হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই। সংস্থাটির নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইওয়াইর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং অচলাবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তবে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বছরের শেষ নাগাদ ৬ শতাংশের বেশি হতে পারে। এতে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হবে, যার প্রভাব ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়বে।
তবে ইওয়াই আশা প্রকাশ করেছে, যদি চলতি বছরের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য মন্দা এড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে সুদের হার প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হতে পারে, যা আবাসন বাজার ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। আলোচনার অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাময়িকভাবে কমেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্যানেলে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লির মথুরা রোডে স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এতে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন। প্যানেলে শেখ হাসিনার পাশাপাশি থাকবেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন, শাহ মো. বখতিয়ার এবং সাকিব আল হাসান। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর এই প্রথমবার শেখ হাসিনার সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাকিব। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও সাকিব আল হাসান রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই মন্তব্য করেছেন। সে কারণে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই প্যানেলে তার উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না; তিনি কেবল অডিওর মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হবেন। তার ভাষ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতির অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ড. আউয়াদ আরও জানান, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এ আয়োজন নিয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
খুবির দুই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের দুই খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিতে পিএইচডির সুযোগ
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা
‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’ ইরানের সাথে আজই নতুন আলোচনা: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ট্রাফিক নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে শহরের অধিকাংশ এলাকায় লাল বাতি জ্বললে গাড়িচালকরা আর ডান দিকে মোড় নিতে পারবেন না। বর্তমানে টেনেসি আইনে সম্পূর্ণ থেমে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অধিকাংশ মোড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে ঘোরার অনুমতি রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মেট্রো কাউন্সিলের সদস্য স্যান্ড্রা সেপুলভেদা এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দুর্ঘটনা কমানো। বর্তমানে ন্যাশভিলে চালকেরা লাল বাতিতে সম্পূর্ণ থেমে নিরাপদ মনে হলে ডান দিকে মোড় নিতে পারেন, যদি সেখানে ‘নো টার্ন অন রেড’ সাইন না থাকে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শহরের আরবান সার্ভিসেস ডিস্ট্রিক্টের অধিকাংশ মোড়ে এই সুবিধা বাতিল হবে। প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হতে হলে মেট্রো কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। ন্যাশভিল ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনডিওটি) এবং পুলিশ বিভাগও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তবে কাউন্সিল সদস্য সেপুলভেদা বলেছেন, শহরের বিভিন্ন পথচারী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগে থেকেই এমন সুপারিশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে ইতোমধ্যে একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে শহরজুড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে আটলান্টা ও সান ফ্রান্সিসকোতে পথচারীর চাপ বেশি এমন এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। এদিকে, প্রস্তাবটি নিয়ে ন্যাশভিলবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে সমর্থন করছেন, আবার অনেকের মতে এতে অপ্রয়োজনীয় যানজট বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই বেশি জরুরি।
এক ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা বরখাস্ত
চিপসের প্যাকেটের খেলনা বল গলায় আটকে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু
বাজি ধরুন’, ২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হবে যুক্তরাষ্ট্রের! ট্রাম্পের নতুন দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা পুড়ে গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্পোকেন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর বব ফার্গুসন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং প্রবল দমকা হাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। শুধু স্পোকেন ও আশপাশেই প্রায় ২১ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও একাধিক দাবানল সক্রিয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্পোকেনের ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার, ফেয়ারভিউ ফায়ার এবং মেডোভিউ ফায়ার—এই তিনটি বড় দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের ঝুঁকিতে স্পোকেন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকাজুড়ে বিশাল অগ্নিশিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। বহু বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং দমকল বাহিনী আগুনের বিস্তার ঠেকাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। মার্কিন সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু ওয়াশিংটনেই নয়, পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনেও টানা দশম দিনের মতো দাবানল নিয়ন্ত্রণে বুলডোজার, হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বর্গকিলোমিটার তৃণভূমি পুড়ে গেছে এবং ৬০০টির বেশি বাড়িসহ প্রায় ৮০০ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ পূর্ব ওয়াশিংটন, পূর্ব ওরেগন, পশ্চিম ও মধ্য আইডাহো এবং পশ্চিম মন্টানায় বায়ুদূষণ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি উটাহ, মন্টানা ও পশ্চিম নেব্রাস্কার কিছু এলাকায় দাবানলের উচ্চ ঝুঁকি এবং অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ নেভাডা ও উত্তর মন্টানার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতাও বহাল রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভিস্তা করপোরেশন জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। দাবানলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী কয়েক দিন নতুন করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহ, কম আর্দ্রতা ও প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি! পরিরারের ক্ষোভ, নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিচারব্যবস্থা
আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? জেনে নিন