ইরান বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত নাগরিক, বাসিন্দা ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবরটি দিয়েছে রয়টার্স।
সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান রিফাইনারিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কেন্দ্রগুলো এখন সরাসরি ও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সকলকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
ইরানের এই সতর্কতা আসে দেশটির দক্ষিণ পার্স এবং আসালুয়েহ অঞ্চলের তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হতে পারে, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হুঁশিয়ারি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সংকেত বহন করছে। ফলে তেল ও গ্যাস শিল্পের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরাকের আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ মার্কিন সেনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডোভারে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তিনি ডেলাওয়ারের ডোভোর বিমান ঘাঁটিতে রওনা হন। এই শোকাবহ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত সপ্তাহে পশ্চিম ইরাকে একটি নিয়মিত অভিযান চলাকালীন মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা নিজেদের ভুলবশত গুলিতে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। নিহতদের মধ্যে তিনজনই ওহিও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকছেন ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ও তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত আরও ৬ সেনার মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনাদের এই ‘ডিগনিফাইড ট্রান্সফার’ বা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ানে আছড়ে পড়ল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সকালে ঘটা এই বিস্ফোরণে বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত বিমান (প্রাইভেট জেট) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (IAA) খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার সময় সেগুলোর জ্বলন্ত অংশ বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার ও রানওয়ে এলাকায় এসে পড়ে। কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র লিজা দ্ভির জানান, এই পতনের ফলে একটি বিমানে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং অন্য দুটি বিমান আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। টাইমস অফ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পর থেকে বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে, তবুও খোদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলে বিমান চলাচল বর্তমানে অনেকটাই সীমিত রাখা হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার আগে যদি জার্মানিকে পরামর্শের জন্য বলা হতো, তবে দেশটি এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিত। তিনি বার্লিনে নিন্ম সংসদ বুন্ডেস্টাগে বলেন, এই অভিযান সম্পর্কে এখনও “অনেক প্রশ্ন” রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজও কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই যে এই অভিযান কীভাবে সফল হবে।” মের্জ অভিযোগ করেন, “ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তাকে প্রয়োজন মনে করেনি।” চ্যান্সেলর আরও বলেন, “মহোদয়গণ, যদি আমাদের পরামর্শ নেওয়া হতো, আমরা এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিতাম।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন এমন সময়ে, যখন মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে চলমান আলোচনার সময় ঘটে। মের্জ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জার্মান যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশগুলোকে এই প্রণালী রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে ইরানের হামলার কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।