ভুয়া শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি, ফাহিম আকরাম আটক
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে জাল শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম ফাহিম আকরাম, বয়স ৩৩ বছর। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আতিফ আমির।
পাঞ্জাবের খানেওয়ালের বাসিন্দা আকরামের বিরুদ্ধে এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তিনি ‘লেবেলসব্যাংক’ নামে একটি অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেটির মাধ্যমে জাল মার্কিন ডাকমাশুলের লেবেল বিক্রি করা হতো।
তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সেলের ওজন, আকার কিংবা গন্তব্য বিবেচনা না করেই সাধারণত প্রতিটি লেবেল দুই ডলারে বিক্রি করা হতো। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের নির্ধারিত মাশুলের তুলনায় অনেক কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্ল্যাটফর্মটির ইউএসপিএসের পণ্য বা সেবা বিক্রির অনুমোদন ছিল না।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের হিসাবে, পাঁচ হাজার ২০০ জনের বেশি ক্রেতা ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে ৫১ লাখের বেশি জাল শিপিং লেবেল কিনেছেন। এতে ডাক বিভাগের প্রাপ্য আয় হারানো এবং পার্সেল পরিবহনের খরচ মিলিয়ে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অঙ্ক অভিযুক্তের আয় বা লেবেল বিক্রির মোট অর্থ নয়, বরং ইউএসপিএসের কথিত ক্ষতির হিসাব।
পাকিস্তানের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমটি চলেছে বলে তাঁদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। লেনদেনে আকরাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি তাঁদের। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বন্ধ করে ডোমেইন জব্দ করেছে। আকরামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারিত করা ও জাল ডাকমাশুল তৈরি ও বিক্রির ষড়যন্ত্রের একটি, জাল ডাকমাশুলের লেবেল তৈরি ও বিক্রির পাঁচটি এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের মায়ামি বিভাগ।
আকরামকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হবে, নাকি পাকিস্তানে তাঁর বিচার হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজায় যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শিশুদের জীবনকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ১৬ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনেকেই তাঁবুতে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। আনুমানিক ৬০ হাজার শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন কিংবা দুজনকেই হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য যুদ্ধের ক্ষতি শুধু বাড়িঘর হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার শিশুদের দুর্ভোগ পুরোপুরি থামেনি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে গাজায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গুলির ঘটনায় পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছে। আরও অন্তত ৩৩ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। এর আগে আহত হওয়া আরও দুই ছেলে পরে মারা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, অপ্রতুল স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ছয়টি বর্জ্যপানি শোধনাগারই তখনো বন্ধ ছিল। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্যপানি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাদ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো নাজুক। শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শীত আসার আগে তাঁবু, কম্বল, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার কিছু খবর রয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশু আবার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির সহায়তায় ২০০টিরও বেশি শিক্ষা কেন্দ্রে শিশুদের শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু স্কুলে ফিরতে পারা মানেই তাদের সব সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। গাজার শিশুদের এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে: যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন? জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন এবং পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা কোনো যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় না, কিন্তু যুদ্ধের পরিণতি তাদের জীবনেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। গাজার শিশুদের জন্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে আনা এখন মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন
বিয়ের আসরে জন্মদাগ দেখেই হারানো মেয়েকে চিনেন বরের মা, বরের মা ই তার জন্মদাত্রী!
