আন্তর্জাতিক

লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:৮
অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত
অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত

লটারি মানেই ভাগ্যের খেলা। কিন্তু রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল সেই ধারণাকে যেন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে গাণিতিক হিসাব ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি জীবনে মোট ১৪ বার লটারি জিতেছিলেন। তার সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য আসে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে। সেবার ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতে।

 

ম্যান্ডেলের কৌশল শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে তা ছিল অত্যন্ত জটিল। কোনো লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশন যদি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে এবং সব কম্বিনেশনের টিকিট কেনার খরচ জ্যাকপটের অর্থের তুলনায় কম হয়, তাহলে সম্ভাব্য সব নম্বর কিনে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। ম্যান্ডেল এই গাণিতিক সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিলেন।

 

১৯৫০-এর দশকে রোমানিয়ায় লটারি খেলে প্রথম বড় সাফল্য পান ম্যান্ডেল। সেখানে তিনি দুবার লটারি জেতেন। সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে পরে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার গাণিতিক কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেন এবং সেখানে আরও ১২ বার লটারি জেতেন। সব মিলিয়ে তার লটারি জয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।

 

অস্ট্রেলিয়ায় ম্যান্ডেল শুধু নিজের অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতেন না। তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও প্রিন্টারের সাহায্যে সম্ভাব্য নম্বরের বিপুলসংখ্যক কম্বিনেশন তৈরি করা হতো। এরপর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই কম্বিনেশন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনা হতো।

 

তবে অস্ট্রেলিয়ায় লটারির নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার পর ম্যান্ডেলের এই কৌশল আগের মতো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির দিকে নজর দেন।

 

১৯৯২ সালে ম্যান্ডেলের নজরে আসে ভার্জিনিয়া লটারি। সে সময় জ্যাকপটের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ। ম্যান্ডেলের হিসাব অনুযায়ী, সব কম্বিনেশনের টিকিট কিনতে যে অর্থ লাগবে, তা জ্যাকপটের তুলনায় কম।

 

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি International Lotto Fund নামে একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ একত্র করে সম্ভাব্য সব নম্বরের কম্বিনেশন কেনা।

 

টিকিট কেনার জন্য শুধু একটি দোকানের ওপর নির্ভর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোরসহ নানা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনা হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগে থেকেই সম্ভাব্য নম্বরের কম্বিনেশন তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল।

 

তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব টিকিট কেনা সম্ভব হয়নি। মোট প্রায় ৭১ লাখ সম্ভাব্য কম্বিনেশনের মধ্যে সিন্ডিকেট প্রায় ৫৬ লাখ টিকিট কিনতে পেরেছিল। অর্থাৎ তাদের হাতে সম্ভাব্য সব নম্বর ছিল না। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষেই যায়।

 

১৯৯২ সালের ওই ড্রতে ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের একটি টিকিটই ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এত বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনার ঘটনা লটারি কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।

 

ম্যান্ডেলের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অনুসন্ধান করে। তবে সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যবহৃত পদ্ধতিকে অবৈধ হিসেবে প্রমাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে লটারির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে একই ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা একটি সিন্ডিকেট বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনে পুরো কম্বিনেশন কভার করতে না পারে।

 

তবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতার পর ম্যান্ডেলের গল্পের শেষটা পুরোপুরি সাফল্যের ছিল না। টিকিট কেনা, পরিচালনাসহ বিভিন্ন খরচ এবং কর পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা অর্থ প্রত্যাশার তুলনায় কমে যায়। পরে ম্যান্ডেল নিজেও আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন এবং ১৯৯৫ সালে দেউলিয়া ঘোষণা করেন।

 

ম্যান্ডেলের গল্প তাই শুধু ১৪ বার লটারি জেতার গল্প নয়। তিনি দেখিয়েছিলেন, লটারির মতো ভাগ্যনির্ভর একটি খেলাতেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গণিত ও সম্ভাবনার হিসাব কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থ, বিশাল পরিমাণ টিকিট কেনার সক্ষমতা, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় দল এবং অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা।

 

বর্তমান লটারির নিয়ম ও টিকিট কেনার সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যান্ডেলের সেই কৌশল এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তার গল্প বরং একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে আছে, যেখানে গণিত, অর্থ, সংগঠন এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস একসঙ্গে মিলে লটারির প্রচলিত ধারণাকেই একসময় বদলে দিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।   মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কারণ ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ছিলেন শক্তিশালী অবস্থানে।   পাকিস্তানের জিও নিউজ মির্জা ফখরুলকে বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির ক্ষমতায় ফেরার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও একই দিনে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সংসদে ৩৪৯ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং ভোটগ্রহণ উন্মুক্ত ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।অন্যদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্কও তুলে ধরেছে।   জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের পেছনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী রাজনীতিতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ও নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। ফলে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার চেয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর দীর্ঘদিনের এই বিরোধী নেতা এখন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মির্জা ফখরুলের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।   এদিকে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া দুটি বিষয়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমে খবরটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১০:৫৪
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি ছবি:সংগৃহীত

পরকীয়ার অভিযোগে চার জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, শাস্তি দেওয়ার সময় ‘মায়া’ হলো জল্লাদেরও

অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত

লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

খাবার গ্রহণ ছবি:সংগৃহীত
বিমানের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট ৩০০ বার রিবুক করে এক বছর খেলেন ফ্রি খাবার!

২০১৩ সালে চীনের এক ব্যক্তি ফার্স্ট-ক্লাসের একটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য বিমান টিকিটকে এমন কৌশলে ব্যবহার করেছিলেন, যা পরে বিমান কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে। উড়োজাহাজে না চড়েও ওই টিকিট দেখিয়ে তিনি প্রায় এক বছর ধরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিনামূল্যে খাবার খেয়েছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে চীনের শানসি প্রদেশের শি'আন বিমানবন্দরে। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিটধারীরা বিমান ছাড়ার আগে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পেতেন, যেখানে খাবার ও পানীয় বিনামূল্যে পাওয়া যেত।   ওই ব্যক্তি প্রথমে একটি ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট কেনেন। এরপর নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠার বদলে লাউঞ্জে গিয়ে টিকিট দেখিয়ে খাবার খেতেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি ফ্লাইটের তারিখ পরবর্তী দিনের জন্য পরিবর্তন করে দিতেন।   পরদিন আবার নতুন তারিখের টিকিট নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হতেন। একইভাবে লাউঞ্জে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন করতেন। এভাবে একই প্রক্রিয়া তিনি বারবার চালিয়ে যান।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ওই একই টিকিটের বুকিং ৩০০ বারেরও বেশি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর নজরে আসে। এরপর বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ওই যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এবং তার এই কৌশল বন্ধ হয়ে যায়।   তবে ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল শেষটা। টিকিটটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি সেটি বাতিল করেন এবং নিজের দেওয়া পুরো টাকাই ফেরত পান। অর্থাৎ, প্রায় এক বছর ধরে ভিআইপি লাউঞ্জের খাবার ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার পরও টিকিটটির জন্য শেষ পর্যন্ত তার কোনো খরচই থাকেনি।   তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য মূলত ২০১৪ সালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:৫০
হুতি বাহিনী ছবি:সংগৃহীত

হুথিদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধা ছবি:সংগৃহীত

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৮৪ বছরের বৃদ্ধা

অস্ত তৈরি প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত।

অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন।   ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।   ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না।   এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৬:১৪
মার্কিন মুদ্রা ছবি:সংগৃহীত

যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হ্যারি-মেগান, ছয় বছর পর কেন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা?

একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি

একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি

0 Comments