গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল
গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে একযোগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সসহ দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রিসে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় বহন করে এমন কোনো প্রতীক বা চিহ্ন প্রদর্শন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকদের গ্রিস ভ্রমণ বাতিল করতে বলা হয়নি; মূলত বিক্ষোভ চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিশেষ করে যেসব পর্যটন এলাকায় ইসরায়েলিদের আনাগোনা বেশি, সেগুলোকে এই কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিক্ষোভ শুধু বড় শহরের কেন্দ্রস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটকদের উপস্থিতিবহুল এলাকাগুলোতেও। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।
তবে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হলেই ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বছরও একই ধরনের কর্মসূচির সময় ইসরায়েল এমন সতর্কতা জারি করেছিল, যা কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তাই এবারের নির্দেশনাকেও একটি আগাম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে ইহুদি পরিচয় গোপনের নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreচলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে ডিপোর্ট বা দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ডিপোর্টের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট ডিপোর্টের প্রায় ৮৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর মোট ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয়কে কানাডা থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চলতি বছরের একই সময়ে মেক্সিকোর ১ হাজার ৫৭৩ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সিবিএসএ-এর তথ্যমতে, এই বিপুলসংখ্যক নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরও বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় কানাডা থেকে ডিপোর্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকদের তুলনায় সর্বোচ্চ। মূলত ভিসা জালিয়াতি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান, কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়াকেই ভারতীয় নাগরিকদের এই রেকর্ডসংখ্যক ডিপোর্টের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে কানাডা সরকার তাদের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের ওপর। কানাডার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, সাধারণত তিন ধরনের আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এগুলো হলো—ডিপার্চার অর্ডার, এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ডিপোর্টেশন অর্ডার।
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল
৩০০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন তৈরি করে পাকিস্তানের চমক
গ্রিসজুড়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, পর্যটন এলাকাসহ ৩৬ স্থানে কর্মসূচি
ভারতের ফুকেট থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তীব্র ঝাঁকুনির পর বিমানের প্রধান পাইলটের মাদক পরীক্ষার প্রাথমিক ফল নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, পরীক্ষায় এমন ফল পাওয়া গেছে যার জন্য আরও নিশ্চিত পরীক্ষা প্রয়োজন। এ ঘটনায় ফ্লাইটটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজটি তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে। এ সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৯১ মিটার নিচে নেমে যায়। বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপদে নয়াদিল্লিতে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ১৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে আটজন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। ঘটনার পর বিমানের দুই পাইলটেরই মাদক বা মনঃপ্রভাবক পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে। এরপর তার নমুনা নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক পরীক্ষার ফলকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই উড্ডয়ন দায়িত্বের তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের ফল এবং নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে পাইলটের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে এয়ার ইন্ডিয়াও জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটের পাইলটদের উড্ডয়ন-পরবর্তী পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল তাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে বিমানের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যাত্রীদের ব্যাগ দেখা গেছে। আহত কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তীব্র ঝাঁকুনির কারণে ফ্লাইটের ভেতরে পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রী ও ক্রুদের সমস্যায় পড়তে হয়। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এয়ার ইন্ডিয়া নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে টাটা গোষ্ঠী এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিমান সংস্থাটি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং পুরোনো বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়। তবে বিমান সরবরাহে বিলম্ব এবং ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকার মতো বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন নিহত হন। বর্তমান ঘটনায় পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিশ্চিত করার জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ফল এবং নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ঘিরে গ্রিসে ইসরায়েলিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি, ঘর ছাড়তে বাধ্য ২০ হাজারের বেশি মানুষ
কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি পার্লামেন্টে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে জানানোর পর বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছেন। পার্লামেন্টে কুর্তি জানান, স্পিকার পদে প্রার্থী মনোনয়নের আগে তিনি অন্যান্য দলের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে চান। তার এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের ওই আইনপ্রণেতা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। ঘটনাটি কসোভোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বলকান অঞ্চলের ছোট দেশ কসোভো প্রায় দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। সরকার গঠন, পার্লামেন্টের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না থাকায় প্রক্রিয়াটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কুর্তির আরও সময় চাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও সামনে এসেছে। পার্লামেন্টে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাটি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তেজনাকেই প্রতিফলিত করছে। তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন কসোভোর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে মানবতার শেষ প্রহরী ওলেক্সি ইউকভ আর নেই
৩ সেকেন্ডে একটি পণ্য , ৭ দিনেই চীনা ইনফ্লুয়েন্সারের আয় ১৩৭ কোটি টাকা!