পুতিন-জিনপিংরা আসতেই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি!
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ভারতের নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়েছেন ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলো সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি বস্তি ও নিম্নআয়ের বসতিগুলো আড়াল করতে পর্দা ও অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি বা আপ।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কার্টুন প্রকাশ করে আপ। সেখানে ‘ভিশন ২০৪৭’ লেখা একটি আয়নার সামনে উন্নত ও সাজানো দিল্লির ছবি দেখানো হয়েছে। আয়নার বাইরের অংশে দেখানো হয়েছে বস্তি, আবর্জনা এবং অস্থায়ী ঘরবাড়ি। এই ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে রাজধানীর দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র আড়াল করার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছে দলটি।
আপ তাদের পোস্টে বলেছে, বস্তি পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখলে বাস্তবতা বদলে যায় না। দলটি বিষয়টিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের সঙ্গেও তুলনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তি আড়াল করা অনেকটা ২ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বলে দেখানোর মতো।
দিল্লিতে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলো আড়াল করার ঘটনা নতুন নয়। এবারের ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা কিছু বস্তি ও বসতির সামনে বড় পর্দা এবং অস্থায়ী ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের পথে রাজধানীর দারিদ্র্যের দৃশ্য যাতে চোখে না পড়ে, সে জন্য এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক সৌন্দর্যায়ন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ হোটেল এবং সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের সঙ্গে সংযোগকারী বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা, ব্রিকসের প্রচারসামগ্রী ও নানা ধরনের সাজসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোলচত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক গাছও বসানো হয়েছে।
সম্মেলন ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, বিদেশি অতিথিদের অবস্থানের হোটেল এবং তাদের চলাচলের নির্ধারিত রুটে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারতে সফর করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের কারণে দিল্লিকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বস্তি আড়ালের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। আপের অভিযোগ, পর্দা বা স্ক্রিন দিয়ে দরিদ্র মানুষের বসতি আড়াল করা হলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো দূর হয় না।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির এই সাজসজ্জা ও বস্তি আড়ালের বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের রাজধানীকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে বস্তি আড়ালের পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর সফরে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একই ধরনের দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান। দুটি বিমান একসঙ্গে উড়লেও কোনটিতে পুতিন ছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুতিনের ব্যবহৃত এই বিশেষ বিমানটি সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মতো নয়। রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত আইএল-৯৬-৩০০পিইউকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বলা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতার পাশাপাশি নিরাপদ যোগাযোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড পরিচালনার ব্যবস্থা। পুতিন বিদেশ সফরে গেলে একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে ব্যবহারের কৌশল রাশিয়ার জন্য নতুন নয়। দুটি উড়োজাহাজ একই সময়ে আকাশে থাকায় বাইরের পক্ষের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে প্রেসিডেন্ট আসলে কোনটিতে রয়েছেন। দিল্লি সফরেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। আইএল-৯৬ সিরিজের বিমানটির নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে। পরে রুশ প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য আইএল-৯৬-৩০০পিইউ সংস্করণকে বিশেষভাবে উন্নত করা হয়। এতে চারটি পিএস-৯০এ ইঞ্জিন রয়েছে এবং বিমানটি প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো এর যোগাযোগ ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি আকাশে থাকা একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। নিরাপদ উপগ্রহ যোগাযোগের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিরাপত্তার জন্য বিমানটিতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার বাহন নয়, বরং প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করতে পারে। তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানের ভেতরে প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সফরের জন্য আরামের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ কক্ষ, বৈঠকের জায়গা, খাবারের ব্যবস্থা ও শৌচাগারের মতো সুবিধা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অংশে কাঠের আসবাব এবং চামড়ায় মোড়ানো আসন ব্যবহারের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুতিনের দিল্লি সফরের সময় এই বিশেষ বিমানটি আবারও আলোচনায় এসেছে মূলত এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুই বিমানের কৌশলের কারণে। রুশ প্রেসিডেন্ট ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে পৌঁছান এবং ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুতিনের এই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ তাই শুধু বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট বিমান নয়। এর বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সফরের সময় একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে ব্যবহার করার কৌশলটি সেই নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
পুতিন-জিনপিংরা আসতেই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি!
এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করলে রোমান্টিক উপন্যাস লিখব: গণিতের ‘নোবেল’ বিজয়ীর রসিকতা
নির্জন পাহাড়ে শত শত কম্পিউটার! মেক্সিকোয় ধরা পড়ল গোপন ক্রিপ্টো খামার
২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে। লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি। তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন। বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসে বড় সমঝোতা, দিল্লি থেকে আসছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের
অস্ট্রিয়ায় এক পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে নিয়মিত মাদক খাইয়ে অন্য পুরুষদের দিয়ে ধর্ষণ করানোর ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। রবার্ট আইচিংগার (৫১) নামের ওই ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে অচেতন স্ত্রীকে একাধিক পুরুষের হাতে তুলে দিতেন। গত ২৫ জুন মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রী ড্যানিয়েলার (৩৯) মৃত্যু হলে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত 'পেলিকট' মামলার সঙ্গে মিল থাকায় রোমহর্ষক এই ঘটনাকে 'পেলিকট ২.০' আখ্যা দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, পেশায় ট্রাকচালক রবার্ট প্রতি সেশনের জন্য প্রায় ৫০০ ইউরো নিতেন। তার বোন পুলিশকে জানিয়েছেন, রবার্ট এই জঘন্য কাজ নিয়ে গর্ব করতেন এবং স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে টাকা উপার্জনের কথা বলতেন। তদন্তে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তার মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। সেসব মেসেজে রবার্ট স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তাকে 'মৃত মাংস' (dead meat) বলে উপহাস করতেন। ওই প্রতিবেশীও ড্যানিয়েলাকে একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত জুনে ড্যানিয়েলার কিশোরী মেয়ে তাকে শোবার ঘরে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। প্যারামেডিকরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অমানবিক আঘাতেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর রবার্ট প্রমাণ নষ্ট করতে তার ফোন থেকে অ্যাপ ও মেসেজ মুছে ফেলেছিলেন এবং রক্তমাখা বিছানা গায়েব করার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে রবার্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার সাবেক স্ত্রীও পুলিশকে রবার্টের চরম আগ্রাসী ও ভয়ংকর শারীরিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পেতে মরিয়া পশ্চিমারা, লক্ষ্য পূরণে কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না: পুতিন
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল