সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২৮ অক্টোবর ফেডের সুদ বাড়লে চাপে পড়তে পারেন ৩১ লাখ বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৯:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত ঘিরে গ্রাহকদের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত ঘিরে গ্রাহকদের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা। সুদের হার বাড়ানো হলে কিছু ঋণগ্রহীতার মাসিক খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে অক্টোবরের বৈঠকেই সুদের হার বাড়বে, এমনটি এখনো নিশ্চিত নয়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত অর্থনীতিবিদদের জরিপ অনুযায়ী, ১০০ জনের মধ্যে ৯৪ জনই অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, বছরের শেষ দিকে আবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।

 

মানিওয়াইজের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩১ লাখ পরিবর্তনশীল সুদের আবাসন ঋণ চালু রয়েছে। এসব ঋণের সুদের হার নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তিত হতে পারে। ফেড সুদের হার বাড়ালে বাজারের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ঋণের খরচও বেড়ে যেতে পারে। তবে ফেডের সিদ্ধান্তের কারণে সব বাড়ির মালিকের মাসিক কিস্তি বাড়বে, এমন নয়। যাঁদের ১৫ বা ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তাঁদের বিদ্যমান ঋণের সুদ সাধারণত ফেডের নীতিগত হার পরিবর্তনের কারণে সরাসরি বাড়ে না। পরিবর্তনশীল সুদের ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত ও সুদ পুনর্নির্ধারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ।

 

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্যও সুদের হার বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যাঁরা প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ না করে ঋণ বহন করেন, তাঁদের সুদের খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিবর্তনশীল সুদের সঙ্গে যুক্ত ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক সুদের হার ফেডের নীতিগত হারের পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে পারে। এতে একই পরিমাণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতেও বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে। তবে সুদের হার কতটা বাড়বে, তা সংশ্লিষ্ট কার্ডের চুক্তি ও সুদ নির্ধারণের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

 

ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনে মূল্যস্ফীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানো হলে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যায় এবং ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে, সুদের হার বৃদ্ধি বাড়ি কেনা, ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে ফেডকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

 

ফেডারেল রিজার্ভের ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টায় সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে। রয়টার্সের জরিপে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিলেও ডিসেম্বরের মধ্যে হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখেছেন। তবে এটি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস, ফেডের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।

 

এ অবস্থায় পরিবর্তনশীল সুদের মর্টগেজ রয়েছে এমন বাড়ির মালিকদের ঋণের শর্ত, সুদ পুনর্নির্ধারণের তারিখ এবং সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি যাচাই করে রাখা উচিত। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদেরও বকেয়া ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনা করা জরুরি। সম্ভব হলে প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানোর পরিকল্পনা আর্থিক চাপ সামলাতে সহায়তা করতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে দেড় ঘণ্টার গবেষণায় অংশ নিয়ে এককালীন ১২৫ ডলার আয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৫ শহরে দেড় ঘণ্টার রিসার্চ স্টাডিতে একবার অংশ নিলেই ১৫০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে এককালীন অর্থের বিনিময়ে গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই রিসার্চ স্টাডিতে অংশ নিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পাবেন ১২৫ ডলার। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত হলে অতিরিক্ত ২৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে আগাম উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে পারলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট পারিশ্রমিক হতে পারে ১৫০ ডলার। তবে আবেদন বা নিবন্ধন করলেই অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে না।   আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার সেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বস্টন, ম্যাসাচুসেটস; ডেট্রয়েট, মিশিগান; হনলুলু, হাওয়াই; আটলান্টা, জর্জিয়া এবং হোবোকেন, নিউ জার্সিতে। সেশনগুলো সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আয়োজনের কথা রয়েছে। আগ্রহীরা আবেদন করার পর উপলভ্য সময় অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের তারিখ ও সময় বেছে নিতে পারবেন। গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের স্বাভাবিক কথোপকথনে অংশ নিতে হবে।  কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও ধারণ করা হতে পারে। এতে অংশ নিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা, অভিনয়ের দক্ষতা কিংবা বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে অংশগ্রহণকারীদের ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে হবে এবং প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বিরতিতে স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে সেশন সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারী ১২৫ ডলার পাবেন। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিতির শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৫ ডলার দেওয়া হবে। অর্থ পরিশোধের জন্য হাইপারওয়ালেট ব্যবহার করা হবে। সমর্থিত পদ্ধতি অনুযায়ী পেপ্যাল, ব্যাংক ট্রান্সফার, ভেনমো অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় পেমেন্ট সেটআপ সম্পন্ন করতে হবে।   এই গবেষণায় একা অথবা বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার সময় সঙ্গে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তির তথ্য নির্ধারিত রেফারেল সদস্যের অংশে দিতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির ইমেইলে আলাদা আবেদনপত্র পাঠানো হবে এবং তাঁকেও আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। দুজনের আবেদন জমা দেওয়া হলে উপলভ্য সময় অনুযায়ী সেশনের তারিখ ও সময় নির্বাচন করা যাবে। একা অংশ নিতে চাইলে নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের তথ্য পুনরায় দিতে বলা হয়েছে।   আবেদনকারীদের পূর্ণ নাম, যোগাযোগের নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়ার আগে অডিও ও ভিডিও ধারণের শর্ত, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।   আগ্রহীদের জন্য আবেদনপত্র পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আবেদন জমা দেওয়া মানেই গবেষণায় অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা নয়। অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে গবেষণার শর্ত ও উপলভ্য সময়ের ভিত্তিতে। তাই আবেদন করার আগে সব নির্দেশনা পড়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে নিবন্ধন ফর্মের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।   রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://whitney.telusdigital.com/registration-form?source=30

