আইআরজিসি

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’, কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার বিপরীতে 'চূর্ণবিচূর্ণ' জবাব দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর নতুন এক কড়া বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির এই নতুন হুমকির বিষয়টি উঠে এসেছে।   বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী এক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের নিরঙ্কুশ দায়িত্ব তেহরানের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। বাহিনীটি কঠোর ভাষায় জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালিতে নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন—বিশেষ করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার মতো ঘটনা ঘটলে—তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এর জন্য চরম ও চূর্ণবিচূর্ণ জবাব দেওয়া হবে।   আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, এ ধরনের হামলা বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলমান সব প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও তেহরান প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে এর জবাব হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের বিপরীতে ইরানের এমন কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নরকে পরিণত করার ঘোষণা আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার চরম প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নরকে পরিণত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইতিমধ্যে তেহরানের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন হামলা হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু করা আগ্রাসনের 'চূড়ান্ত জবাব'।   সাম্প্রতিক এই সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চরমে পৌঁছেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসির নৌ কমান্ড থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, সিরিক শহরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রণালিটিতে আধিপত্য বিস্তারের যে 'রহস্য', তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অধরাই থেকে যাবে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে এই অঞ্চলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।   বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সরাসরি ও ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর হিসাব সম্পূর্ণ আলাদাভাবে নেওয়া হবে এবং আগামী দিনগুলোতে এসব ঘাঁটিকে চরম নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসী পদক্ষেপের বিপরীতে ইরানের এই বহুমুখী ও জোরালো প্রতিক্রিয়া গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতের অশনিসংকেত দিচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা আইআরজিসির, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।   আইআরজিসির দাবি, অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সিরিক শহর, কেশম দ্বীপ এবং কয়েকটি উপকূলীয় সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। সেই হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ তদারকি নিয়ে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং এখন পর্যন্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরই পাল্টা আঘাত ইরানের, আইআরজিসির নিশানায় মার্কিন বাহিনী

ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার কড়া জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং আইআরএনএ-তে প্রকাশিত আইআরজিসির মিডিয়া অফিসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বা বিস্তারিত আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।   ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বরাবরের মতোই নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে।   আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে একটি সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে হরমোজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা চুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে, যার ফলশ্রুতিতে ইরান প্রয়োজনীয় জবাব দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।   প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো।   তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে।   রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।   ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।   রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।   তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।   রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।   শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।   গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত।   শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।   ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।   শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ইচ্ছাকৃত নয়’, বললেন ট্রাম্প

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ঘটায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভুল হয়ে থাকে।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কাজ করেনি। যুদ্ধে ভুল হয়েই থাকে। যুদ্ধ খুবই নিষ্ঠুর। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মিনাবের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।   এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। তদন্তের পরিধি ইতোমধ্যে বাড়িয়েছে পেন্টাগন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ বা স্বীকার করেনি।   হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন।   গত মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতরে অবস্থিত। তবে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বিদ্যালয়টির সংরক্ষিত ওয়েবসাইট তথ্য অনুযায়ী, এটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনার পাশেই অবস্থিত ছিল। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
রোববারেই ইরান চুক্তি স্বাক্ষর—ট্রাম্পের দাবি; ‘চূড়ান্ত নয়’ বলে নাকচ আইআরজিসি
রোববারেই ইরান চুক্তি স্বাক্ষর—ট্রাম্পের দাবি; ‘চূড়ান্ত নয়’ বলে নাকচ আইআরজিসি

ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যারা বলছে—চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়, ফলে ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই।   শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত।” তার মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে, তেহরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে।   মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কার্যকর করার আগে আরও অন্তত ৬০ দিনের আলোচনা প্রয়োজন হবে। এই সময়ে চুক্তির বাস্তবায়ন কাঠামো ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।   আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অকাল’ ও ‘বাস্তবতাবর্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আলোচক দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে—সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং রোববার কোনো স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই ধরনের ঘোষণা আলোচনার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।   আইআরজিসির টেলিগ্রাম বার্তায় আরও বলা হয়, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে এই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই সময়সূচি সামনে এনেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়ে গেছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা এই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই চুক্তি সফল হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   সব মিলিয়ে, চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও স্বাক্ষরের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'অপারেশন নাসর' শুরু করল ইরান

ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন নাসর’ নামে নতুন একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।   সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরও এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বা অ্যারোস্পেস বাহিনীর ইউনিটগুলো ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেভাতিম বিমানঘাঁটি এবং মধ্যাঞ্চলের তেল নফ বিমানঘাঁটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই দুই ঘাঁটিকে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ‘ইয়া হায়দার কারার’ সাংকেতিক নামে এই অভিযান শুরু করা হয়। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের স্মরণ এবং ইরানের বিভিন্ন রাডার ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলার অভিযোগ করে আসছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষ সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ এই অভিযানের ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান রোববার রাতে ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ইরান থেকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। ইসরায়েলের দাবি, হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপকণ্ঠে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।   আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি থেকেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাই এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   হামলার পর প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এটি কেবল একটি বার্তা। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়িও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান বারবার জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ মেনে নেবে না।   তার ভাষায়, “আজ রাতের জবাব ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।”   মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে তাকে নতুন করে পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ জানাবেন।   মার্কিন সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমি আশা করি ইসরায়েলও নতুন করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। কারণ পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে এই সংঘাতের কোনো শেষ থাকবে না।”   ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অগ্রসর হয়েছে এবং তিনি চান না বর্তমান উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করুক।   তার মতে, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। এটি একটি ইতিবাচক চুক্তি হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি ভেস্তে যাক, তা আমি চাই না।”   বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করছে, তবুও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।   আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজের ত্রাস ইরানের ‘মস্কুইটো ফ্লিট’: কেন এটি এখনও বড় হুমকি?

পারস্য উপসাগরের উপকূলে ইসরায়েল এবং মার্কিন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকলেও, সমুদ্রের গভীরে ও পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রতিরোধ্য বাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞরা যাকে বলছেন ‘মস্কুইটো ফ্লিট’ বা মশা বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর এই ছোট, দ্রুতগামী এবং চটপটে নৌবহরটি এখন হরমুজ প্রণালীর নৌ-বাণিজ্যের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইআরজিসি-এর এই নৌবাহিনী মূলত একটি ‘গেরিলা বাহিনী’ হিসেবে সমুদ্রে কাজ করে। যেখানে ইরানের মূল নৌবাহিনী বড় যুদ্ধজাহাজে বিশ্বাসী, সেখানে আইআরজিসি গুরুত্ব দেয় ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (asymmetrical warfare) বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের ওপর। টেনেসির চ্যাটানুগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, "আইআরজিসি সরাসরি ধ্রুপদী নৌ-যুদ্ধে না গিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কৌশলে দক্ষ।" সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক মেরিটাইম এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। যার বেশিরভাগই আইআরজিসি-এর ড্রোন বা ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চার থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানের মূল নৌবাহিনীর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, আইআরজিসি-এর এই ছোট নৌযানগুলোর সংখ্যা এখনও শত শত বা হাজারও হতে পারে। এই ‘মশা বাহিনী’র বিশেষত্ব হলো এদের আকার। এগুলো এতই ছোট যে স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ে না। ইরানের পাথুরে উপকূলের গভীর গুহায় বা সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয় যে কয়েক মিনিটের নোটিশে অভিযানে নামতে পারে। এই বোটগুলো ঘণ্টায় ১০০ নটের বেশি (প্রায় ১১৫ মাইল) গতিতে চলতে সক্ষম। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও মার্কিন রণতরীগুলো হরমুজ প্রণালীর সরু পথে টহল দিতে সতর্ক থাকছে। কারণ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে এখানে সতর্ক হওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল গ্যারি রুগহেড বলেন, "আইআরজিসি-এর এই বাহিনী সবসময়ই একটি বিঘ্নকারী শক্তি। তারা কখন কী করবে, তা বোঝা দায়।" উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মূল সেনাবাহিনীর ওপর অনাস্থা থেকেই এই সমান্তরাল বাহিনী গঠন করেছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। ১৯৮৬ সালে গঠিত এই নৌ-শাখাটি এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের সম্মুখভাগে অবস্থান করছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ কঠোর শর্তারোপ করেছে ইরান। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-শাখার পূর্ব অনুমতি এবং নির্ধারিত টোল বা মাশুল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নতুন সামুদ্রিক শাসন ব্যবস্থা (Maritime Regime) মেনে চলার সময় এসেছে।" নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আইআরজিসি অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে। ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করা হবে।" একই সুর শোনা গেছে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকেও। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চেকপয়েন্ট। ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক দরকষাকষিতে এটিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মূলত মার্কিন অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই পথ দিয়ে ট্রানজিট চার্জ বা টোল আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির অনুমতি প্রয়োজন হবে: ইরানের সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রণালি পার হতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে হবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির সময় ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকবে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হবে না।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে আইআরজিসির অনুমতির শর্ত—এই দুই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ‘তুরুপের তাস’ হরমুজ প্রণালি; কেন এটি পারমাণবিক শক্তির চেয়েও ভয়াবহ?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সত্য সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স সংবাদদাতা জিয়ার গোলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন তেহরান তাদের রণকৌশল বদলে ফেলে। তারা প্রচলিত যুদ্ধের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। মূলত এই চাপের মুখেই ওয়াশিংটন নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত সামরিক শক্তির চেয়েও এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত, ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় ধাক্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।   নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   খামেনির পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি-ও পৃথক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।   সামরিক নেতৃত্বেও একের পর এক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আব্দোলরাহিম মুসাভি-ও একই পরিণতির শিকার হন। পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদ নিহত হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগে।   ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি এবং তাঁর উত্তরসূরি মোহাম্মদ পাকপোর নিহত হন। এতে বাহিনীর স্থল, নৌ ও মহাকাশ—তিনটি শাখাই দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ নিহত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতিও দুর্বল হয়েছে।   গোয়েন্দা কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ায় গোটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কর্মসূচির অগ্রগতিতে বড় প্রভাব পড়েছে।   এ ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল ব্যক্তি কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের নেটওয়ার্কেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং ইরানের সামরিক কমান্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।   একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করছে—আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল ময়দানে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব তৈরি, নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: যুদ্ধবিরতির আশা ক্ষীণ, পাল্টা প্রস্তাবে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন পাল্টা প্রস্তাব ও পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।   যুদ্ধ থামাতে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে Iran। উল্টো তেহরান ১০ দফা নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ ও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।   তবে এসব প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইরানকে দেওয়া তাঁর সময়সীমাই চূড়ান্ত এবং এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।   এরই মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই হামলার পর থেকে একের পর এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল, যা পরে ইরানও নিশ্চিত করে।   এ ছাড়া আইআরজিসির কুদস ফোর্সের একটি আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধানকে হত্যার দাবিও করেছে ইসরায়েল, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা ইরানের সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।   অন্যদিকে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে ইরান। Israel-এর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেম, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হাইফায় এক আবাসিক ভবনে হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরান-সমর্থিত হামলায় বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও Lebanon-এ ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।   এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির বদলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানকে সমঝোতায় আসতে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, যার সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আবারও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের!

ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এর পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান। এর আগে গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান, যদিও ওয়াশিংটন তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে শুক্রবারের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছিল ইরান।   যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের প্রলেপ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কোনোভাবেই শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে 'হাস্যকর কার্যকলাপ' হিসেবে অভিহিত করে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে এই প্রণালির ওপর তাদের দৃঢ় ও দাপুটে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের রাষ্ট্রপতি তার কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি যখন পুরোপুরি "উন্মুক্ত, বাধামুক্ত ও নিরাপদ” হবে, কেবল তখনই তিনি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাববেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।   দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে হামলার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও নজরদারিতে এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে Google, Apple, Meta, Tesla এবং Boeing-সহ অন্তত ১৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আগামীকাল রাত ৮টার পর এসব প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত কর্মী ও সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ধরনের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে শুধু সামরিক নয়, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা টাংসিরি।
ইরানের ‘হরমুজ সম্রাট’ কমান্ডার তাংসিরি নিহত: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য!

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানানো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, বন্দর আব্বাসে তাদের বাহিনীর একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি ও আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।   কমান্ডার তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক মাসব্যাপী যুদ্ধের পর সরাসরি স্থল অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মার্কিন বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে এবং এরপর বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।   এই যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে ইরান তার ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপও মার্কিন নিশানায় রয়েছে। তবে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপগুলো দখল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেখানে যাতায়াত সহজ হলেও মার্কিন সেনারা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

তাবাস্সুম মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুত (AUB)
ইরানের হামলার হুমকি: বৈরুতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

ইরানের নজিরবিহীন হামলার হুমকির মুখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত' (এইউবি) তাদের সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৯ মার্চ) এক জরুরি বার্তায় জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার সব ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকবেন।   এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা হামলার শিকার হবে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাদলো খৌরি এক বিবৃতিতে জানান, যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা থাকলেও বৈরুতের এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: আল আরাবিয়া

তাবাস্সুম মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০