ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যে লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।
সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায়।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
শুক্রবার এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসরাইলকে যেন লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়।
কাতার আরও জানায়, লেবাননের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন অটুট থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব উদ্যোগকে তারা সমর্থন জানায়।
এদিকে গত সোমবার থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি এসব হামলার ফলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি জনগণের শক্তির জয় এবং সুশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মোদি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বিজেপিকে যে জনদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল কাজ করবে। এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন, সুযোগ এবং আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করবে।” নির্বাচনের সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফলাফল উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে টোল বা মাশুল ব্যবস্থা চালুর পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব পেয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই এই ঘোষণা দেন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইতিমধ্যে এই খাতের প্রথম আয় জমা হয়েছে বলে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিশ্চিত করেছে। গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এই প্রণালী দিয়ে পার হওয়া জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সংঘাতের কারণে সেখানে নৌ চলাচল অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। তেহরান আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করবে। বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই জলপথের ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিশদ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং সাম্প্রতিক জাহাজ আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই প্রণালী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও পুরো হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করে নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: তাসনিম ও মেহর নিউজ
ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনা টাইটানিক জাহাজডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি হয়েছে ৯ লাখ ডলারেরও বেশি দামে। বিরল ও ঐতিহাসিক এই স্মারকটি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার দামে বিক্রি হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, লাইফ জ্যাকেটটি ব্যবহার করেছিলেন লরা মেবেল ফ্রানকাটেলি, যিনি ১৯১২ সালে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় লাইফবোটে করে প্রাণে বেঁচে যান। জ্যাকেটটির বিশেষত্ব হলো, এতে ওই সময় বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রীর স্বাক্ষরও রয়েছে, যা এটিকে আরও মূল্যবান করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইটানিক সম্পর্কিত যেকোনো স্মারক সামগ্রী বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে এই লাইফ জ্যাকেটটির মূল্য এত বেশি হবে, তা অনেকেই ধারণা করতে পারেননি। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি হিমশৈলে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। সে সময় জাহাজটিতে থাকা প্রায় ২,২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ইতিহাসে এটি অন্যতম মর্মান্তিক নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। নিলামকারীরা বলছেন, টাইটানিকের স্মৃতি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই জাহাজের ইতিহাস, ট্র্যাজেডি এবং স্মারক সামগ্রীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো অটুট। এই বিক্রি আবারও প্রমাণ করলো, টাইটানিক শুধু একটি জাহাজের নাম নয়—এটি ইতিহাস, বেদনা এবং মানুষের আবেগের এক অমলিন প্রতীক।