লাইভ মিউজিক বার ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৭৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার গভীর রাতে লাট ফ্রাও এলাকার ‘রং বিয়ার না লাট ফ্রাও’ নামের বিনোদনকেন্দ্রে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।   থাই জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগুনের সময় ভবনের ভেতরে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন। আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় আতঙ্কিত হয়ে অনেকে প্রধান ফটকের পরিবর্তে ভবনের পেছনের শৌচাগারের দিকে আশ্রয় নেন। পরে দমকলকর্মীরা সেখানে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার আগে মঞ্চের পাশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।   দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেকের শরীরে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।   থাই সরকার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং জরুরি নির্গমনপথ কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বারটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এই দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডজুড়ে বার, নাইটক্লাব ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনঃপর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ৬:২৪
কানাডায় ভয়াবহ দাবানল ছবি : সংগৃহীত

মিনেসোটায় ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে আবারও বোমাবর্ষণ, বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

কাতারের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি, দাফন সম্পন্ন শেখ হামাদের

0 Comments