ইংল্যান্ডে ২০ বছর গ্যারেজে পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমান বিক্রি হলো ২৪ হাজার ডলারে
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান। এত বড় পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিজের সব সন্তানের নামও সব সময় মনে রাখতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সাদিক। বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর পরিবারের এই জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে। ৫৭ বছর বয়সী সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি পান। সেই আয়ে পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। কখনো কখনো সন্তানদের না খেয়েও ঘুমাতে হয়। অনেকের জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় তারা খালি পায়ে চলাফেরা করে। সন্তানদের নাম মনে রাখার অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে সাদিক জানান, অনেক সময় নামের বদলে ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন। এক মেয়ের বিয়ের সময় ভুল করে অন্য মেয়ের নাম বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাবার খাওয়ার সময় কখনো সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই উপস্থিত আছে কি না। পরিবারটির বাসস্থানে মৌলিক সুযোগসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। ঘরগুলোতে যথাযথ দরজা ও জানালা নেই। কিছু জায়গায় দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। জ্বালানির অভাবে রান্নার আগুন ধরাতে কাগজ ব্যবহার করতে হয়। ঘুমানোর সময় কখনো ছয় থেকে সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগ করে নিতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের প্রয়োজনে কয়েকজন সন্তানও কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। সাদিকের দাবি, তিনি সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অর্থের অভাব সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, সহায়তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এত কঠিন হবে জানলে এত বেশি সন্তান নিতেন না বলে স্বীকার করেছেন সাদিক। সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর পরিবারের গল্পে বড় সংসারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খাবার, নিরাপদ বাসস্থান ও শিক্ষার অভাবই সামনে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিপদে
সীমান্তে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির অর্থনীতিবিদেরা। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পর সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের কর কমানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বাজেটের মাধ্যমে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, সরকার বেপরোয়া ব্যয়ের পরিবর্তে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। জাপান টাইমসের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিজুহো রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাইসুকে সাকাই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক নীতির প্রকৃত পরীক্ষা এখন শুরু হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব বাজেটের মাধ্যমে বাজারের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়, রাজস্ব শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সানায়ে তাকাইচি। এরপর থেকে তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে জাপান সরকার পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না। এ কারণে সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগ করতে চান তিনি। সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা হলো আগামী এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগ কর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা। এতে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের অর্থায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছেন, ঘাটতি অর্থায়নের জন্য নতুন বন্ড ইস্যু না করেই প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করবে সরকার। তবে জাপান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোমোহিসা ইশিকাওয়া কর কমানোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কর কমালেই পণ্যের দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দুই বছর পর সরকার আবার আগের করহার ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে আগামী অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ চলছে। ডিসেম্বরে বাজেটের খসড়া প্রকাশ করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার বাজেট চাহিদা রেকর্ড ১৪৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এই চাহিদা ২০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বেশি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত তাকাইচি অনেকের প্রত্যাশার তুলনায় কম সরকারি ব্যয় করেছেন। সম্পূরক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। সরকারের পরিকল্পনা হলো পরবর্তী সময়ে আলাদা সম্পূরক বাজেটের পরিবর্তে প্রাথমিক বাজেটেই বেশি ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা। জাপানের অর্থনীতির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ সরকারি ঋণ। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দেশটির ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত সর্বোচ্চ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালে এই অনুপাত ছিল ২২০ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে আনুমানিক ২০৪ শতাংশে নামতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারের কর আয় বাড়ায় ঋণের অনুপাত কমাতে কিছুটা সহায়তা হয়েছে। তবে এই প্রবণতা স্থায়ী নাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইশিকাওয়া। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় জাপানের রাজস্ব পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এদিকে তাকাইচির অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আর্থিক বাজারেও উদ্বেগ রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য ছিল ১৫০-এর নিচে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা দুর্বল হয়ে প্রায় ১৬৪ ইয়েনে পৌঁছায়। একই সময়ে জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে গত জুলাইয়ে জাপানকে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুসৃত শিথিল মুদ্রানীতিভিত্তিক অর্থনৈতিক কৌশল থেকে সরে আসারও পরামর্শ দেন। তবে তাকাইচি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে অতিরিক্ত শিথিল রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমর্থক নন। তাঁদের মতে, জাপানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আগের মতো নীতি অনুসরণ করা উপযুক্ত হবে না। আগামী বাজেটে কর কমানো, সরকারি বিনিয়োগ এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সরকার কীভাবে ভারসাম্য রাখবে, সেটিই এখন অর্থনীতিবিদদের প্রধান নজরে রয়েছে। সূত্র: জাপান টাইমস
‘আমি মারা গেলে মা ও ভাইয়ের কী হবে’, ভিডিও বার্তা দিয়ে যুবকের আ ত্মহ ত্যা
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের পর ছেলের মরদেহ ফেরত চান বাবা, ঋণের বোঝায় দিশেহারা পরিবার