ইরানের নজিরবিহীন হামলার হুমকির মুখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত' (এইউবি) তাদের সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৯ মার্চ) এক জরুরি বার্তায় জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার সব ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকবেন। এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা হামলার শিকার হবে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাদলো খৌরি এক বিবৃতিতে জানান, যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা থাকলেও বৈরুতের এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল আরাবিয়া
ওমান উপকূলে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে কিছুটা দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথে এই অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলা ওমানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। ইরান সর্বদাই প্রতিবেশী দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে হামলায় মার্কিন জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা অভিযানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ওমান সংলগ্ন এই জলসীমা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির সাথে যুক্ত। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
ফ্রান্সে জি–সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান “কয়েক মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের” মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি সামরিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করলেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং দ্রুত তা অর্জনের জন্য তারা প্রস্তুত। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, ইরান শুধু রাশিয়ার মিত্র নয়, বরং কৌশলগত অংশীদার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে। ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক কপটতারও অভিযোগ করেন এবং বলেন, ইরানকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের মাধ্যমে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলো দ্রুত খালি করুন। আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন সেনাদের যেকোনো অবস্থানেই হামলা চালানো তাদের পবিত্র দায়িত্ব। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১.০৬ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত রেখেছেন, তবুও তেলের দাম কমেনি। সৌদি আরবের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আইআরজিসি সম্পাদিত বলে দাবি করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে সেনা সংকট গভীর হচ্ছে এবং সাধারণ অভিযানও পরিচালনা করতে অসুবিধা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে থাকা কিছু সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ইরান এবং লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,১১৬ জনে পৌঁছেছে। ইরানের কোম শহরে এক আবাসিক এলাকায় হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে মার্কিন-সহ মিত্র দেশগুলোর জাহাজ প্রভাবিত হয়। এছাড়া ইরানের দাবি অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলার সতর্কতা জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলেছে। পাশাপাশি এসব স্থাপনার এক কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রতিক্রিয়া এবার আগের মতো সীমিত থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানাগুলোর কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করা উচিত, কারণ যেকোনো সময় পাল্টা হামলা শুরু হতে পারে। তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, আরদাকান শহরের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরও কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, ওই স্থাপনায় ‘ইয়েলোকেক’ উৎপাদন করা হতো, যা ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং পরবর্তীতে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র একটি সাম্প্রতিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা সরাসরি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসি-র তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রহিম নাদালি জানান, ‘ফর ইরান’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের টহল দেওয়া, চেকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং লজিস্টিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। আইআরজিসি-র দাবি, অনেক কম বয়সী কিশোররা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের প্রবল দাবির মুখে এই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছরে আনা হয়েছে। তবে তেহরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুদের সামরিক কাজে ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও, ইরান সেই অঙ্গীকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো বলছে, শিশুদের এমন বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। অতীতেও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে শিশুদের ব্যবহার এবং তাদের ওপর নির্যাতনের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ইরানে কয়েক মিলিয়ন শিশু শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে, তার ওপর এই নতুন সামরিক ডিক্রি শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলার এক চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবিসি ফার্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল ইরানি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে মার্কিন এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটিকে চাবাহারের আকাশে উড়তে দেখা যায়। বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং বিভাগ ভিডিওগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে অন্তত একটি ভিডিও চাবাহার বন্দর এলাকার টিস সেতুর কাছে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উড়ন্ত এফ-১৮ বিমানটিকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে বিমানটির লেজের অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এক পাল্টা বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই অঞ্চলে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি। আকাশসীমার এই সংঘাতের খবরটি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। তেহরান এখন পর্যন্ত এই খবরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত না করলেও, এই দাবি সত্য হলে তা ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে। কমান্ডার তাংসিরি কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তাই নন, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রধান কারিগর ছিলেন। গত কয়েক দিনে তিনি এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছিল। একের পর এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হারিয়ে ইরান বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাংসিরির মতো ব্যক্তিত্বের প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং একের পর এক শীর্ষ কমান্ডারের বিদায়—তাত্ত্বিকভাবে যেকোনো দেশের শাসনব্যবস্থা ধসে পড়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানের প্রশাসনিক কাঠামো এখনো অবিশ্বাস্যভাবে টিকে আছে। কেন পতন ঘটছে না তেহরানের? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির বিশেষ 'সমান্তরাল রাষ্ট্র' কাঠামো। আইআরজিসি: পতন ঠেকানোর মূল শক্তি ইরানের মূল শক্তি কেবল তাদের প্রথাগত সেনাবাহিনী নয়, বরং 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর' বা আইআরজিসি। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সমান্তরাল রাষ্ট্র কাঠামো। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হলেও তাদের চেইন অফ কমান্ডে কোনো ছেদ পড়েনি। সংস্থাটির নীতিই হলো—একজন নিহত হলে তাৎক্ষণিকভাবে শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পরবর্তী নেতৃত্ব সর্বদা প্রস্তুত থাকে। বাসিজ মিলিশিয়া ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আইআরজিসির অধীনে থাকা প্রায় ১০ লাখ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী 'বাসিজ' এখনো রাজপথে সক্রিয়। ইসরায়েলি বাহিনী বাসিজ চেকপোস্টগুলোতে হামলা চালালেও, তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে তাদের টহল কমেনি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ দমনে এই বাহিনী কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। ৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রশাসন। রহস্যময় নতুন নেতৃত্ব ও রণকৌশল নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে তার নামে নিয়মিত লিখিত বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের কমান্ড কাঠামো পঙ্গু হওয়ার দাবি করলেও, বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রমাণ করে যে, শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর পরও তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি।
ইরানের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তার হাল ধরলেন অভিজ্ঞ রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজনির মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান মেহেদি তাবাতাবায়ি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর চার দশক ধরে ইরানের সামরিক, বিচার বিভাগ এবং বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে কুর্দি গোষ্ঠীসহ আন্তঃসীমান্ত আধাসামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। পরবর্তীতে তিনি আইআরজিসি-র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জোলঘাদরের নিয়োগকে ইরানের হার্ডলাইন বা কট্টরপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কেবল সামরিক কৌশলবিদই নন, বরং দেশটির নীতি-নির্ধারক সংস্থা 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বাসিজ এবং আনসার-ই-হিজবুল্লাহর মতো আধাসামরিক বাহিনীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বিরোধী দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলী লারিজনির হত্যাকাণ্ডের পর জোলঘাদরের মতো একজন 'ব্যাটল-টেস্টেড' কমান্ডারকে বেছে নিয়ে ইরান বিশ্বকে তার কঠোর নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের বার্তাই দিল।
পারস্য উপসাগর উপকূলীয় আকাশসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী ড্রোনটি শনাক্ত করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বিমান প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি মানববিহীন আক্রমণ ব্যবস্থা শনাক্ত করা হয়। পরে সেটিকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়টি শত্রু যুদ্ধবিমান এবং ১২৭টি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রেস টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘প্রতারক মার্কিন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলেছে, ট্রাম্পের ‘পরস্পরবিরোধী আচরণ’ ইরানকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না এবং তারা চলমান সংঘাত থেকে দৃষ্টি সরাবে না। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বক্তব্য ও পদক্ষেপে অসঙ্গতি রয়েছে, যা ইরানের অবস্থান পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে তেহরান এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যই দেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী বক্তব্য চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের আল-খারজ অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র 'খাতাম আল-আনবিয়া' সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চলমান 'ট্রু প্রমিজ ৪' (True Promise 4) অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকেই এই অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইরানি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, উন্নত মানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কিছু অসমর্থিত সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজে ঘাঁটির ভেতরে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই বহুমুখী ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতির ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) খতমুল-আনবিয়াহ সদর দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যারা দেশের তেল, জ্বালানি ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তাদের এই অবকাঠামোগুলো “শীঘ্রই আগুনে পুড়িয়ে ছাই করা হবে।” মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি ও শক্তি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো অপরাধীদের জন্য একটি দৃঢ় এবং স্পষ্ট সতর্কবার্তা।” মুখপাত্র আরও বলেছেন, “আমরা ভয়ঙ্কর ও আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী এবং নিষ্ঠুর ও শিশু হত্যাকারী ইসরাইলি শাসকদলের কাছে ঘোষণা করছি, আপনারা আপনার সৈন্যদের জলরাশিতে ফেলে দিতে বাধ্য হবেন এবং সম্মান হারাতে হবে।”
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোলাইমানি আমেরিকান ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে একই বিবৃতিতে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ দাবি করেছিলেন, পৃথক হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে সোলাইমানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলেও আলী লারিজানির অবস্থান সম্পর্কে এখনও কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালি করে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিল্পকারখানায় আমেরিকানদের অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষকেও দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে তাসনিম নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। তালিকায় রয়েছে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়া-এর অফিস। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, রোববার পরিচালিত এই হামলায় প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ এবং এটি প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৫৪তম ধাপ। অভিযানে ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সেনাবাহিনীর সমাবেশস্থলগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, সিজ্জিল একটি কঠিন জ্বালানিচালিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং অল্প সময়ের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া হামলায় ইরান তাদের ভাণ্ডারের আরও কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খোররামশহর, খায়বার-শেকান, কদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসি বলছে, এই সম্মিলিত হামলার ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। এবার সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার কঠোর শপথ নিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে আসা এমন সরাসরি হুমকিতে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে তারা তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, "এই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী যদি জীবিত থাকে, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।" বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে ইরানের এই হুঁশিয়ারি যুদ্ধের সংজ্ঞাকে আরও জটিল করে তুলবে। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, গাজা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেওয়া এই ‘প্রতিশোধের শপথ’ আদতে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস বাহিনী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ৩০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি এই অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিক্ষিপ্ত প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এক থেকে দুই টন ওজনের ছিল এবং সেগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। জেনারেল মুসাভি দাবি করেছেন, এই বিশেষ অভিযানের ফলে দখলদার ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এয়ারোস্পেস ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আক্রমণটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি শাসনের আকাশের আরও বিশাল একটি অংশ এখন ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর আওতায় চলে এসেছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির নৌবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা সামরিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর কয়েক দফায় এই হামলা চালানো হয়। মূলত ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে ইরানি নৌবাহিনী। অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি জানান, এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার বিশাল ট্যাংকগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই সরাসরি সামরিক অভিযান ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।