মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ
মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজারো মানুষের প্রবেশের পর সেখানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন শত শত অভিবাসী। সীমান্ত পার হতে পারলেও মূল ভূখণ্ড স্পেনে যেতে না পেরে অনেকে রাস্তায়, পার্কে ও উন্মুক্ত স্থানে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চার সন্তানের বাবা ৪৪ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক ইউসুফ এল আব্বাস জানান, সাত বছর আগে বিলবাওয়ে চাকরি হারানোর পর বসবাসের অনুমতির মেয়াদ শেষ হলে তাকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়। সম্প্রতি শত শত মানুষ সিউটায় প্রবেশের খবর পেয়ে তিনিও তেতুয়ান হয়ে ফনিদেকে পৌঁছান। পথে তিনি জানতে পারেন, মরক্কো সীমান্তে আগের মতো কড়াকড়ি নেই এবং মানুষকে সীমান্তের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে।
ইউসুফের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে পৌঁছে মাত্র কয়েক মিনিট সাঁতার কেটেই তিনি সিউটায় প্রবেশ করেন। তবে সবাই এতটা ভাগ্যবান ছিলেন না। তার দাবি, পানিতে নামার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কয়েকজনের মরদেহ ভাসতে দেখেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের ওই ভূখণ্ডে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৭২ জন ডুবে বা পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্পেনের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন। পরে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মরক্কোতে ফিরে গেলেও শত শত মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই মূল ভূখণ্ড স্পেনে যেতে পারছেন না এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
১৭ বছর বয়সী সাঈদও সীমান্ত খোলা থাকার খবর পেয়ে সিউটায় আসেন। তিনি জানান, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি কেন্দ্রে নেওয়া হলেও জায়গা না থাকায় পরে আবার রাস্তায় ফিরে আসতে হয়। তার লক্ষ্য একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে স্প্যানিশ ভাষা শেখা এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাপিত হিসেবে কাজ শুরু করা। তবে বৈধ কাগজপত্র না পেলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে থাকা অভিবাসীদের পানি, খাবার, কম্বল ও পোশাক দিয়ে সহায়তা করছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, এই সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মরক্কো সরকার বলেছে, সীমান্ত পরিস্থিতির জন্য তারা কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নয় এবং ঘটনাটির পেছনে মানবপাচারকারী চক্রের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে স্পেনও বলছে, সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পেছনে মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনাও অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreবাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানতে দুবাই পুলিশকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দুবাই পুলিশ বলছে, এ ধরনের মামলার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা তাদের নীতির মধ্যে পড়ে না। রোববার (২ আগস্ট) দুবাই পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এক অনুসন্ধানের জবাবে জানায়, ব্যক্তিগত বা বিচারাধীন মামলার বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয় না। যদি এ ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে নির্ধারিত পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে জামিন পেলেও তার ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তারা এখনো দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। তাই সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, তারাও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি হাতে পায়নি। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের সার্টিফায়েড আদেশ সংগ্রহের পর জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, দুদকের করা দুর্নীতির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছিল। গত ১২ জুন দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে তার আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। এরপর প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মলের ছত্রাকের ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় স্কটল্যান্ডের তরুণ গবেষক
মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ
ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, হাজারো নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!
যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেও কাজ পাননি এক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের বাস্তব চাকরির বাজারের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না। ধ্রুভ নাথালাল নামের ওই তরুণ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে কলেজের দুটি কোর্স সম্পন্ন করার পর গত ১২ মাস ধরে তিনি খুচরা বিক্রয় (রিটেইল), আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির জন্য ধারাবাহিকভাবে আবেদন করে আসছেন। তবে শত শত আবেদন পাঠিয়েও একটি চাকরির প্রস্তাব পাননি। ধ্রুভ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল না যে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। তার দাবি, তিনি এমন অনেক তরুণকে দেখেছেন, যারা ভালো ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই অনেক তরুণ বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধানের মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এর সর্বশেষ তথ্যও দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা এবং তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা। ধ্রুভর অভিজ্ঞতা এখন যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। শত শত আবেদন করেও চাকরি না পাওয়ার ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুদ্ধে তিন সন্তানকে হারানোর পর এবারের হামলায় সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও হারালেন ফিলিস্তিনি মা
মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিআইএ ও মোসাদ
'দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণই', ইরানিদের বীর আখ্যা পেজেশকিয়ানের
ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেই চেনা শহরেই ফিরে এলেন তিনি। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্ছ্বসিত তসলিমা বলেন, "আমার খুব ভালো লাগছে, আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ"। মূলত ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই কলকাতা সফর। 'সেকুলার মিশন ট্রাস্ট' এবং 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটারস ফাউন্ডেশন (এইচআরবিএফএফ)'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাস 'লজ্জা'-কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও একাধিক ফতোয়া জারির পর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তসলিমা। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে এবং সুইডিশ নাগরিকত্ব লাভের পর তিনি কলকাতায় থিতু হন। প্রায় ১৪ বছর সেখানে বসবাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইসলামি সংগঠনগুলোর তীব্র ও সহিংস বিক্ষোভের জেরে তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'দ্বিখণ্ডিত' নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দুই বছর পর কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি ২০০৬ সালে এক ইমাম তসলিমার মুখে কালি মাখানোর জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরের বছর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের
১৫০ বছর পর ফেরত দেওয়া হলো লাইব্রেরির বই, জরিমানা ২৮ হাজার ডলার