সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ, আইফোন পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ০:৩৪
একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ
একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত নারী সহকর্মীদের নতুন আইফোন উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন কেরালায় জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী হসিনা নিশাদ। তিনি দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কর্মীদের না জানিয়ে আয়োজন করা এই উপহারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলার দৃশ্য দর্শকদের মন ছুঁয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হসিনা নিশাদ তাঁর নারী কর্মীদের জন্য এই চমকের আয়োজন করেন। তাঁদের একটি সম্মেলনকক্ষে ডেকে বসতে বলা হয়। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, তাঁদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। চেয়ার সরাতেই টেবিলের নিচে রাখা মোড়ানো উপহারের বাক্স চোখে পড়ে। বাক্স খুলে নতুন আইফোন দেখে কর্মীরা আনন্দে বিস্মিত হয়ে যান।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, একে একে কর্মীরা উপহারের বাক্স খুলছেন। কারও মুখে হাসি, কারও চোখেমুখে বিস্ময়। অফিসের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দঘন পরিবেশে পরিণত হয়। তবে ভিডিওর সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি আসে পরে।

 

প্রতিষ্ঠানের একজন নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হসিনা নিশাদের জন্য শরবত নিয়ে আসেন। তিনিও যে এই উপহারের আয়োজনের অংশ, তা আগে থেকে জানতেন না। তাঁকেও একটি নতুন আইফোন দেওয়া হলে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। হসিনাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে অন্য কর্মীদের সঙ্গে বসে উপহারটি খুলে দেখেন।

 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে হসিনা নিশাদ নারী সহকর্মীদের স্বপ্ন, দায়িত্ব ও প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর ইচ্ছা প্রত্যেক নারী আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাক। একজন নারীর সাফল্য অন্য নারীকেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে উপহারের বাইরে না রাখার বিষয়টি মানুষের নজর কেড়েছে। অনেকের কাছে এই ঘটনাটি শুধু দামি ফোন উপহার দেওয়ার গল্প নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মীর অবদানকে সম্মান জানানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

 

এটি অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যতিক্রমী উপহার আয়োজন নয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতেও কর্মীদের আইফোন উপহার দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সেই আয়োজনে হসিনার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক নিশাদ হুসাইনকে কর্মীদের উপহার দিতে দেখা যায়।

 

কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের উৎসাহিত করতে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি স্বীকৃতি ও সম্মানও গুরুত্বপূর্ণ। পদবি বা দায়িত্বের পার্থক্য না করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও একই আনন্দের অংশ করে নেওয়ার দৃশ্যটি সেই বার্তাই সামনে এনেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
কানাডার টরন্টোতে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত নারীর কাছে সরকারি খুঁটি ভাঙার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েও বিপদে নারী, উল্টো ২৯ হাজার ডলারের বিল পাঠাল সিটি কর্তৃপক্ষ

