ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানকে অস্থিতিশীল ও জাতীয় পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলতে ১০টি বিদেশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র তারা নস্যাৎ করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘটিত দাঙ্গাগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ দিনের যুদ্ধের পরপরই শত্রুপক্ষের কমান্ড রুম গঠিত হয়, যেখানে ১০টি শত্রু গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নেয়। আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার দাবি, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল অভ্যন্তরীণ দাঙ্গাকে উসকে দেয়া এবং এর সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপ যুক্ত করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা।
আইআরজিসি জানায়, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা এবং জনগণের সহযোগিতার ফলে এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের অংশ হিসেবে অ্যান্টি-সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১১ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছে, ৭৪৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদেশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সরাসরি শত্রুপক্ষের কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছেন। এর মধ্যে সহিংসতা ছড়ানো, জনসমাবেশে সন্ত্রাসীদের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেয়া এবং সংগঠিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের মাঠে নামিয়ে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা দাঙ্গাকারীদের যোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ, সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, এবং দাঙ্গা সৃষ্টিকারী নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করে কঠোরভাবে মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, বিদেশি প্ররোচনায় ইরানে দাঙ্গা শুরু হয় ৮ জানুয়ারি এবং কয়েক দিন ধরে তা চলতে থাকে। এর আগে ইরানের বাজার ও বিপণিবিতানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। মূলত ব্যবসায়ীদের ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ দাবির মাধ্যমে এর সূচনা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই সহিংসতাকে উৎসাহ দেন। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, দোকানপাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি এতে জড়িত ছিল এবং তারা দাঙ্গাকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তথ্যগত সহায়তা দিয়েছে। ইরানের ফাউন্ডেশন অব মার্টায়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স জানায়, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
পাকিস্তানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সাক্ষী হলো বেলুচিস্তান প্রদেশ। টানা তিন দিনের রুদ্ধশ্বাস সামরিক অভিযান এবং বিএলএ (BLA) বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও সাধারণ মানুষের রক্তে ভিজেছে রাজপথ। কেন এই পরিস্থিতি? জানুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: ভয়াবহ প্রাণহানি: অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২২ জন পাকিস্তানি সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। বেসামরিক মানুষের মৃত্যু: দুর্ভাগ্যবশত নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন নিরীহ নাগরিক এই সংঘাতের বলি হয়েছেন। সমন্বিত হামলা: গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বেলুচিস্তানের কোয়েটা, গোয়াদর ও পাসনিসহ ১২টি শহরে একযোগে হামলা শুরু করে বিদ্রোহীরা। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু: সাধারণ শ্রমিক ও উন্নয়ন কাজে জড়িতদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। বিদেশি মদদ: পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই নাশকতার মূল পরিকল্পনা করা হয়েছে দেশটির সীমান্তের বাইরে থেকে। বর্তমানে পুরো প্রদেশজুড়ে সেনাবাহিনী 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেলুচিস্তানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সুর! দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই বিদায় কি সাধারণ কোনো প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? খবরের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে: বিস্ফোরক অভিযোগ: কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইলে' নাম আসার পর থেকেই চাপে ছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৯ সালের দিকে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের মুখে: বিষয়টি বর্তমানে ক্যাবিনেট অফিস থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো কতটা সত্য। স্পিকারের ঘোষণা: লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবসরের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং হাউজের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই ম্যান্ডেলসন এই নোটিশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকার পর ম্যান্ডেলসনের এই চূড়ান্ত বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক ফলপ্রসূ টেলিফোনিক আলোচনার পর উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে ভারত সরকারও মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই আলোচনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি ছিল রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেল নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। এর পরিবর্তে ভারত এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করবে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর এর আগে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তা তুলে নেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির আওতায় ভারত আগামী বছরগুলোতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমদানির এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চুক্তি নিয়ে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং বৃহৎ দুই অর্থনীতি যখন একযোগে কাজ করে, তখন তা উভয় দেশের জনগণের জন্য অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ বয়ে আনে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার পর দুই দেশের বাণিজ্য তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। নতুন এই চুক্তি সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করে দুই দেশের মৈত্রীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।