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১১:৩
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পুলিশের ব্যবহারের জন্য এক আসনের উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন করেছে ফ্লোরিডা পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় পুলিশের জন্য উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন, ব্যবহারের অনুমোদন বাকি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত ঘিরে গ্রাহকদের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

২৮ অক্টোবর ফেডের সুদ বাড়লে চাপে পড়তে পারেন ৩১ লাখ বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী

যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য শিশুদের নামে এককালীন এক হাজার ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

উচ্চ মর্টগেজ সুদে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ২০২৭ সালে সংকট আরও চরম আকারে বাড়াবে, স্যাকসের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য আগামী বছরও স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম দেখছে গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উচ্চ মর্টগেজ সুদ ও বাড়ির দামের চাপে ২০২৭ সালে আগে থেকে মালিকানায় থাকা বাড়ির বিক্রি আরও কমে ৩৯ লাখে নামতে পারে। এটি মহামারির আগের ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম।   ২০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মর্টগেজের সুদ আবার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, আগে কম সুদে মর্টগেজ নেওয়া অনেক বাড়ির মালিকও বর্তমান বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়িতে যেতে চাইছেন না। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের খরচ।  গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ রনি ওয়াকার ১৯ অক্টোবর গ্রাহকদের দেওয়া এক নোটে জানান, আগামী বছর বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সংকট বাজারের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি হতে পারে প্রায় ৪০ লাখ। আগামী বছরের পূর্বাভাস সেই সংখ্যারও নিচে।  এই স্থবিরতার বড় কারণ পুরোনো ও নতুন মর্টগেজের সুদহারের ব্যবধান। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, বর্তমানে মর্টগেজ থাকা ঋণগ্রহীতাদের ৯৫ শতাংশের বেশি বাজারের চলতি হারের চেয়ে কম সুদ দিচ্ছেন। প্রায় ৬৫ শতাংশের সুদ চলতি হারের চেয়ে অন্তত ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। তাঁদের অনেকের জন্য বাড়ি বদলানোর অর্থ কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদে নতুন মর্টগেজ নেওয়া। এতে মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা বিক্রির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।  মর্টগেজ বাজার নিয়েও দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির হিসাবে, এক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ির জন্য মোট মর্টগেজ ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে আগামী বছর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। এই হিসাবের মধ্যে বাড়ি কেনার ঋণ ও পুরোনো ঋণ রিফাইন্যান্স, দুটিই রয়েছে।  তবে মোট মর্টগেজ ঋণ কমার পূর্বাভাস মানেই বাড়ি কেনার ঋণও একই হারে কমবে, এমন নয়। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৭ সালে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য সামান্য বাড়তে পারে। বড় পতনের আশঙ্কা রিফাইন্যান্সে, যেখানে ঋণের অর্থমূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ কমতে পারে। তাদের মূল পূর্বাভাসে আগামী বছরও ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশের ওপরে থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৮:৪৩
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো মার্কিন নাগরিকদের নতুন অভিজ্ঞতা

. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল

অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে ভ্যান্স ও রুবিও

২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

রাশিয়ায় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক
ট্রাম্পের অনুরোধের পর রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক

রাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে মস্কো। বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুক্তির পর হাবার্ডকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে রাখা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।   পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যু দ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান উইটকফ। তাঁর এই সফরে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগের দিনই হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার কথা প্রকাশ্যে জানান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাবার্ডের বিষয়টি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তখনই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। পরদিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে মুক্তির ঘোষণা আসে।   মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে বসবাস করতেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে শহরটিতে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে আ ট ক করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। ইউক্রেনের একটি সামরিক চৌকিতে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।   ২০২৪ সালে রাশিয়ার একটি আদালত রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আ ক্র ম ণ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পরে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে হাবার্ডের মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাবার্ড জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো যু দ্ধ বা সামরিক ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।   রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবার্ড অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তাঁর পরিবার এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁর দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।   ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন হাবার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে। এর ফলে তাঁকে মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন ওয়াশিংটনের এই শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত একমাত্র ব্যক্তি।   হাবার্ডের মুক্তির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যু দ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় হাবার্ডের মুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৬:১৩
নির্বাচনী নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা

ডিভি লটারি চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ

ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ আদালতের, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরুর সময়সীমা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

0 Comments