কানাডার টরন্টোতে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় ২৯ হাজার ডলারের বিল পেয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এক নারী। দুর্ঘটনায় তাঁর গাড়ি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। অথচ সেই দুর্ঘটনায় একটি সরকারি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায়ে তাঁর কাছে ২৮ হাজার ৮৪৮ ডলার ৩১ সেন্ট দাবি করে টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ন্যান্সি বাকম্যান।   শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টরন্টোর ফেয়ারভিউ মলের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন ন্যান্সি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া অন্য গাড়িটির আরোহীরা কাছের একটি জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির পর পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   দুর্ঘটনার সময় ন্যান্সি একজন নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত নমুনা জমা দিতে একটি ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছিলেন। একটি মোড়ে বাঁ দিকে গাড়ি ঘোরানোর সময় হঠাৎ অন্য একটি গাড়ি তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেয় বলে জানান তিনি।   ন্যান্সির ভাষ্য অনুযায়ী, মোড়ে অন্য গাড়িগুলো থেমে ছিল এবং তিনি বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। তখন সামনে কোনো গাড়ি দেখতে পাননি। হঠাৎ সংঘর্ষের শব্দ ও নিজের গাড়ির ব্রেকের আওয়াজ শুনতে পান। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।   জ্ঞান ফেরার পর ন্যান্সি দেখতে পান, এক নারী তাঁর গাড়ির জানালায় ধাক্কা দিয়ে সতর্ক করছেন। গাড়ির নিচের অংশে আগুন ধরে গিয়েছিল। ওই নারী তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে কাছের একটি পরিবারের ভ্যানে নিয়ে যান। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি।   দুর্ঘটনায় ন্যান্সির বুকে আঘাত লাগে এবং ঘাড় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ঘাড়ের আঘাতের কারণে এখনো ফিজিক্যাল থেরাপি নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর ২০২১ সালের সুবারু ফরেস্টার গাড়িটিও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।   কিন্তু ঘটনার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে, টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি অপ্রত্যাশিত বিল পান ন্যান্সি। প্রায় ১০ পৃষ্ঠার ওই নথিতে তাঁর কাছে ২৮ হাজার ৮৪৮ ডলার ৩১ সেন্ট দাবি করা হয়।   সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার সময় ন্যান্সির গাড়ির ধাক্কায় একটি সরকারি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষতির মেরামত খরচ হিসেবে তাঁকে বিল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪ নথিটি পর্যালোচনা করেছে বলে জানিয়েছে পিপল।   বিলে ন্যান্সিকে ২২ আগস্টের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা ড্রাইভার লাইসেন্স স্থগিত করার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।   বিল পাওয়ার পর ন্যান্সি জানান, তিনি পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এত বড় অঙ্কের অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি জানাতে তিনি সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   কর্তৃপক্ষ অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বাড়াতে রাজি হলেও বিলের দায় তাঁর ওপরই বহাল রাখে বলে জানান ন্যান্সি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং দুর্ঘটনার জন্য তাঁকে দায়ী করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।   সিপি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশি দুর্ঘটনা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিটি কর্তৃপক্ষ ন্যান্সিকে দায়ী করে। কারণ দুর্ঘটনার সময় তিনি বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। ট্রাফিক নিয়ম অনুযায়ী, এ অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িকে আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ছিল।   ন্যান্সি এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেন। এমনকি দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তবে ওই কর্মকর্তা দুর্ঘটনার বিষয়টি মনে করতে পারছেন না বলে তাঁকে জানান।   পরে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেন ন্যান্সি। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি করা পুরো অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হয়। ফলে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ওই বিল পরিশোধ করতে হয়নি।   তবু ডাকাতির পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁকে কেন দায়ী করা হলো, তা বুঝতে পারছেন না ন্যান্সি। পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।   এ বিষয়ে পিপলকে দেওয়া বিবৃতিতে টরন্টো সিটির মুখপাত্র কায়লা লুইস বলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় সিটির কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচ আদায়ের জন্য নিয়মিতভাবে গাড়ির মালিকদের কাছে বিল পাঠানো হয়।   তিনি জানান, এ ধরনের বিল সাধারণত গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ন্যান্সির ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণের দাবিটি তাঁর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নিষ্পত্তি করেছে।   অন্যদিকে টরন্টো পুলিশ পিপলকে নিশ্চিত করতে পারেনি যে দুর্ঘটনায় জড়িত অন্য গাড়িটির আরোহীরা সত্যিই কোনো অপরাধ সংঘটনের পর পালিয়ে যাচ্ছিলেন কি না।   টরন্টো পুলিশের গণমাধ্যম সম্পর্ক কর্মকর্তা শ্যানন ইমস বলেন, দুর্ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ক্ষতি, চালক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভিডিও বা ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয়।   তিনি আরও জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রাদেশিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। সেখানে দুর্ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়ী চালককে চিহ্নিত করা হয়। দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী করেছিলেন, তা গাড়ির সংঘর্ষের কারণ নির্ধারণে সব সময় প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।   দুর্ঘটনার প্রভাব ন্যান্সির কর্মজীবনেও পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ৪০ বছর কাজ করার পর পরিকল্পনার আগেই অবসর নিতে হয়েছে তাঁকে। ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।   ন্যান্সি জানান, অফিসে কাজের পরিবেশ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ঘাড়ের সমস্যা কমেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ মার্চ তিনি অবসর নেন। দুর্ঘটনার পর আবার গাড়ি চালানোর সাহস ফিরে পাওয়াও তাঁর জন্য কঠিন ছিল।   তবে এখন পুরো অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান ন্যান্সি। তাঁর মতে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ অতীতের ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকলে তা জীবনের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: পিপল

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:৫৪
ইরানে গোপন হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, বাধা হয়ে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র

আহত ছেলের আঘাত গুরুতর নয় বলায় নাগপুরের মেয়ো হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

