সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা সংকটে ২৫.২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন সহায়তা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৭:২৩
রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি:সংগৃহীত
রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের কারণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সহায়তা খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয় ও সুরক্ষা সেবাকে আরও জোরদার করবে।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

 

চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউএনএইচসিআর-এর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসোনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল উপস্থিত ছিলেন।

 

নতুন অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনের প্রতি।

 

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এটি একটি বহু-বছর মেয়াদি অর্থায়ন, যার ফলে প্রতি বছর নতুন করে অর্থ বরাদ্দের অনিশ্চয়তা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে মানবিক সেবাগুলো পরিচালনা করা সহজ হবে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে এবং এই দায়িত্ব পালনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

 

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, এই সহায়তা দেশটির ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তিন বছর মেয়াদি বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

 

অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য দেশটি এখন পর্যন্ত ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হলো।

 

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার এই ঘোষণা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে তারা মনে করেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

বাংলাদেশ সরকারও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর শোকের ছায়া। ছবি: সংগৃহীত
ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে গিয়ে বিরল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত, দুবাইয়ের ৭ বছরের আমেয়ার মৃত্যু

দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার, স্কুল ও নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কেরালায় গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিরল স্নায়বিক রোগ ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার পর ৪৫ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল সে। ১৪ সেপ্টেম্বর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আমেয়ার মৃত্যু হয়।    আমেয়া দুবাইয়ের দ্য ইন্ডিয়ান হাই স্কুলের আল গারহুদ জুনিয়র ক্যাম্পাসের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবা অজিত কেপির ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ হওয়ার আগে মেয়েটির কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। বরং সে ছিল প্রাণবন্ত ও সুস্থ শিশু। ৬ জুলাই পরিবারের সঙ্গে নিজের সপ্তম জন্মদিনও উদযাপন করেছিল আমেয়া। ছুটিতে কেরালায় যাওয়ার পরও প্রথম কয়েক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবেই কেটেছিল তার।    হঠাৎ ৩০ জুলাই আমেয়ার খিঁচুনি শুরু হয়। পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরে তার শরীরে ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোম বা এফআইআরইএস শনাক্ত করেন। এটি অত্যন্ত বিরল ও গুরুতর এক ধরনের স্নায়বিক রোগ, যা আগে সুস্থ থাকা শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে। রোগটি সাধারণত জ্বর বা সংক্রমণের পর হঠাৎ তীব্র ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন খিঁচুনি দিয়ে শুরু হতে পারে।    চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমেয়ার খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তার বাবা। তবে তখনও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। রোগের জটিলতার কারণে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয় এবং ঘুমের মতো গভীর অবস্থায় রাখা হয়। পরিবার আশা করছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু ৪৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর হঠাৎ হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় তার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এফআইআরইএস অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন চিকিৎসা-গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক একজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি এবং নির্দিষ্ট কোনো একক চিকিৎসাও নেই। সাধারণত খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতা সামলানোর ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বেঁচে যাওয়া শিশুদের একটি অংশের দীর্ঘমেয়াদি খিঁচুনি ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।    আমেয়ার মা মীরা অজিতের জন্যও মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যু ছিল গভীর আঘাত। তিনি আগে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করলেও প্রায় এক বছর আগে চাকরি থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনা, নাচ ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহকে সময় দেওয়াই হয়ে উঠেছিল তার অন্যতম অগ্রাধিকার। আমেয়া নিয়মিত নাচের প্রশিক্ষণ নিত এবং ভবিষ্যতে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত।    দুবাইয়ের শামনা কাসিম ড্যান্স স্টুডিওরও প্রিয় শিক্ষার্থী ছিল আমেয়া। মালয়ালম অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শামনা কাসিমের পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই ভরতনাট্যম শিখছিল সে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচে অংশ নিত আমেয়া এবং নাচের প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্টুডিওর ক্লাস বন্ধ রাখা হয় এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা শোক প্রকাশ করেন।    আমেয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পরিবারও তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে। বন্ধু সেরাহর মা গ্রিশমা রবি জানান, দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়েছিল মাত্র আড়াই বছর বয়সে এবং এরপর তারা প্রায় সবসময় একসঙ্গে থাকত। স্কুল আলাদা হলেও একই নাচের প্রতিষ্ঠানে যেত তারা। আমেয়ার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল তার ছোট্ট বন্ধু, কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হলো না।    আমেয়ার স্কুলের প্রধান নির্বাহী পুনিত এম কে বাসু তাকে প্রাণবন্ত, কোমল ও সবার প্রিয় শিশু হিসেবে স্মরণ করেছেন। স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে তার হাসি এবং ছোট ছোট অভ্যাসগুলো এখন স্মৃতির অংশ। ছুটিতে কেরালায় গিয়ে একটি আকস্মিক ও অত্যন্ত বিরল রোগের সঙ্গে ৪৫ দিনের লড়াইয়ের পর আমেয়ার মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও নৃত্যজগতের পরিচিতদের গভীর শোকে ডুবিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৩৪
গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি

গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি

শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল আখতার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ইতালির ভেনিসে মর্মান্তিক এক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী। গত শনিবার একটি ওয়াটার ট্যাক্সির সঙ্গে পেশায় জেলে শন মিশিলির (২৫) নৌকার সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   এরপর মঙ্গলবার ভেনিসের লেগুন থেকে তার নিখোঁজ স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা কোয়েরিনোর (২৬) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তার খোঁজ মেলে। জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তরুণ দম্পতি।   তবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছে না গ্যাব্রিয়েলার পরিবার। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার মধ্যে অনেক নীরবতা ও অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমানো গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের রাতে তার স্বামীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।   পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, গ্যাব্রিয়েলা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যাগও গুছিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্রাজিলে বসবাসরত তার মা জিসেল এলোরিয়াগাকে টেক্সট মেসেজ করে জানান যে, তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে এবং তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে যাচ্ছেন। মেসেজে তিনি মাকে এও বলেন, "কাল তোমাকে সব খুলে বলব।"   পরিবারের সন্দেহ মূলত এই মেসেজটি ঘিরেই। তারা জানান, গ্যাব্রিয়েলা মেসেজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না; বরং পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি সবসময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এদিকে মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই ইতালিতে ছুটে যান তার মা।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় তিনি তার দুই সন্তানকেই (মেয়ে ও অনাগত সন্তান) হারিয়েছেন। অন্যদিকে, শনের বোন চ্যান্টালও অনলাইনে এক আবেগঘন বার্তায় ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে 'নটিক্যাল হোমিসাইড' বা নৌ-হত্যাকাণ্ড মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার সময় ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে থাকা দুই মার্কিন পর্যটককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে শনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:২৮
শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়।   সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে।   মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়।   মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন।   চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়।   কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়।   মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না।   অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:৫১
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০  খু নের স্বীকারোক্তি

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০ খু নের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানি এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করল লাওস

0 Comments