শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্যানেলে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লির মথুরা রোডে স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এতে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
প্যানেলে শেখ হাসিনার পাশাপাশি থাকবেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন, শাহ মো. বখতিয়ার এবং সাকিব আল হাসান।
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর এই প্রথমবার শেখ হাসিনার সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাকিব। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও সাকিব আল হাসান রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই মন্তব্য করেছেন। সে কারণে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই প্যানেলে তার উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না; তিনি কেবল অডিওর মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হবেন। তার ভাষ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতির অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ড. আউয়াদ আরও জানান, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এ আয়োজন নিয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের মেরিডিয়ান শহরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতায় বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে ৬ বছর বয়সী এক শিশু। পুলিশের ধারণা, ৩৯ বছর বয়সী রিচার্ড ইয়েগার তার ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী ভায়োলেটাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। মেরিডিয়ান পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজেদের বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে তাদের একমাত্র সন্তান টাই চিরতরে এতিম হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘পারিবারিক সহিংসতার’ আশঙ্কায় খবর পেয়ে পুলিশ ওই দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়। সেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অ্যাডা কাউন্টির করোনার অফিস জানিয়েছে, পেশায় নার্স প্র্যাকটিশনার ভায়োলেটার বুক ও পেটে গুলির আঘাত ছিল। অন্যদিকে, রিচার্ডেরও গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে রিচার্ড এমন ভয়াবহ পদক্ষেপ নিলেন, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। নিহত ভায়োলেটার বোন ক্রিস্টিন জেনসন এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এতিম হয়ে যাওয়া শিশু টাইয়ের ভবিষ্যৎ ও ভায়োলেটার শেষকৃত্যের জন্য তিনি একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ খুলেছেন। ক্রিস্টিন জানান, বর্তমানে টাইকে ফস্টার কেয়ারে (সরকারি তত্ত্বাবধানে) রাখা হয়েছে এবং তাকে সেখান থেকে নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে পরিবার। চরম মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই শিশুর জন্য দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি এবং আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে ভায়োলেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরনো পোস্টগুলো। মাত্র ছয় মাস আগেই তারা নতুন ওই এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন এবং নিজেদের জীবন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন বলে ফেসবুকে জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০২৫ সালের বাবা দিবসেও স্বামী রিচার্ডকে ‘সেরা বাবা’ এবং ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ভায়োলেটা। সেই সুখী পরিবারের এমন আকস্মিক ও করুণ পরিণতিতে হতবাক হয়ে পড়েছেন তাদের প্রতিবেশী ও স্বজনরা।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ায় চাকরি হারালেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞ স্কুলকর্মী
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী, মুক্তির আবেদন আইনজীবীর
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট প্রদান, জাল ভোটার নিবন্ধন এবং নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিভাগটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের নাগরিক। বিচার বিভাগের অভিযোগ, অভিযুক্তরা মার্কিন নাগরিক না হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, কেউ নাগরিকত্বের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন, আবার কেউ ভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভুয়া নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মোহাম্মদ হাচিবুর রহমান। ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যমতে, দেশজুড়ে নির্বাচনী শুদ্ধতা নিশ্চিতে তাদের অভিযান কঠোরভাবে চলমান রয়েছে। গত নয় সপ্তাহে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ১৯৫ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের অপরাধে মোট ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে এই পদক্ষেপের বিষয়ে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটার জালিয়াতির ঘটনায় এটিই সবচেয়ে বড় আইনি ব্যবস্থা। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এই অভিযানে বাংলাদেশ ছাড়াও মেক্সিকো, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তকেই নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প! দাবি ৯৯ শতাংশ সমর্থনের
এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের নির্বাচন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রচারণা ব্যয় প্রায় ১১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী নির্দলীয় সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ধনকুবেরদের অনুদান, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং সুপার পিএসি নামে পরিচিত স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। ওপেনসিক্রেটসের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এবার সেই ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলেও এবারের নির্বাচন আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সব আর্থিক প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর প্রকৃত ব্যয় জানা যাবে। বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জমা হওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিমধ্যে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি এবং সুপার পিএসিগুলোর ব্যয় প্রায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। গত কয়েক মাসে এসব সংগঠনের অর্থব্যয় দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালা হয়েছে। ওপেনসিক্রেটসের হিসাবে, বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ব্যয় এবার ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। অক্টোবরের শেষ দিক পর্যন্ত রক্ষণশীল সংগঠনগুলো প্রায় ২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার এবং উদারপন্থী সংগঠনগুলো প্রায় ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এ হিসাবে রক্ষণশীল সংগঠনগুলো প্রায় ৩৬ কোটি ডলার এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন ইলন মাস্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনের হিসাবে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষে তাঁর রাজনৈতিক অনুদান ও ব্যয় ৪৪ কোটি ডলারের বেশি। টেক্সাসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থনে অর্থ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোও বড় দাতাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে। জর্জ সোরোসের প্রতিষ্ঠিত দুটি সংস্থার অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে বিবিসি। নির্বাচনী বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ব্যয় ও সংরক্ষিত বিজ্ঞাপন বরাদ্দ অক্টোবরের শেষ নাগাদ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। টেলিভিশনের পাশাপাশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে। টেক্সাস, ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বিজ্ঞাপনের ব্যয় বিশেষভাবে বেশি। এদিকে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন রাজনৈতিক দাতা মোট প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। নির্বাচনে অজ্ঞাত উৎসের অর্থ বা ডার্ক মানির প্রভাবও বেড়েছে। ওপেনসিক্রেটস জানিয়েছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ ধরনের অর্থের পরিমাণ ইতিমধ্যে ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের পুরো নির্বাচনী চক্রের তুলনায়ও বেশি। মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ বহু পদে ভোট হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে রিপাবলিকান পার্টি, আর তা পুনরুদ্ধারে লড়ছে ডেমোক্র্যাটরা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিপুল অর্থব্যয়ের মধ্যেও ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যু, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, ৩০ বছর পর প্রথম প্রাণহানি