‘ছেলের আঘাত গুরুতর নয়’ বলতেই ভারতে চিকিৎসকের ওপর পুলিশ সদস্যের হামলা

তামিলনাড়ুর সরকারি গ্রন্থাগারে এআই লিখিত ও ভুয়া নামে বই কেনার অভিযোগে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে এআই দিয়ে লেখা ভুয়া বইয়ে সয়লাব গ্রন্থাগার, লেখকের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন

বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি সংসদ সদস্যের
বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি সংসদ সদস্যের

বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চল ভারতকে ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের স্বার্থ উপেক্ষা করে এসব অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হতে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের উত্তরসূরি ও তিপরা মোথা দলের প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা আসনের বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে বলেন, শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নয়, নেহরু যেসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেগুলোও পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট একসময় ত্রিপুরার রাজাদের অধীন ছিল। কিন্তু ১৯৪৬-৪৭ সালে দেশভাগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ত্রিপুরার তৎকালীন শাসক মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়।   নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন পাওয়ার জন্য জওহরলাল নেহরু তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের স্বার্থকে গুরুত্ব দেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ এবং সিলেটের গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এসব অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ত্রিপুরার শাসকের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   বিজেপি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিপরা মোথার প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা তাঁর দাদির অগোচরে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এটিকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করা সরু শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর ওপর এতটা নির্ভর করতে হতো না। এই ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি তাঁর।   তবে ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সিলেট তৎকালীন আসাম প্রদেশের অংশ ছিল। ওই বছরের জুলাইয়ে গণভোটের মাধ্যমে সিলেটের অধিকাংশ এলাকা পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম ছিল অবিভক্ত বাংলার অংশ এবং দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ত্রিপুরা রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর। ফলে নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যে উত্থাপিত দাবি রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ প্রণোদিত।   সংবাদসূত্র: ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই, দ্য হিন্দু,।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৪৯
একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ

একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ, আইফোন পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না কর্মী

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল। ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ভালোবাসার জয়, গাজায় একসঙ্গে বিয়ে করলেন ২৫০ যুগল

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে তাসনিম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের

মেয়ের বিয়েতে কোটি টাকা খরচ না করে ৯০ গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার দিলেন বাবা
মেয়ের বিয়েতে কোটি টাকা খরচ না করে ৯০ গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার দিলেন বাবা

২০১৬ সালে মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ অঞ্চলের এক ব্যবসায়ী এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা আজও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়। নিজের মেয়ে শ্রেয়ার বিয়েতে রাজকীয় ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ না করে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী অজয় মুনোত। বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের সেই অর্থ দিয়ে তিনি গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণ করেন ৯০টি আস্ত বাড়ি!   মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই মহৎ উদ্যোগ নেন তিনি। আওরঙ্গবাদে নির্মিত এই বাড়িগুলোর প্রতিটি প্রায় ১২ বাই ২০ ফুট আয়তনের। একটি পরিবারের মাথা গোঁজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল সেখানে। প্রতিটি বাড়িতেই ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ, পর্যাপ্ত দরজা-জানালা এবং নিরাপদ পানীয় জলের সুব্যবস্থা।   বাবার এমন মানবিক সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন মেয়ে শ্রেয়াও। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজেই এই বাড়িগুলোর চাবি তুলে দেন নতুন ঠিকানার অপেক্ষায় থাকা গৃহহীন পরিবারগুলোর হাতে। বাবার এই মহৎ উদ্যোগকে নিজের জীবনের ‘সর্বোত্তম বিবাহ উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন গর্বিত কন্যা। সমাজের বিত্তবানদের জন্য অজয় মুনোতের এই উদ্যোগ আজও এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৫
ভুল করে কানাডা সীমান্তে গিয়ে পুলিশের জালে মার্কিন নাগরিক, গাড়িতে ছিল অ স্ত্র ও গাঁজা

ভুল করে কানাডা সীমান্তে গিয়ে পুলিশের জালে মার্কিন নাগরিক, গাড়িতে ছিল অ স্ত্র ও গাঁজা

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ঝাড়খণ্ডের লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে চান বিজেপি সাংসদ, দাবি করলেন নোয়াখালী-সিলেটও

স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে নাইজেরিয়ায়, অনাগত সন্তানসহ প্রাণ গেল ৪০ বছর বয়সী নারীর

স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে নাইজেরিয়ায়, অনাগত সন্তানসহ প্রাণ গেল ৪০ বছর বয়সী নারীর

0 Comments