সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদের নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১:৩২
রেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ
রেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে স্থাপনাটিকে অননুমোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টে নোটিশ চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের বক্তব্য, এটি সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে মসজিদের প্রতিনিধিরা এর ওয়াক্‌ফ মর্যাদা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদ ও এর চত্বরের উল্লেখ রয়েছে। 

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মসজিদে প্রবেশের পথ সীমিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে বারবার দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। 

 

মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বাধীন দলটি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে স্থাপনা ভাঙার পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের অনুরোধ করে। মন্ত্রী বিষয়টিতে সাধ্যমতো উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে। 

নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লাহ খান এবং কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক। ওয়াইসি দাবি করেছেন, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি। সেটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড কেন পদক্ষেপ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চান তিনি।

 

দ্য ট্রিবিউনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোটিশটি ওই এলাকায় বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির পক্ষে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে; স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। 
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পার্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন
ইউক্রেনের পার্কে হাঁটার সময় রুশ ড্রোন হামলায় মা ও স্ট্রলারে থাকা শিশুকন্যা নিহত

ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের নোভা ভোদোলাহা শহরের একটি পার্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার, ১৯ অক্টোবর বিকেলের এ হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্না মারিউখনা ও তাঁর এক বছর বয়সী মেয়ে আনহেলিনা। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাঁদের সাতজন শিশু।    ইউক্রেনের আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় পার্কে হামলা হয়। তখন সেখানে শিশুদের নিয়ে অনেক পরিবার সময় কাটাচ্ছিল। হামলায় পার্কের একটি ক্যাফে ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ছোট্ট আনহেলিনা তার স্ট্রলারে থাকা অবস্থায় নিহত হয়। তার মা ইন্না আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান। মেয়েটির জন্ম হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে।    ইন্না স্থানীয় নোভা ভোদোলাহা স্কুল নম্বর ১-এ প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। স্কুলের সহকর্মীরা মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের স্মরণে স্থানীয় প্রশাসন ২০ অক্টোবর শোক দিবস ঘোষণা করে।    খারকিভের আঞ্চলিক প্রশাসনের সংশোধিত হিসাবে নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও চারজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। প্রাথমিক খবরে নিহত শিশুর সংখ্যা তিন বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর প্রাণহানির এই ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২:২১
রেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ

মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদের নির্দেশ

শতাক্ষী দ্বিবেদী নামের এক নারী

বিবাহিত জানার পর চাকরির ইন্টারভিউতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা জানতে চান এইচআর

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব, নতুন ছবি প্রকাশ করে চমক দিল উত্তর কোরিয়া সরকার

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।    সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর।   সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৬:৫৩
আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা

ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক শিক্ষিকার আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব পড়ার জন্য ছাড়াতে হলো ২১ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষিকাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় দিলেন ছাত্ররা

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর বলে প্রচারিত একটি ভিডিওতে এক শিক্ষিকাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কাঁদতে কাঁদতে বিদায় জানাতে দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় তিনি চাকরি ছেড়েছেন। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার কারণ এবং ২১ বছর শিক্ষকতা করার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।   উজবেকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জামিন ১১ অক্টোবর ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষিকাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাচ্ছে। ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি হিজাবের কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার দাবি উল্লেখ করেছে। তবে ওই শিক্ষিকার বিষয়ে অতিরিক্ত সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে।    ভিডিওটি এমন সময়ে ছড়িয়েছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকের বিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেইদান টিভির তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত নিয়ম সংশোধন করে মন্ত্রিসভা। এতে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং সাধারণ শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনা হয়। সিদ্ধান্তে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও আলাদা বিধান অনুমোদন করা হয়। এতে পেশাগত পরিবেশের উপযোগী পোশাক পরা এবং পোশাকের উপকরণ শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে।    বাকু শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ৯ অক্টোবর স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পোশাকবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। তবে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সরাসরি জবাব ওই ঘোষণায় ছিল না বলে জানিয়েছে মেইদান টিভি।    এই বিতর্কের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিদায়ের ভিডিওটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে দৃশ্যটির সঙ্গে প্রচারিত চাকরি ছাড়ার বিবরণ এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষিকা নিজে পদত্যাগ করেছেন, নাকি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১২:২৫
সৌদি আরবের রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিক গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের পোশাকের দোকান পিমকির সামনে এক নারীর কাছ থেকে কাপড় ফিরিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যান্ডের পোশাকের দোকানে জামা চুরি করেন স্ত্রী! দেখামাত্রই তা ফিরিয়ে দেন স্বামী

গ্রিসের জাকিনথোস দ্বীপের কাছে আইওনিয়ান সাগরে প্রায় ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর এল সালভাদরের ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্রুজ জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়ে ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নারী!

0 Comments